গল্প :-
--------""অহংকারী মেয়ে""" ♥
.
লেখক:- #Nayem_Ahmed
.

★-------পর্ব :- ০৩ ~~~
.
.
তখন কি আমাকে মারবি?(এনি)
-আমি কি এসব বলছি?(শান্ত)
-তোর কথায় বুঝা যায় তুই আমাকে ভয় দেখাচ্ছিস
-তোমার মাইন্ড ঠিক করো বলে শান্ত রুমে চলে যায়।
সন্ধ্যার দিকে এনির বন্ধু বান্ধবী ১০-১২জন তাদের বাসায় আসে।
কখনো এতগুলো বন্ধু একসাথে আসে নাই, আজকে আন্টি আর আংকেল নাই তাই হয়তো তাদের নিয়ে আসছে।
বন্ধুরা আসার পরে এনি শান্তকে ডাক দেয়।
-কেমন আছো সবাই(শান্ত সবাইকে উদ্দেশ্য করে)
-ভালো তুমি কেমন আছো?(সবার আগে জুই)
-হ্যা ভালো
-তোকে ডাক দিছি ওদের সাথে কথা বলতে না
-ওহহ স্যরি , কিসের জন্য ডাকছো?
-ঐ রুমটা পরিষ্কার কর
-অন্য সব রুম ই তো খালি আছে,ঐ রুম কেনো?
-বারবিকিউ পার্টি হবে, সেখানে হালকা নাচানাচি হবে, তাই পরিষ্কার করতে হবে
-ওহহ
-হ্যা, যা কাজে লাগ
শান্ত তখন সবার দিকে চেয়ে একটা মুচকি হেসে রুমে ডুকে কাজে লেগে যায়।
শান্ত কাজ করার সময় লজ্জা পায় না কিন্তু আজকে কেমন জানি আনইজি লাগছে।তখন জুই রুমে ডুকে
-কিছু লাগবে?(শান্ত)
-এনি কি তোমাকে সারাক্ষণ এভাবে জ্বালা দেয়?
-না তো
-হয়ছে আমার কাছে লোকাতে হবে না,ঝাড়ু টা আমার কাছে দাও
-আরে এসব কি বলছো?
-হ্যা দাও
-না না তুমি ওখানে গিয়ে বসো আর ৫-৬ মিনিট লাগবে সবকিছু গুছিয়ে ঠিক করে নিবো
-ঝাড়ু টা দিতে বলছি
-তুমি কি আমাকে বকা আর থাপ্পর খাওয়াতে চাও?
-মানে?
-হুমম
-ও কি তোমাকে মারে ও?
-ওসব কিছু না
-তুমি কি প্রতিবাদ করতে পারো না?
-গরীব তো তাই কেউ শুনবে না
-কে বলছে শুনবে না
-এই যে তুমি এসব বলছো না? এটা যদি এনি জানে তাহলে তোমার ও খবর করে ছেড়ে দিবে
-তোমাকে গ্রাম বাংলার একটা প্রবাদ বলি সেটা হলো, "মেয়েরা রাগলে হয় বেশ্যা আর ছেলেরা রাগলে হয় বাদশা"
এই কথাটা তুমি চারদিকে মিলিয়ে নিও
তুমি নিজের মন মানুষিকতা কাজে লাগাও
-এটা বাংলাদেশ, বলা সহজ, করে দেখিয়ে দেওয়া অনেক কঠিন
-হুম জানি, তাও ট্রাই করো
-করতাছি তো, অনার্স টা শেষ হউক তারপর কিছু একটা হবে
-হুমম বেস্ট অফ লাক।বলে চলে যাবে এমন সময় এনি রুমে ডুকে....
-ভালোই আড্ডা দিচ্ছিস(এনি)
-দেখতে আসলাম কি কাজ করছে(জুই)
-ওহহ তুই হেল্প করছিস নাকি?
-চাইছিলাম কিন্তু দেয় নাই
-যা বাহিরে যাহ
জুই বাহিরে যাওয়ার পরে এনি শান্তর দিকে অগ্নি চোখে চেয়ে বাহিরে চলে যায়।
রুম পরিষ্কার শেষে ৪টা সাউন্ড বক্স রুমে নিয়ে যায়।
সবকিছু ঠিকঠাক করে ওরা ওদের কাজ শুরু করে।
বাসায় কোনো রান্না না হওয়ায় শান্ত ফ্রিজ খুলে দেখে কতোগুলো বিয়ার আর মদের বোতল। এসব দেখে শান্তর চোখ কপালে উঠে যায়।
শান্ত ফ্রিজটা তারাতারি আটকিয়ে ছাদে চলে যায়।
ছাদে গিয়ে মোবাইলে লো বলিউমে গান লাগিয়ে আনমনে আকাশের দিকে চেয়ে আছে,এমন সময় জুই পিছন দিয়ে এসে
-যেভাবে চেয়ে আছ যেনো তারা গুনছো
-আজ আকাশটা অনেক সুন্দর লাগতাছে
-সুন্দর তো লাগবেই কারন সুন্দর মনের মানুষ আকাশের দিকে চেয়ে আছে(জুই)
-মানে?
-হুমম তোমার মন মানুষিকতা আসলেই অনেক ভালো
-তুমি যে এখানে আসছো এটা কি এনি জানে?
-না, ওরা নাচানাচি করছে
-ওহহ
-হ্যা
-তোমার নাম্বার টা কি দেওয়া যাবে?
-ছোটলোকের নাম্বার নিয়ে কি করবা?
-কথায় কথায় এটা বলো কেনো?
-কি করবো, আমি তো ছোট লোকই
-তোমার হাত পা সবই তো ঠিক আছে, সো হাত পা থাকতে কেউ ছোট লোক হতে পারে না।
-আচ্ছা এসব বাদ দাও
-কিছু খায়ছো?
-নাহ আজ রান্না হয় নাই
-নাও এটা খেয়ে নাও(জুই হাত বাড়িয়ে)
-আমার জন্য এসব করতে গেলা কেনো?
-কি করছি?
-এই যে এটা সবার চোখ ফাকি দিয়ে আনছো
-এটা আমার ভাগের খাবার, খেয়ে নাও
-তুমি ও খাও
তখন দুজন ভাগ করে খেয়ে নেয়।
খাওয়া শেষে...
-একটা কথা বলি?(শান্ত)
-লেডিসদের মতো কথা বলো কেনো? কি বলবা বলে ফেলো(জুই)
-পার্সোনাল তো তাই
-ওকে বলো
-তুমি কি ড্রিংকস করো?
-তাল মিলিয়ে চলতে হয়
-এসব না খাওয়া ই ব্যাটার
-জানি
-তাহলে খাও কেনো
-ওকে আর খাবো না বলে দুজনে ছাদের দোলনায় বসে গল্প করতে থাকে।
একসময় জুই শান্তকে প্রশ্ন করে....
-কাউকে পছন্দ করো? (জুই)
-এনির মা-বাবাকে(শান্ত)
জুই এই কথা শুনে ফিক করে হেসে দেয়।
-হাসো কেনো?
-তোমার কথা শুনে
-কি এমন বলছি যে হাসতে হবে?
-আমি বলছি কাউকে ঐভাবে পছন্দ করো কি না?
-না, গরীবের আবার পছন্দ
-আবার(রাগি মুখে)
-স্যরি
-আর বলবানা এসব বলে দিলাম
-ওকে
-তোমার ফেবারিট কোন কালার?
-নীল
-শুধু নীল?
-হুমম নীল রংটা আমাকে অনেক আকর্ষণ করে
-ওহহ
-হ্যা, তোমরা কি এসব জিন্স ছাড়া শাড়ি পরতে পারো না?
-পারি না
-তোমার মা তো মনে হয় পারে
-হুমম পারে
-তাহলে শাড়ি পইরো
-ওকে
-তোমাকে শাড়িতে অনেক মানাবে
-তাই নাকি?
-হুমম
-তোমার কি শাড়ি ভাল্লাগে?
-হুমম
-ওকে কালকে কলেজে শাড়ি যাবো
-ওকে
- এই তোনার ইচ্ছা হয় না কারো হাত ধরে হাটতে?
-এসবের ইচ্ছা হলে কল্পনায় ডুব দেয় তখন সব ইচ্ছা মিটে যায়।
-হি হি হি
-কি?
-কল্পনায় কার হাত ধরো?ইমমমমমম
-ফেইস টা নিয়ে ভাবিনায়
-হুমম ইচ্ছা হলে ভাবতে পারো
-মানে?
-বলতাছি ইচ্ছা হলে এই হাত ধরে হাটতে পারো(জুই হাতটা বাড়িয়ে)
ভালোই তো রোমান্স হচ্ছে(পিছন থেকে এনি)
-ত ত ত তুই.......?(জুই)
-ডিস্টার্ব করলাম নাকি?
-কে বলল?(জুই)
-তাহলে এত অবাক হচ্ছিস যে
-কিসের জন্য আসছিস বল
-তুই আমার বান্ধবী সেটা আমার ভাবতেও কেমন জানি লাগছে
-কেনো?
-তুই এমন সস্তা মনের জানা ছিলো না
-আরে আমি কি করলাম?
-তুই আমার বাড়ির কাজের ছেলের সাথে প্রেম করতে চাচ্ছিস সেটা দেখে বমি বমি ভাব হচ্ছে
-কেনো রে? ও কিভাবে কাজের লোক?
-হি হি হি ও কাজের লোক না?
ঐ ছ্যাচরা যা তো নিচ থেকে কিছু খাবার নিয়ে আয়।
শান্ত তখন দাড়িয়ে থাকে।
-ঐ তোরে কি বলছি?
তারাতারি যা বলছি না হলে খারাপ হবে
-যাচ্ছি
শান্ত তখন নিচে যায়।
-জুই তুই এসব করবি আমি ভাবতেই পারছিনা
-ও কি দেখতে সুন্দর না?
-হ্যা সুন্দর বাট তার চেয়েও সুন্দর ছেলে আছে
-তার চেয়ে সুন্দর কয়টা ছেলে আছে? আমাদের ফ্রেন্ডসিপের মধ্যে ও তারমতো একটা ছেলে নেয়
-ছি তোর নজর এমন নিচ জানতাম না বলে এনি নিচে নেমে যায়।
তারকতক্ষন পরে জুই ও নিচে নেমে যায়।
জুই নিচে গিয়ে দেখে এনি সোফায় বসে আছে আর বাকি সবাই নাচানাচি করছে।
এমন সময় শান্ত নিচ থেকে এনির কথা মতো সবকিছু নিয়ে তাদের রুমে প্রবেশ করে।
রুমে প্রবেশ করার সাথে সাথে..
কয়েকটা থাপ্পর দিয়ে
-তুই এই রুমে আসার সাহস পেলি কিভাবে?(এনি)
-স্যরি
-এই ছোটলোকের বাচ্চা এখানে যাদের দেখতে পাচ্ছিস তাদের জুতোটার মতো ও হতে পারোস নাই
-হুমম জানি বলে শান্ত চোখ দিয়ে দু ফোটা পানি ফেলে তার রুমে চলে যায়।
-জুই এটা দেখেও কোনো প্রতিবাদ করতে পারে নাই,জুই জানে এনি বদমেজাজি। কোন সময় কি করে বলা যায় না।
পার্টি শেষ হওয়ার পরে রুম থেকে শান্তকে ডেকে এনে সবকিছু গুছাতে বলে,শান্ত ও তখন সবকিছু ঠিকঠাক করে শান্ত নিজের রুমে গিয়ে ঘুমিয়ে থাকে।
২দিন পরে ভার্সিটিতে যাওয়ার পরে জুই শান্তকে দেখে শান্তর কাছে আসে।
-কেমন আছো?(জুই)
-আলহামদুলিল্লাহ, তুমি?
-আমিও ভালো,এনি আর কিছু বলছে?
-ও প্রতিদিন ই আমার সাথে এমন করে
-আর তুমি সব সহ্য করে নাও
-এছাড়া আর কি করা যাবে?
আমার মতো লোক তো আর কারোর অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে পারবে না
-আমি স্যরি
-কেনো?
-আমার জন্যই তো ঐদিনের ঘটনা টা হলো
-আরে এটা কি বলছো? আল্লাহ কপালে রাখছে তাই হয়ছে
-নাহহহ
-একটা প্রবাদ আছে"যদি থাকে নসিবে আপনাআপনি আসিবে "
-এই প্রবাদটা কি পুরোপুরি সত্যি?
-হ্যা(শান্ত)
-নাহ একদম পুরো সত্যি না
-কিভাবে?
-মনে করো একটা চোর কোনো বাসায় চুরি করতে গেলো।বাসা থেকে সবকিছু বের করে যদি চোর টা বাড়ির কাছে বসে থাকে,সকালে কিন্তু চোরকে ধরে ফেলবে এবং মারবে। চোর যদি তখন বলে এটা আমার ভাগ্যে ছিলো তখন কি সেটা ঠিক হবে? আল্লাহতালা বলছে তুমি চেষ্টা করো,তুমি যদি একটা জিনিসের জন্য মন দিয়ে চেষ্টা করো তাহলে ইনশাল্লাহ কাজটা সাক্সেস হবেই। হ্যা আমি আবার পুরোপুরি কাজের কথা ও বলবো না।সব কিছুর ক্ষেত্রে কর্ম আর ভাগ্য দুইটা দুইটার উপর নির্ভরশীল।
আল্লাহ বলছে তুমি চেষ্টা করো আমি দেওয়ার জন্য প্রস্তুত।
-হ্যা তোমার কথায় যুক্তি আছে
-তুমি চেষ্টা করো, ইনশাল্লাহ পারবেই
-ওকে, এখন ক্লাসে যাবা না?
-হুমম যাবো, তুমি আলাদা যাও না হলে এনি আবার উল্টাপাল্টা ভাববে
-ওকে
শান্ত ক্লাস শেষ করে বাসায় ফিরে।
-ক্লাস কেমন চলছে?(এনির বাবা)
-জি আংকেল ভালো
-রেজাল্ট টা ভালো কইরো বাবা
-আংকেল দোয়া করবেন
-বাবা তোদের জন্য দোয়া না করলে কার জন্য করবো রে?
সামনে ফাইনাল ইয়ারের পরীক্ষা, পূর্বের মতো আবারো সবাইকে পিছনে ফেলে তুই এগিয়ে যাবি
-জি আংকেল
-ফ্রেশ হয়ে খেতে আয়।
শান্ত সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজ পরে ছাদে বসে আছে এমন সময় জুই ফোন দেয়।
-কি করো?(জুই)
-এইতো ছাদে বসো আছি,তুমি?
-রুমে বসে আছি
-ওহহ
-হ্যা,এনি কোথায়?
-বাসায় ই
-ওহহ
-হ্যা
-কালকে ফ্রি আছো?(জুই)
-হ্যা, কেনো?
-আমার সাথে একজায়গায় যেতে পারবে?
-কোথায়?
-নদীর পাড়ে হাটবো
-কোন সময়?
-বিকালে
-ওকে
পরেরদিন বিকালে জুই এর সাথে ঘুরতে বের হয়।
নদীর পারে দুজন একসাথে হাটছে আর কথা বলছে এমন সময় জুই হঠাৎ শান্তকে প্রশ্ন করে
-আমাকে তোমার কেমন লাগে?
-ভালো-ই লাগে
-ই হিসাবে কেমন লাগে
-কি হিসাবে?
-বুঝনায়?
-বুঝলে কি আবার প্রশ্ন করতাম?
-আমাকে বউ হিসাবে কেমন লাগবে?
-লাল শাড়িতে হেব্বি মানাবে
-ওহহহ শিট
-কি?
-ভালোবাসি
-কাকে.....?.
.
.
♥-----"To be Continue"----♥
.

Read More

গল্প :-
----------""অহংকারী মেয়ে"" ♥
.
লেখক:- #Nayem_Ahmed
.
★-------- পর্ব :--- 2 ~~~
.
.
শান্তর আশে পাশের চেয়ারে এনি আর এনির কিছু বন্ধু বসে আছে।হঠাৎ একটি মেয়ে এসে শান্তর সাথে বসে।
-হাই(মেয়েটি)
-হাই
-কেমন আছো?
-ভালো
-চলো
-কোথায়
-নিরিবিলি জায়গায়।
-কেনো?
-কথা বলবো
-না আমি যাবো না
-ভয় পাও নাকি?
-আমার ভালো লাগে না তাই যাবোনা,এখানে ভয়ের কি হলো?
তখন মেয়েটি শান্তর কাধে হাত রাখে
-ছাড়ুন বলছি
-না ছাড়লে কি করবা?
শান্ত তখন পিছনের দিকে চেয়ে দেখে এনির বন্ধুরা এসব দেখে হাসাহাসি করছে, শান্তর তখন বুঝার বাকি থাকলো না যে মেয়েটা কিসের জন্য তার সাথে এমন করছে।
-আমাকে এসব করে কি মজা পাও? একটু হাসাহাসি করো তাই না? আমার জায়গায় যদি তুমি থাকতে তাহলে কি করতা? আমি গরিব বলে এসব করো তাই তো?
-আসলে.....
-হয়ছে আর বলতে হবে না, এনি আমাকে সহ্য করতে পারে না।কিন্তু আমাকে সাথে করে নিয়ে আবার এখানেও আসছে।আমি আগেই জানতাম এনি আমাকে নিশ্চয় অপমান করার জন্য নিয়ে আসছে।
বলো তোমার সাথে কোথায় যেতে? আড়ালে নিয়া কিছু মার খাওয়াবা তাই তো? আড়ালে দরকার নেই আমার মতো ছ্যাচরা, ছোটলোক কে সবার সামনেই থাপ্পর মারা যায়। যেমন টা প্রায় সব ধনি লোকরা ই করে। আমাকে এখানেই থাপ্পর মারো, কিচ্ছু বলবো না বলে শান্ত চোখের পানি ছেরে দেয়।
মেয়েটি এসব শুনে তার হাসি মুখটা যেনো নিমিষেই খারাপ হয়ে যায়।
-স্যরি
-ছোট লোককে স্যরি বলা দরকার হয় না বলে শান্ত চেয়ার ছেরে উঠে গাড়িতে গিয়ে বসে থাকে।
রাত ৩বাজে তখন এনির মা শান্তর মোবাইলে ফোন করে।
-হ্যা আন্টি বলেন
-বাবা অনুষ্টান কি এখনো শেষ হয় নাই?
-প্রায় শেষ
-ওকে, তারাতারি এসে পর
-ওকে
শান্ত ফোন রেখে বাহিরে গিয়ে দেখে এনি সহ তার বন্ধু বান্ধবীরা নাচানাচি করছে।
শান্ত তখন নিজে নিজেই একটা হাসি দেয় আর বলে এটা-ই বুঝি বড়লোকদের নাচ।
শান্ত এনিকে ডাক দিয়ে মোবাইল দেখিয়ে ইশারা করে তখন এনি মোবাইল বের করে। দেখে তার মা তাকে অনেকগুলো কল দিয়ে রাখছে।এনি তখন সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে এসে পরে।
গাড়িতে উঠার পরে.....
-এই তারাতারি চালা(এনি)
-মদ পান করছো?
-বিয়ার খাইছি
-ওহহহ
-হ্যা
শান্ত বুঝতে পারে এটা হয়তো তাদের নিত্যদিনের অভ্যাস। না হলে একটু হলেও মাতাল হতো কিন্তু তাকে দেখে মনে হয় না সে মাতাল।
কয়েকদিন পরে শান্ত ভার্সিটিতে যায়।
ভার্সিটিতে যাওয়ার পরে
নিধির সাথে দেখা হয়।
নিধির সাথে একই টেবিলে ক্লাস করে বাসায় ফিরে।
শান্ত প্রায় সময় ই বিকালে সময় টা কাটায় ছাদে।
শান্ত ছাদে বসে বসে আর ভাবে আজ যদি আমার মা-বাবা থাকতো কতো ভালো হতো।
ক্লাস করে ডিরেক্ট মায়ের বুকে ফিরতে পারতাম।মা তুমি কেনো আমাকে ছেড়ে চলে গেলা? আমার কিছু ভালো লাগে না রে মা।মা তুমি যাওয়ার সাথে আমাকে কেনো নিয়ে গেলা না?
আমার সামনে যখন বন্ধুদের মেবাইলে মা নামে সেইভ করা নাম্বারে ফোন আসে তখন অনেক খারাপ লাগে রে মা।
সবার মোবাইলে মায়ের কল আসলেও আমার মোবাইলে আসে না।হ্যা আল্লাহ্ আমার মা-বাবাকে নিয়ে আমাকে কেনো একা রেখে তাদের নিয়ে গেছো?
এসব বলতে বলতে শান্ত একটু শব্দ করে কান্না করে দেয়।
কতক্ষণ পরে এনি আসে।
-ভালোই প্রেম করছিস(এনি)
-কে?
-তুই
-কার সাথে
-ওমাহহহহহ এত ভাব নিচ্ছিস কেনো?
-কে ভাব নিচ্ছে
-নিধির সাথে যেভাবে কথা বলিস, মনে হয় অনেক আপন কেউ
- আমার ভালো লাগছেনা প্লিইজজ আমাকে এখন কোনো পেইন দিও না
-কিহহহ আমি তোরে পেইন দেই?
-মাফ চাই এখন যাও
-এটা আমার বাসা, আমার যেখানে মন চায় আমি সেখানেই থাকবো, আমাকে তুই নামার কথা বলার সাহস পেলি কোথায়?
-স্যরি বলে নিচে নেমে যায়।
রাতের খাবার খাওয়ার সময়............
-তুই এখানে বসলি কেনো?(এনি)
-তো কোথায় বসবো?
-কুকুর যেমন মাটি থেকে কুড়িয়ে কুড়িয়ে খায় তুই ও তেমনি খাবি কারন তুই তো আমাদের বাসার কুকুর
-ওহহ আচ্ছা তুমি খাও আমি গেলাম
-যাহহহ
আজকে এনির বাবা ও এনির মা দুজনে বেড়াতে গেছে।এনির মা-বাবা সামনে থাকলে হয়তো এসব বলতে পারতো না।
শান্ত খেতে বসেও না খেয়ে চলো আসছে এনির কথার জন্য।
রাত শেষ হয়ে সকাল হয়।
এনি সকাল সকাল উঠে বের হয়ে যায়।
কতক্ষণ পরে শান্তর মোবাইলে একটা ফোন আসে।
-শান্ত কোথায় তুমি? (নিধি)
-এইতো বাসায়
-বাইরে বের হবা?
-হুমম কেনো কোনো কাজ আছে?
-পার্কের দিকে আসো
-ওকে
শান্ত বের হয় নিধির সাথে দেখা করার উদ্দ্যেশে। নিধি ই শান্তর রিয়েল ফ্রেন্ড কারন সবসময় শান্তর খবর নেয় শান্তর সাথে ক্লাস করে।
পার্কে যাওয়ার পরে নিধির সাথে আড্ডা দিয়ে রেস্টুরেন্টে ডুকলো তখন খেয়াল করে দেখে পাশের টেবিলে এনি আর ঐ ছেলেটা বসে বসে কথা বলছে আর হাসাহাসি করতাছে।
একসময় তারা বের হয়ে যায়।
৩০-৩৫ মিনিট পরে শান্ত ও নিধি ও বের হয়ে যার যার বাসার উদ্দ্যেশে চলে যায়।
শান্ত বাসায় যাওয়ার ৫-১০ মিনিট পরে এনির মোবাইল থেকে ফোন আসে।
-শান্ত ২৭ নাম্বার রোডের ৫নম্বর বাসায় তারাতারি আয় প্লিইজ
-কি হয়ছে
-তারাতারি আয় বলে ফোন কেটে দেয়।
শান্ত তখন গাড়ি নিজে ড্রাইভ করে জায়গা মতো গিয়ে দেখে ভিতর দিয়ে দরজা বন্ধ।
শান্ত কয়েকটা ধাক্কা দেওয়ার পরে দরজা খুলে।
দরজা খোলার সাথে সাথে ২টা মেয়ে এসে শান্তকে জড়িয়ে ধরে বলে কাকে পছন্দ হয়? নাকি দুজনের সাথেই করবা?
শান্ত মোটেও এসবের জন্য প্রস্তুত ছিলো না । শান্ত জোর করে তাদের হাত থেকে ছুটে এসে পরে।
বাসায় যাওয়ার পরে শান্ত এগুলো ভাবছে আর বলছে এনি আামকে এসব জায়গার ঠিকানা কেনো দিলো।
ওর ফোনের সময় তো মনে হয়ছিলো বড় কোনো বিপদে পরছে।
এনি বাসায় আসার পরে দেখে শান্ত তার দিকে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে চেয়ে আছে।
-কিছু বলবি?
-আমার সাথে এসব করার মানে কি?
-কি করছি
-ফোন করে কোন জায়গার ঠিকানা দিছো?
-ওহ সেই ব্যাপার
-এসব করলা কেনো?
-হি হি হি
-এখানে হাসার কি আছে?
-আমি তো মনে করছিলাম তুই যাবি না,কিন্তু তুই তো গেলি
-মানুষের বিপদে মানুষ এগিয়ে যেতে হয় আর হ্যা এসব নিয়ে মজা করলে যেদিন সত্যিই বিপদে পরবা তখন কেউ যাবে না
-আমাকে তোর জ্ঞান দিতে হবে না
বলে এনি তার রুমে চলে গেলো।

-দোস্ত(এনির বান্ধবী জুই)
-হুম বল(এনি)
-শান্ত কি তোদের বাসায় থাকে?
-এটা কি তুই নতুন জানিস?
-তোদের বাসায় থেকে ও কিভাবে ক্লাসের টপ ছাত্র হয়?
-জানিনা, এত্তো প্যারা দেয় তা ও পড়ালেখা ঠিকঠাক চালিয়ে যায়।
-ওরে আর এভাবে জ্বালা দিস না
-কেনো?
-ভাগ্যের কথা তো বলা যায় না, একদিন তোর ভাগ্যে ও জুটতে পারে
-জুইইই (রাগি সুরে)
-দেখতে কিন্তু সেই লেভেলের কিউট
-তোর ফকিন্নি মার্কা নজরে এমন ই লাগবে বলে এনি জুইকে ছেড়ে ক্লাসে চলে যায়।
ক্লাস শেষে এনি সামনে চেয়ে দেখে শান্ত আর নিধি একসাথে হেসে হেসে কথা বলছে আর হাটছে।
এটা দেখে এনির রাগ আরো বেড়ে যায়।
এনি বাসায় গিয়ে দেখে শান্ত তখন ও বাসায় যায় নাই।
এনি বাসায় যাওয়ার ৩০-৩৫ মিনিট পরে শান্ত বাসায় যায়।
-এতক্ষণ কোথায় ছিলি?(এনি)
-তোমার কাছে বলতে হবে?
-এই ছোটলোকের বাচ্ছা , তোরে বলছি না আমাকে কখনো প্রশ্ন করবি না
-ওহহ
-বল কোথায় গেছিলি?
-নিধির সাথে তাদের বাসায় গেছি
-ওখানে গেলি কেনো? তাদের বাসায় কুকুর নাই? কুকুরের অভাব হয়ছে?
-তুমি তো ভালোই পড়ালেখা করো।
মানুষকে কুকুরের সাথে তুলনা করো।
-তুই মানুষ? আমার মনে নাই তো
-এনি একটা কথা মন দিয়ে শুনো,এখন আমি যেই পজিশনে আল্লাহ্ এর রহমতে একবছরের মধ্যে পজিশন টা চেইন্জ হয়ে যাবে।
-তখন কি আমাকে মারবি?
-আমি কি এসব বলছি?
-তোর কথায় বুঝা যায় তুই আমাকে ভয় দেখাচ্ছিস
-তোমার মাইন্ড ঠিক করো বলে.................
.
.
♥-----"To Be Continue"---♥

Read More

গল্প :--
-------""অহংকারী মেয়ে"" ♥
.
লেখক:- #Nayem_Ahmed
.
.
★------ পর্ব :- ০১ ~~~~
.
এনি :- এই ছোট লোকের বাচ্চা, ছ্যাচরা তুই আমার রুমে ডুকার সাহস কিভাবে পেলি?(এনি)
-তোমাকে চাচি আম্মা ডাকে(শান্ত)
-আমার রুমে ডুকলি কেনো?
-স্যরি
-এই ছোট লোক তোর কি কখনো আক্কেল জ্ঞান হবে না? কারো রুমে প্রবেশ করতে হলে অনুমতি লাগে। তুই কি অনুমতি নিছিস?
-না
-তাহলে প্রবেশ করলি কেনো?
-আর এমন হবে না
-আমার সামনে থেকে যাহহ।
এই হচ্ছে এনি। মা-বাবার একমাত্র মেয়ে। এনি মেয়ে হিসাবে বদমেজাজি। বাকিটা কেমন সেটা আপনারা গল্পে গল্পে দেখতে পারবেন।
আর শান্ত তার নামানুযায়ী খুবই শান্ত। শান্ত এতিমখানা তে বড় হয়। এতিমখানা থেকে এনির বাবা শান্তকে তাদের বাড়িতে নিয়ে আসে।
এনি আর শান্ত একই বয়সের। দুজন একই ক্লাসে পড়ালেখা করে।এনি শান্তকে সহ্য করতে পারে না। শান্ত যেনো এনির চোখের কাটা।
-মা আমাকে ডাকছো?(এনি)
-হ্যা(এনির মা)
-তুমি ডাকলে শান্তকে কেনো আমার রুমে পাঠাতে হবে?
-কি হয়ছে?
-কি না হয়ছে বলো?
-কি হয়ছে সেটা তো বলবি
-জানো যে ওরে দেখলেই আমার গা জ্বলে তা ও কেনো এই ছোট লোকের বাচ্চাকে পাঠাও
-এই চুপ কর।তুই কি সারাজীবন এমন ই থাকবি?
-হ্যা আমি এমন ই থাকবো।ওরে আমার সামনে আসতে না করবা বলে দিলাম।
-আচ্ছা শোন যেটার জন্য ডাকলাম
-হুম বলো
-আজকে আমরা সবাই তোর বাবার বন্ধুর মেয়ের বিয়েতে যেতে হবে
-আমরা সবাই মানে?
-হুমম সবাই
-কে কে?
-তোর বাবা আমি তুই আর শান্ত
-তাহলে আমি যাবো না
-কেনো?
-শান্ত গেলে আমি যেতে পারবোনা
-গাড়ির ড্রাইভার আজকে আসবেনা
-গাড়ির ড্রাইভার হিসাবে যাবে?
-হুম, গোসল করে রেডি হ
-ওকে।
বিয়ে বাড়িতে যাওয়ার পরে শান্ত মনে মনে ভাবতে থাকে এখানকার সবাই কত দামি দামি পোশাক পরে আছে আর আমি? আমাদের মতো মানুষকে এই পৃথিবীতে পাঠানো হয়ছে মনে হয় এনিদের মতো মানুষের গোলামি করার জন্য।
এসব ভাবতে ভাবতে মন খারাপ করে ক্রিস্টিয়ানা পেরির সেড সং লাগিয়ে গাড়িতে বসে থাকে।
কতক্ষণ পরে এনির বাবা গাড়ির কাছে এসে শান্তকে ডাক দেয়।
-জি আংকেল কিছু বলবেন?
-তুমি গাড়িতে বসে আছো কেনো?
-এমনি
-চলো
-কোথায়?
-বিয়ের অনুষ্টানে
-না আমি যাবো না
-কেনো?
-এমনি
-এনির ভয়ে?
-না আংকেল
-তোমার আন্টি আমাকে সবকিছু বলছে।বাবা সবকিছুতে একটু কষ্ট করতে হয়। তোমার কষ্ট না হয় একটু বেশি হলো,আর আমি আর তোমার আন্টি কিন্তু তোমাকে আমাদের সন্তানের মতো দেখি।
-জানি আংকেল
-তাহলে চলো
তখন শান্ত এনির বাবার সাথে ভিতরে যায়।
শান্ত সেখানে তার ক্লাসমেট কে দেখে কথা বলতাছে তখন এনি তাকে দেখে ফেলে।
এনি দোখার সাথে সাথে রাগে তার নাক মুখ লাল হয়ে যায়।এনি তখন মনে মনে ভাবে তাকে সবার সামনে লজ্জা দিতে হবে এই বলে শান্তর সামনে যায়।
শান্ত এনিকে দেখে তার ভিতর তখন হালকা ভয় কাজ করে।
-শান্ত এদিকে আসো(এনি)
-কিছু বলবা?(শান্ত)
-হুমম এই বলে তাকে আড়ালে নিয়ে যায়। কতক্ষণ পরে সেখান থেকে বের হয়ে আসে।
এনি শান্তকে সবার সামনে এনে ঠাস ঠাস করে গালে কয়েকটা থাপ্পর বসিয়ে দেয়।
সবাই তখন সব কিছু বাদ দিয়ে তাদের দিকে চেয়ে থাকে।
বাংলাদেশের শাস্ত্র মতো একটি মেয়ের কিছু হলে তার পক্ষ ধরে যেমন ছেলেরা ছুটে আসে ঠিক তেমনি তার সময় ও এমন হলো।
কয়েকটা ছেলে শান্তকে ধাক্কা দিতে দিতে বাহির করে দেয়।
শান্ত তখন একটু শব্দ করে কান্না করে দেয়। শান্ত সে নিজকে নিজে প্রশ্ন করতে থাকে, আমি কি কোনো দোষ করেছিলাম? আমি তো দোষ করিনি তাহলে কেনো আমাকে সবার সামনে এমন করলো।
আমি কি এনির কোনো রকম ক্ষতি করছি?
ওরে দেখলে তো আমার ভয় হয় । তাও ও কেনো আমার সাথে এমনটা করলো। মা-বাবা নাই বলে হয়তো আজ এমন টা করলো।
এসব ভাবতে ভাবতে গাড়ির ব
ভিতর ডুকে গ্লাসগুলো আটকিয়ে কান্না করতে থাকে।
প্রায় ৩০-৩৫ মিনিট পরে এনির বাবা শান্তর কাছে ছুটে আসে।
শান্ত কি হয়ছে(এনির বাবা)
-চোখ মুখ হাত দিয়ে মুছে, কিছু না আংকেল
-এনি নাকি তোমাকে থাপ্পর দিছে?
-তা কিছু না আংকেল। আমাদের জন্মই তো মার খাওয়ার জন্য , কারন আমরা তো এতিম
-বাবা এভাবে বলিস না , বাড়িতে যাওয়ার এর শেষটুকু দেখবো।
সন্ধ্যার দিকে সবাইকে নিয়ে শান্ত গাড়ির ড্রাইভিং করে বাসায় ফিরে।
বাসায় আসার পরে শান্ত কান্না করতে করতে শান্তর রুমে চলে যায়।
শান্ত রুমে গিয়ে দরজা আটকিয়ে কান্না করতে থাকে।
কতক্ষণ পরে এনির রুম থেকে চিল্লাচিল্লির আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। এমন আওয়াজ শুনে শান্ত রুম থেকে বের হয়ে যেটা দেখলো তাতে সে বিশ্বাস করতে পারলো না...........
.
এমন আওয়াজ শুনে শান্ত রুম থেকে বের হয়ে দেখে আংকেল এনির সাথে চড়া কন্ঠে কথা বলতাছে। তর্ক হতে হতে এক সময় এনিকে থাপ্পর মারে।
এনিকে থাপ্পর দেওয়ার পর এনি হঠাৎ চুপ হয়ে যায়।
-আংকেল ওকে মারছেন কেনো?(শান্ত)
-ও আস্তে আস্তে বেয়াদব হয়ে যাচ্ছে।ও যে আমার মেয়ে সেটা ভাবলে আমার কষ্ট হয়, আল্লাহ জানে কোন পাপের কারনে এমন মেয়ে আমাদের ঘরে জন্ম নিছে।
-থাক আপনি এসে পড়ুন বলে এনির বাবাকে শান্ত অন্য রুমে নিয়ে যায়।
কয়েকদিন পরে শপিং করার জন্য এনির বাবা এনির সাথে শান্তকে পাঠায়।
শান্ত যখন গাড়ি স্টার্ট করলো তখন........
-ঐদিকে পার্কের কাছে নিয়া যা(এনি)
-কেনো?(শান্ত)
-এই কুত্তারবাচ্চা এটা কি তোকে বলা লাগবে? তোকে আমার সাথে পাঠায়ছে আমি যা বলি তা করবি
-আমাকে বকলেও আমার মা-বাবাকে বকা দিবানা
-ওরে মাহহ রে,তুই কোন হাজী সাহেবের পোলা?
-আমার বাবার কথা মনে নাই কিন্তু আমার স্পষ্ট মনে আছে আমার মা আমাকে অনেক আদর করতো, ছোট বলের মধ্যে পানি নিয়ে আমাকে গোসল করিয়ে দিতো।
-হয়ছে তোর বকবকানি বন্ধ করে পার্কের কাছে নিয়া যা।
পার্কে নিয়া যাওয়ার পরে একটা ছেলে এসে এনিকে হালকা ভাবে জড়িয়ে ধরে।
শান্ত ভাবে হয়তো এটা ওর বয়ফ্রেন্ড।
-তোমার কাজিন নাকি?(ছেলেটা)
-না, এটা আমার সার্ভেন্ট(চাকর)(এনি)
-ওহহহ
-হুম চলো বলে হাত ধরে একটা দোলনাতে বসে।
কতক্ষণ কথা বলার পরে আসার সময় আরেকবার হাগ দিয়ে গাড়িতে উঠে পরে।
-তোমার বয়ফ্রেন্ড?
-এটা তোর না জানলেও চলবে
-ওহহ তা ও কথা
-শপিংমলে যা
-ওকে।
শপিং করে ফেরার পরে দুজন রেস্টুরেন্টে ডুকে।
এনি টেবিলে বসার পরে শান্ত যখন বসে।
-এখানে বসলি কেনো?(এনি)
-তুমি বসছো তাই
-জানোছ না তোর ফেইস দেখলে আমার গাঁয়ে জ্বর উঠে
-ওহহ স্যরি বলে শান্ত অন্য টেবিলে গিয়ে বসে।
শান্ত সব দিক দিয়েই স্মার্ট। শান্ত এনির সাথে এক ভার্সিটিতে কেমেস্ট্রি সাবজেক্টে অনার্স ৪র্থ বর্ষে পড়ালেখা করে।
শান্ত এত অবহেলার মাঝেও সে তার পড়ালেখা ঠিকভাবে চালিয়ে নেয়।
ভার্সিটিতে ক্লাস করে কম। আর কি কারনে কম করে সেটা তাদের ভিসি ও জানে। সবসময় ভালো রেজাল্ট করার কারনে ভিসি ও শান্তর সবকিছু ভেবে সেক্রিফাইস করে।
সামনে তাদের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা তাই পড়ালেখার একটু বেশিই চাপ।
শান্ত ৭-৮ দিন পরে ভার্সিটিতে আসে।ক্যাম্পাসে এসে দেখে এনি একটা গাছের নিচে বসে আড্ডা দিচ্ছে।
শান্ত সিড়িতে বসে বসে একটা বই হাতাহাতি করছে এমন সময় একটা মেয়ে এসে শান্তর পাশে বসে।
-হাই শান্ত
-হাই
-কেমন আছো?(মেয়েটি শান্তর ক্লাসমেট, নাম নিধি)
-আলহামদুলিল্লাহ, তুমি কেমন আছো?
-হুমম ভালো, তোমার উপস্থিতি কম কেনো?
-পার্সোনাল প্রবলেম
-ডোন্ট মাইন্ড একটা কথা বলি?
-হুম শিওর
-টাকার প্রবলেম নাকি?
-আরে না
-তাহলে?
-বললাম না পার্সোনাল প্রবলেম
-ওহ
-হুম
-ওকে, ক্লাসে যাবানা?
-হুমম চলো
ক্লাসে গিয়ে দুজন এক টেবিলে বসে।
শান্ত খেয়াল করে দেখে এনি তাদের দিকে চেয়ে আছে।
ক্লাস শেষ হওয়ার পরে বাসায় যায়।
বিকালের দিকে শান্ত ছাদের এক কোনে দাড়িয়ে থাকে তখন এনি পিছন দিয়ে এসে.......
-ভালোই তো প্রেম করছিস(এনি)
-প্রেম না
-কি?
-যাস্ট হাই হ্যালো
-হাই হ্যালো করতে কারো ২ঘন্টা লাগে জানা ছিলো না
-ফ্রেন্ড হিসাবে কথা তো বলতেই পারে
-হুম তা অবশ্য ঠিক। আর তোর মতো ছোটলোকের সাথে কে প্রেম করবে?
-এই কথা শুনে শান্ত তখন মুচকি হাসে
-তোর এই হাসিটা দেখলে আমার গায়ে ১০৫ ডিগ্রির জ্বর উঠে
-বায়
-এই শোন
-কি
-কাল আমার বান্ধবীর হলুদ সন্ধ্যা, সেখানে আমার সাথে যেতে হবে
-অপমান করার জন্য নিবা?
-নাহ
-তো
-এত প্রশ্ন করিস কেনো?
-হুম ছোট লোকদের প্রশ্ন করতে নেয়
-হুম এইতো ভালো বুঝতে পারছিস
-বায়
বলে শান্ত ছাদ থেকে নেমে যায়।
পরের দিন এনি শান্তকে সাথে করে নিয়ে যায়।
সেখানে নিয়ে যাওয়ার পরে দেখে একেকবার একেকজন নাচানাচি করছে।
-দোস্ত আসতে এত দেরি করলি কেনো?(এনির বান্ববী ফারিহা)
-রাস্তায় জ্যাম ছিলো রে
-ওহহহ, শান্ত সেখানে গিয়ে বসো(ফারিহা)
-ওকে(শান্ত)
শান্তর আশে পাশের চেয়ারে এনি আর এনির কিছু বন্ধু বসে আছে।
হঠাৎ একটা মেয়ে এসে শান্তকে....................
.
♥-----"To Be Continue"---♥

Read More

গল্প :-
""অন্তঃস্বত্তা মেয়েকে বিয়ে""
.
লেখক:- #Nayem_Ahmed
.
100% কান্না করবেন challenge....শুধু শেষ পর্যন্ত সাথে থাকবেন....
.
★------পর্ব :- শেষ পর্ব (১৯)~~2 ♥
বাসা থেকে বের হয়ে দূরে একজায়গায় বসে থাকি! পরে বাসায় এসে শুনি কথার মেয়ে হয়েছে। আর কোন জানি লোক কথাকে রক্ত দিয়ে বাঁচিয়েছে।
.
.
আমার কেমন জানি লাগতেছে। হঠাৎ ঠাস করে গালে চড় বসিয়ে দিল। চড় বসিয়ে দিয়ে বলতে লাগল" আমার আজ লজ্জা করছে, জানু মেয়েটা অপরাধ করেছে। তাই বলে মেয়েটাকে বাঁচানোর জন্য রক্তের প্রয়োজন ছিল কিন্তু তুই দিলিনা! জানিস তোর মতো সবাই না একলোক কথাকে রক্ত দিয়ে বাঁচিয়েছে।
.
বাবার কথা শুনি মুঁচকি হাসি দিলাম" আচ্ছা বাবা যে মেয়ে আমাকে মারতে চায় তাকে তুমি কীভাবে বাঁচাতে বলো! "কথাটা বলে রুমে চলে এসেছি।
.
দেখতে দেখতে একবছর চরে যায়। কথাকে অনেক অপমান করেছি তবুও মেয়েটা কান্নাকাটি করে। আর পারছিনা নিজের কাছেই খারাপ লাগে এসব দেখতে!
.
একদিন কথা শুয়ে আছে মেয়েকে নিয়ে, আর মেয়েকে আমার ফটো দেখিয়ে বলছে, মামনি এই যে তোমার আব্বু। মেয়েটাও কথা বলতে পারে অনেক।
.
হঠাৎ রিত্তের ফোন " কথা আপু রাজ ভাইয়ার বিয়ে তুমি এসে ফিরাও! কথাটা বলে রিত্ত ফোন রেখে দেয়"।
.
এদিকে রিত্তের মুখে আমার বিয়ের কথা শুনে মনে হচ্ছে কথার প্রাণটা কেউ বের করে নিচ্ছে। নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে। পায়ের নিচে মাটি সরে যাচ্ছে। রাইসাকে নিয়ে গাড়িতে ওঠে চলে আসে আমাদের বাসায়। বাসাটা নীল-লাল বাতিতে সাজানো! কথার আজ সবচেয়ে কষ্টের দিন কারণ আজ এই দিনেই মেয়েটা জন্মগ্রহণ করে আর মেয়েটার জন্মদিনেই তার বাবাটাকে হারাচ্ছে।
.
কথা দৌঁড়ে রুমে গিয়ে চমকে যায়! রুমটা হরেক রকম বেলুন দিয়ে সাজানো।রুমের প্রতিটা জায়গায় রাইসার ছবি। লেখা প্রথম জন্মবার্ষিকী কথা নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছেনা। দৌঁড়ে গিয়ে রাজকে সবার সামনে জড়িয়ে ধরেঁ। কাঁদতে কাঁদতে রাজের শার্ট ভিজিয়ে ফেলে। মামনি বাবাইকে ওভাবে ধরে রাখছো কেন?
.
রাইসার কথা শুনো সবাই হেসে দেয়!রাজ কথাকে ছাঁড়িয়ে নিয়ে কেক কেটে রাইসার জন্মদিন পালন করে!
.
আর সবাই প্ল্যান করেই রাজের বিয়ের কথা বলে, কথাকে ডেকে নিয়ে আসে!
.
রাত বারোটা কথা রাইসাকে নিয়ে বাসর ঘরে বসে আছে! কিছুক্ষণ পর বাসর ঘরে ঢুকলাম। বিছানায় বসার আগে কথা আমাকে ছালাম করে নিলো!
.
কথার কপালে আলতো করে চুমু একেঁ দিলাম। বিছানার একপাশে দেখি রাইসা ঘুমাচ্ছে, রাইসার কপালে পাপ্পি দিয়ে। কথাকে ঠোঁটে যখনি ঠোঁট মিলাতে যাবো। কথা তখনি বলল" দাড়াও আগে বল রিয়া মেয়েটার সাথে কতদিনের সম্পর্ক তোমার? রিত্ত বলেছে তুমি নাকী ভালবাস রিয়াকে?কথাগুলো বলে কেঁদে দিলো কথা!
.
আমি হাসতে হাসতে বললাম! হ্যাঁ রিয়াকে ভালোবাসি খুব বোন হিসাবে, মেয়েটা কথা বলতে পারেনা তবে সব বুঝে! আর আমার বোন রিত্তের মতো রিয়াও আমার আরেক বোন। আর হ্যাঁ হসপিটালে যে লোকটা রক্ত দিয়েছিল সেটাও আমি! কু বুঝলা তুমি আমাকে অনেক কষ্ট দিছো তাই শোধ নিলাম!আমি আর কথা বলতে পারছিনা কারণ আমার ঠোঁট দুটিকে কথা তাঁর দখলে নিয়ে নিছে! মনে হচ্ছে অজানা কোন রহস্যে হারিয়ে যাচ্ছি!
.
আরে বাহ্ আপনারা এমন কেন রোমান্সটাও করতে দিবেন না! দাঁড়ান লাইট অফ করে দিচ্ছি!
# সমাপ্ত।
বিঃদ্রঃ জানিনা গল্পটা কেমন হয়েছে সেটা জানিনা! সবাে কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি আমি হয়তো আপনাদের মনের মতো গল্পটা উপস্হাপন করতে পারিনি।তবে আমি চেষ্টা করেছি আমার সেরাটা দিতে। গল্পটির প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত যারা অনুপ্ররণা উৎসাহ যুগিয়েছেন তাদেরকে ধন্যবাদ দিবো না।তাঁদের জন্য অন্তরের অন্তর স্থল থেকে "ভালবাসা"....... ♥♥♥♥
.
ভালো থাকবেন সবাই।
.
পুরো গল্পটা সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ.....
.
.
♥-------""""""সমাপ্ত"""""-----♥

Read More

গল্প :-
""অন্তঃস্বত্তা মেয়েকে বিয়ে""
.
লেখক:- #Nayem_Ahmed
.
100% কান্না করবেন challenge....শুধু শেষ পর্যন্ত সাথে থাকবেন....
.
★------পর্ব :- শেষ পর্ব (১৯)~ ♥
.
.
রিয়া মেয়েটা এসব শুনে আরো বেশি কাঁদতে লাগল পাশ থেকে।
বুঝতে বাকি রইলো না মেয়েটা রাজকে ভালোবাসে! এখন রাজ তো আমাকে কোনদিন গ্রহণ করবে না, সে তো আমাকে ডির্ভোস দিয়েছে! ভাবতেই আবারো চোখটা ছলছল করে ওঠলো।
মনে মনে ভাবলাম রাজ যার বুকেই থাকুক সো জন সুখে থাকে আর বেঁচে থাকে তাঁর সুখটা না হয় দূর থেকেই দেখবো।
এসব ভাবছি অার কাঁদছি। রিয়া মেয়েটার দিকেই চেয়ো থাকতে বড্ড মায়া লাগছে। মেয়েটা চোখ লাল করে ফেলছে।
.
হঠাৎ ডাক্তার রাজের রুম থেকে বের হয়ে আসলো! ডাক্তারের চোখ দিয়ে পানি বের হচ্ছে!
.
আঙ্কেল কী হয়েছ ভাইয়ার?
.
মামনী, পেশেন্ট স্যালাইন একদম নেওয়া বাদ দিয়েছে।এখন অক্সিজেন নেওয়া ৫০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। মামনি এতিম বাচ্চাদের স্বান্ত্বনা দেওয়ার বাসা হারিয়ে ফেললাম। কী বলে স্বান্ত্বনা দিবো রাজ যে আর বাঁচবে না মনে হচ্ছে। তোমরা আল্লাহকে ডাকো প্লিজ তিনি চাইলে সব করতে পারেন।
.
ডাক্তারের মুখে এমন কথা শুনে বুকটা ছ্যাঁত করে উঠলো। রিত্ত মনে হচ্ছে পাথরের মূর্তির মত হয়ে গেছে।
.
বাবা আমি কি নিয়ে বাঁচবো বলো আমার জীবনটাকেই যে আল্লাহ্ নিয়ে নিচ্ছে।
.
মা'রে আল্লাহর উপর ভরসা রাখই আল্লাহ্ সব ঠিক করে দিবে। এতোগুলো এতিম বাচ্চার চোখের জল কখনো বৃথা যাবে না।
.
এতিম বাচ্চাদের মুখের দিকে তাকানো যায় না। তাঁরা খুব করে কাঁদছে। মুখ দিয়ে তাঁদের কোন কথা বের হচ্ছে না।
.
হঠাৎ রিয়া মেয়েটা দৌঁড়ে রাজের পায়ের কাছে বসে অঝরে কাঁদতে লাগল। রিত্ত দৌঁড়ে গিয়ে বলতে লাগল " রিয়া আপু আমি জানি তুমি ভাইয়াকে অনেক ভালবাসো " ভাইয়াও তোমাকে ভালোবাসে জানি খুব। কিন্তু কি করবে আল্লাহর উপর কোন হাত নেই দোয়া কর ভাইয়া যেন আবারো আগের মতো সুস্হ হয়ে যায়। রিয়া মেয়েটা রিত্তকে জড়িয়ে ধরে কাদছে। চোখ থেকে টপ টপ করে পানি পড়ছে কিন্তু কোন শব্দ করছে না।
.
এদিকে রিত্তের মুখে " ভাইয়াকে তুমি অনেক ভালোবাস, আর ভাইয়াও তোমাকে অনেক ভালোবাসে " এমন কথাটা শুনে পায়ের নিচের মাটি সরে গেল মনে হচ্ছে। চোখের জল বাঁধা মানছে না। আমি কিছু ভাবতে পারছি না। রাজ শুধু আমার অন্য কেউ রাজের বুকে যাওয়ার আগে আমি নিজেকে শেষ করে দিবো। খুব কষ্ট হচ্ছে প্রাণটা বের হয়ে যাচ্ছে। হঠাৎ মনে পড়ল আজ আমার জন্যই আমার স্বামীর এই অবস্হা। আমার অবহেলা, ঘৃণা মিথ্যা প্রতিশোধের আগুন রাজকে প্রতিনিয়ত পুড়িয়েছে। খুব কষ্ট হচ্ছে এসব ভাবতে। মনে মনে স্হির করে নিলাম রাজের মেয়ে রাজতে দিয়ে, যেদিন রাজ বিয়ে করবে সেদিন গলায় দঁড়ি দিয়ে মরবো তবুও বেঁচে থাকতে রাজ অন্যের হবে তা দেখতে তো দূরের কথা শুনতেও পারবো না!আমি মরে যায় আমার জীবনটা যেন বেঁচে যায়।
.
বাসায় এসে শুনলাম রাজের অবস্হা সিরিয়াস। সবাই কান্না -কাটি করছে। মা-বাবা আমার আড়ালে কাঁদছে আমি কষ্ট পাব বলে মা-বাবা কাঁদিনি। মা শুধু বললো" মা'রে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা কর রাজ বাবাটা যেন বেঁচে যায়"!
.
মা কথাটা বলে রুম থেকে চলে গেল! আমার মনে হচ্ছে রাজ হারিয়ে যাচ্ছে আমার জীবন থেকে কষ্টে বুকটা ফেঁটে যাচ্ছে
পাথর চাঁপা দিয়ে রেখেছি! পাশের রুমে মা'রের কান্নার আওয়াজ ক্রমশ তিব্র হচ্ছে। মনের মাঝে অজানা ভয় কাজ করছে। না জানি আমার রাজের কী জানি কি হয়ে গেল!
.
মা'কে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম" মা কি হয়েছে কাঁদছো কেন?"
মা'রে আল্লাহকে ডাক রাজের অবস্হা আরো বেশি খারাপ তোর বাবা কিছুক্ষণ আগে বাসা থেকে বের হয়ে হসসপিটালে গিয়ে ফোনে সব বলল!
.
আম্মুর কথা শুনে মনে হচ্ছে কেউ কলিজাতে ছুরি চালিয়ে দিচ্ছে! আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারলাম না। অযু করে পবিএ কুরআনুল কারীম তেলাওয়াত করে, কুরআনের উপর চুমু খেয়ে বুকের সাথে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে কেঁদে দিলাম! কিছুক্ষণ এভাবে বুকের সাথে কুরআন শরীফটা জড়িয়ে রাখলাম।তারপর কুরআনটা রেখে মাঝরাতে নামাযে দাঁড়িয়ে গেলাম।শুনেছি মাঝরাতে নামাযে দাঁড়িয়ে কাঁদলে আল্লাহ্ দোয়া কবুল করেন। তাই নামায শেষ করে আল্লাহর কাছে দুই হাত তুলে কান্না করে করে বলতে লাগলাম" হে রহমান- রাহীম এই মাঝরাতে সময় যখন ঘুমিয়ে তখন তোমার দরবারে দু'টি হাত তুলে ধরেছি! আল্লাহ্ তুমিতো অন্তযামী , তোমার বান্দার মনের খবর জান। আল্লাহ্ আমার স্বামী মৃত্যুশর্য্যার আল্লাহ্ আমার জীবন নিয়ে হলেও আমার স্বামীর সুস্হতা দান করো!! হে আল্লাহ্ তোমার কাছে এক অভাগী হাত তুলে ধরেছে মিসকিনের বেসে তুমি কবুল কর আল্লাহ্ কবুল কর আমার দোয়া। আমার সন্তানটাকে তাঁর বাবার স্নেহ থেকে বঞ্চিত কর না। আল্লাহ আমার স্বামীকে ভালো করে দাও! এদিকে দেখ সকাল হয়ে গেছে। প্রতিদিনের চেয়ে আজকের সকালটা আলাদা। কথা সকালেই হাসপাতালের দিকে রওয়ানা দিলো!
.
এতিম বাচ্চারা কাঁদছে এখনো।একটা মেয়ের নাম আদিবা! যার বাবা জন্মের আগে মারা যায়। আর মা'টা আদিবাকে জন্ম দেওয়ার সময় মারা যায়। মেয়েটার বয়স ৭ রাজ মেয়েটাকে সব চেয়ে বেশি আদর করতো সব চেয়ে বেশি সেই মেয়েটা কাঁদছে। চোখ দুটি রক্তের মতো লাল হয়ে গেছে।
আদিবা অযু করে সবার সাথে কাঁদতে কাদঁতে আল্লাহর কাছে দু'হাত তুলে বলতে লাগল" হে আল্লাহ্ তুমি সবাইকে মা দিয়েছ।বাবা দিয়েছ। আর আমাকে কিছুই দেওনি। শুনেছি মানুষের কাছে আমি যখন মায়ের গর্ভে তখন বাবা মারা যায়। যখন হাসপাতালে জন্ম নেয়! জন্ম নিয়ে মায়ের মুখটাও দেখতে পারিনি। হয়তো মুখটা সাদা কাফনে ঢেকে দিয়েছে। হে আল্লাহ্ আমি কি এমন অন্যায় করেছি, কিসের জন্য আমাকে বাবার আদর মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত করলে? জন্মের পর শুধু এতিম অনাথ নামটাই শুনেছি মানুষের কাছে তবুও তোমাকে বলিনি কেন আমার বাবা-মাকে কেঁড়ে নিলে। তবে আজ বলব কারণ বাবা- মাকে হারিয়ে একটা বাবার মতো বাবা পেয়েছিলাম যে বাবার আদর দিয়েছে। মায়ের মত মা পেয়েছিলাম যে মায়ের স্নেহ দিয়েছে। ভাইয়ের মতো ভাই পেয়েছিলাম যার সাথে খুনশুটি করেছি, বন্ধুর মতো বন্ধু পেয়েছি যার সাথে সব শেয়ার করতাম। হে আল্লাহ্ সেই মানুষটা আজ হসপিটালে শুয়ে আছে। আল্লাহ্ কোনদিন তোমার কাছে কিছু চায়নি! বলেনি মাকে দেখবো কখনো তোমাকে বলিনি বাবাকে এনে দাও তবে আজ চাইবো যে মানুষটা আমাদের মুখে খাবার তুলে দিত! আমাদের কান্নায় কান্না করতো তাকে তুমি নিয়ো না। ছোটরা নাকি মাসুম হয়, এতিমদের দোয়া নাকি কবুল হয়, আমার দোয়া কবুল করবে না তুমি? আমি ছোট্ট যে তোমাকে ঠিকমতো ডাকতে পারি না যে, কী করবো তুমি কী আমার ডাক শুনতে পাও দূর আকাশ থেকে।আমার রাজ ভাইয়াকে সুস্হ করে দাও নইলে আমি খুব কাঁদবো। তুমি নি বাচ্চাদের কান্না সহ্য করতে পারো না! হে আল্লাহ্ মায়ের দুধটাও আমি খেতে পারিনি তাতেও তোমাকে কখনো বলিনি আমার মাকে এনে দাও, কিন্তু আজ আমি তোমার কাছে দুইহাত তুলে কাঁদছি রাজ ভাইয়াকে সুস্হ করে দাও।আল্লাহ্ আমরা এতিম, এতোগুলো এতিম বাচ্চার কান্না তুমি শুনতে পাওনা। তুমি না মনের কথা বুঝতে পারো তবে কেন আমাদের রাজ ভাইয়াকে সুস্হ করে দিচ্ছ না। ওহ্ আল্লাহ্ আমরা এতিম বলে আমাদের কথা রাখবে না? জানো আল্লাহ্ এতিমদের কথা কেউ শুনতো না রাজ ভাইয়া ছাড়া, রাজ ভাইয়া মারা গেলে কে শুনবে? আমাদের রাজ ভাইয়াকে ভালো করে দাও! আদিবার কথা শুনে হাসপাতালের নার্সরা পর্যন্ত কেঁদে ফেলেছে। এতিম বাচ্চারা কাঁদছে। সাথে আমার হৃদয়ে মনে হচ্ছে রক্তক্ষরণ হচ্ছে।চোখের পানি থামছেনা মনে মনে আল্লাহকে ডেকে যাচ্ছি।
.
হঠাৎ নার্স দৌঁড়ে ডাক্তার কে গিয়ে বললো এটা কি ভাবে সম্ভব কোমায় চলে যাওয়া রোগির জ্ঞান ফিরেছে। হার্ট বলছে সম্পূর্ণ সুস্হ, অবাক করা ঘটনা ঘটে গেছে।
.
ডাক্তার শুনে বিশ্বাস করতে পারছেনা। মৃত্যু যার নিশ্চিত ছিল তাঁর হার্টবির্ট স্বাভাবিকের চেয়ে ভালো চলছে। এতিম বাচ্চাদের ডাক্তার গিয়ে বললো" সোনামণিরা তোমাদের আর কাঁদতে হবে না! তোমাদের ডাক আল্লাহ্ শুনেছে, তোমাদের অনুরোধ অবজ্ঞা করতে পারেনি। আল্লাহ্ স্বয়ং তার গায়েবি মদদ দ্বারা রাজকে সুস্হ করে দিয়েছে। "
.
এতিম বাচ্চারা কথাটি শুনার সাথে সাথে তাঁদের মুখে ফুলের কলির মতো হাসি ফুটে ওঠলো! সবাই রাজের কাছে দৌঁড়ে গেল।
.
রাজের সুস্থ হওয়ার কথা শুনে নিজের অজান্তে চোখের কোণে আনন্দের অশ্রু জমা হয়েছে। রিত্ত দৌঁড়ে এসে আমাকে নিয়ে গেল! রিয়া মেয়েটাকে দেখলাম রাজের মাথার কাছে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে! আদিবা রাজকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছে। সবার মুখে হাসি! কিন্তু রাজের মাথার কাছে রিয়াকে দেখে প্রাণ বের হয়ে আসছে। রাজকে বাসায় নিলে, আমিও সাথে যায়।
.
বিকেল বেলা রাজ রুমে বসে আছে! আমি দৌঁড়ে গিয়ে পায়ে ধরে বললাম" আমাকে ক্ষমা করে দাও, আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচবো না '।
.
কি করছেন পা ছাড়েন, ক্ষমা কেন চাচ্ছেন খুনীর চরিএহীনটার শাস্তি দিয়েছেন!
.
রাজের কথা শুনে এখন কথার আর বেশি কান্না করছে। শক্ত করে পা ধরে কথা বলতে লাগল" আমু সব জেনেছি, প্লিজ তোমার পায়ের নিচে একটু জায়গা দাও,কখনো বলবো না তোমার বুকে জায়গা দাও! আমাকে দূরে সরিয়ে দিয়োনা আমি বাঁচবো না"।
কথার মুখে এমন কথা শুনে কষ্ট হলেও কি করবো কিছু ভাবতে পারছিলাম নাহ্! তাই বললাম' ক্ষমা আপনাকে তখনি করে দিয়েছি,আর হ্যাঁ আপনাকে ডির্ভোস দিয়ে দিছি! আপনি আর এই বাড়ির বউ না বা আমার কেউ না।আমি চাইনা কোন বেগানা মেয়ে আমাদের বাসায় থাকুক! ওই রিয়া কোথায় গেলে। রিয়াকে ডাকদেই দৌঁড়ে এলো।
.
এদিকে আমার মুখে এমন কথা শুনে কাঁদতে লাগল।খুব কষ্ট হচ্ছে কথার চোখে জল দেখে। কিন্তু যে আমার কিছুই করার নেই!
.
কি হলো কাঁদছেন কেন? আমি অন্তঃসত্ত্বা না হলে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিতাম! আশা করি বুঝতে পেয়েছেন। জানেন আপনার ছায়াটা দেখলেও রাগে শরীর জ্বলে। বের হোন প্লিজ আমার বাসা থেকে!
.
কথা এমন কথা শুনে অারো বেশি কাঁদতে লাগল।
.
ভাইয়া ভাবীকো কি বলছো এসব?( রিত্ত)
.
চুপ করবি তুই! আর হ্যাঁ আপনি যাবেন কি? আমার কথাটা শুনে কথা বের হয়ে চলে গেল। কথা চলে যাওয়ার পর খুব কান্না পাচ্ছে আমি কীভাবে বলতে পারলাম নিজের ভালোবাসার মানুষকে এমন কথা বলতে?
.
ভাইয়া কাজটা কী ঠিক করলে?( রিত্ত)
কেন ঠিক করেনি কি আমি?
নাহ্! ঠিক করনি! তারপর রিত্ত হসপিটালের সব ঘটনা খুলে বলল। এর পর আর কথাকে ১৫ দিন দেখিনি!
.
এদিকে কথা বাড়িতে আসার পর সবসময় কাঁদতো! নামায পড়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতো! হঠাৎ একদিন প্রসব ব্যাথা ওঠে কথাকে হাসপিটালে নিয়ে যাওয়া হয়!
.
প্রচুর রক্ত ক্ষরণ হলে, কোথাও রক্ত পাওয়া যাচ্ছিল না। কথার সাথে আমার রক্তের ম্যাচ ছিল! মা-বাবা বললেও কথাকে রক্ত দিতে যায়নি। বাসা থেকে বের হয়ে দূরে একজায়গায় বসে থাকি! পরে বাসায় এসে শুনি কথার মেয়ে হয়েছে। আর কোন জানি লোক কথাকে রক্ত দিয়ে বাঁচিয়েছে।
.

Read More

গল্প :-
""অন্তঃস্বত্তা মেয়েকে বিয়ে""
.
লেখক:- #Nayem_Ahmed
.
100% কান্না করবেন challenge....শুধু শেষ পর্যন্ত সাথে থাকবেন....
.
★------পর্ব :- ১৮ ~~~ ♥
.
.
পর্দাটা সরিয়ে শুনতে লাগলাম ডাক্তার কি বলে। ডাক্তার যা বললো তা শুনার জন্য মোটেই প্রস্তুত ছিলাম না। মনে হচ্ছে হসপিটালের ছাঁদ থেকে ঝাপ দেয়।"" ডাক্তার সবাইকে বললো,দেখেন আপনারা আমাদের যা করার সবকিছুই করলাম। এখন আর আমাদের হাতে কিছু করার নেই। পেশেন্ট কুমোতে চলে গেছে। জানিনা আল্লাহ্ কি করবে,তবে আমাদের চিকিৎসা বিজ্ঞান বলে পেশেন্ট মারা যাবে আগামী ১২ ঘন্টার মাঝে। সত্যিটা অপ্রিয় হলেও এটাই সত্যি। আমাদের আর কিছু করার নেই। মৃত্যু সংবাদ শুনার জন্য প্রস্তুত হতে বলা ছাড়া আপনাদের কিছু বলার নেই।
হঠাৎ নার্স দোঁড়ে আসলো,রিয়া মেয়েটা কাঁদছে,।নার্স ডাক্তারের কাছে এসে বলতে লাগল " ম্যাডাম ২১ নাম্বার কেবিনের পেশেন্টের স্যালাইন পার্স হচ্ছে না! আর অক্সিজেন টাও নিচ্ছে না।
.
ডাক্তার দৌঁড়ে গেল রাজের কেবিনে। সবাই তাকিয়ে আছে। কেউ কোন কথা বলছে না। ডাক্তার বললো পেশেন্ট কুমায় চলে গেছে। আপনারা সবাই আল্লাহ্কে ডাকেন।
.
আল্লাহ্ চাইলে সব করতে পারেন আমাদের কিছু করার নেই।যা করার উপর ওয়ালার হাতে।
.
জানালায় দাঁড়িয়ে রাজকে দেখছি। হঠাৎ পিছন থেকে রিত্ত বলে উঠলো" এখানে কী চান আর? আমার ভাইয়াটা বাঁচবে না হয়তো আপনার জন্যই! আপনার পাপী মুখ দেখতেও ঘৃণা লাগে।আপনাকে বলছি না আপনার এ অশুভ ছাঁয়া নিয়ে আমাদের আশেপাশে না আসতে।"
.
রিত্তের কথাগুলো শুনে কিছু বলার ভাষা নেই। আমার জন্যই আমার স্বামী মৃত্যুর প্রহর ঘুনছে। এতিম বাচ্চারা অভিভাবকহীন হয়ে গেছে মনে হচ্ছে। তাদের চোখ থেকে টপটপ করে পানি পড়ছে। রিয়া মেয়েটা কাঁদছে।
.
হঠাৎ দেখি রিয়া মেয়েটা একটা জায়নামায নিয়ে পাশের রুমে চলে গেল। আমি তাঁর পিছন পিছন গিয়ে দেখি মেয়েটা নামাযে দাঁড়িয়ে গেছে।
.
নিজের অজান্তেই চোখে পানি এসে ভিড় করছে। রাজকে মনে হয় সত্যি হারিয়ে ফেলবো। মনে হচ্ছে মেয়েটা রাজকে সত্যি কেড়ে নিবে।
.
হাসপাতাল থেকে বের হয়ে বাসায় চলে যাচ্ছি। রিত্ত দরজায় দাঁড়িয়ে আছে। রাজের মুখটা একটি বারের জন্য দেখতে দিলো না।খুব কষ্ট প্রাণটা বের হয়ে যাবে।মনে হচ্ছে। এদিকে পেপে প্রচন্ড ব্যাথ্যা করছে।
.
আপু, আপু আমাদের রাজ ভাইয়া কী আর আমাদের সাথে কথা বলবে না আমাদেরকে আর কখনো বুকে জড়িয়ে নিবে না? আমরা যে ভাইয়ার জন্যই বেচে আছি মা -বাবা হারিয়ে।ভাইয়াই যে আমাদের মা-বাবা ছিল।( এতিম মেয়েটি কাঁদদে কাঁদতে বললো)
.
নারে বোন কাঁদিস না, তোর ভাইয়ার কিছুই হবে না! তোর ভাইয়া যে বড্ড বেশি ভালমানুষ যে।( কথাগুলো বলে চোখের পানি মুছে দিয়ে বুকে টেনে নিলাম)
.
এদিকে বাসায় এসে পড়লাম! বাবা হসপিটালে,রাজের খবর নিলাম,বাবার কাছে। বাবা বলল" মা'রে আল্লাহকে ডাক "!
.
মনে মনে ভাবছি আমি যে বড় পাপী আমার ডাক আল্লাহ্ শুনবে? শুনেছি আল্লাহ্ মহান তাই অযু করে এশার নামায পড়ে কুরআন তেলাওয়াত করে। তসবিহ পড়তে লাগলাম।ঘড়ির কাঁটা জানান দিল, রাত ১ টা বাজে।
তাই আর দেরি না করে তসবিহ টা চুমু দিয়ে রেখে দিলাম।
মাঝরাতে দাঁড়িয়ে গেলাম নামাযে দু'রাকাত নামায শেষ করে দু'খানা হাত আসমানের দিকে তুলে বলতে লাগলাম" হে পরওয়ার দেগার!
আমার আল্লাহ্।
হে রহমান আর রাহিম, এ বিশ্ব জাহানের মালিক!
আমি গোনাহ্গার এক বান্দী মাঝরাতে নিজের স্বামীর জন্য দু'খানা হাত তুলে ধরেছি আল্লাহ্।
জানিনা কী নামে ডাকলে তুমি সাড়া দিবে, সে নামের অর্থ আমার জানা নেই।
হে আল্লাহ্ তুমি না বলেছে বান্দা যতই গুনাহ করুক, সে যদি কেঁদে দিয়ে আমার কাছে হাত উঠাই তাহলে আমি বান্দার সব গুনাহ্ মাফ করে দেয়। ও ধরদী আল্লাহ্ কোন দিন তোমার কাছে হাত তুলে কিছু চায়নি!
আল্লাহ্ একজন ফকির বেশে তোমার দরবারে দু'টি হাত তুলে ধরেছি , আমার স্বামীর জীবন তুমি ভিক্ষা দাও।
ও আল্লাহ্, আমার আল্লাহ্ তুমি কী তোমার গুনাহ্গার বান্দীর মাঝরাতের আতৎনার্দ শুনতে পারছো?
ওহ্ আল্লাহ্ আমার যে চাওয়ার আর কোন জায়গা নেই! ওহ্ ধরদী আল্লাহ্! আমার স্বামীর পায়ের নিচে একটু জায়গা চায়।
আমার স্বামীর বুকে মাথা রেখে তৃপ্তির ঘুম ঘুমাতে চায়! আল্লাহ্ আমার স্বামীকে বাঁচিয়ে দাও, তাকে ছাড়া আমি যে বাঁচবো নাহ্।
আল্লাহ্ তুমি তোমার রহমান আর রহিম নামের রহমতে আমার স্বামীকে বাঁচিয়ে দাও। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত স্বামীর খেদমত করতে পারি এই তৌফিক দান করো!ওহ্ আল্লাহ্ এই গভীর রাতে সবাই যখন গভীর ঘুমে মগ্ন তখন তোমার দরবারে দু'খানা হাত তুলে ধরেছি কাঙ্গালের বেশে। আমার জীবনের বিনিময়ে হলেও আমার স্বামীকে বাঁচিয়ে দাও।
আমার স্বামীর কুলে মাথা রেখে মরার ইচ্ছাটা পূরণ করো। আর কিছু চাইনার! সন্তান যখন মা বলে ডাক দেয় " মা তখন সব রাগ অভিমান ভুলে সন্তানকে কুলে তুলে নেয়" ও ধরদী আল্লাহ তুমি তো দুনিয়ার মায়েদের চেয়ে তোমার বান্দাকে লাখো কোটি গুণ বেশি ভালবাসো।
আমার করুণ আর্তনাদে সাড়া দাও! তুমি ছাড়া যে নেই কেউ যার দরবারে হাত উঠাবো! আল্লাহ্ আমার দোয়াকে কবুল করে নাও।
আমার স্বামীকে বাঁচিয়ে দাও। আমার স্বামীর কোলে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার ব্যবস্হা করে দাও ইয়া মাবুদ!
আমার পরম করুণাময়। আল্লাহ্ তুমি কি এ অভাগী মেয়েকে খালি হাতে ফিরিয়ে দিবে? ও আমার আল্লাহ্, আমি সত্যি কী তোমায় কাছে ক্ষমার অযোগ্য? আল্লা!!
হে রহিম-রহমান ক্ষমা করে দাও আমায় ম তোমার করে নাও।
আমার জীবনটাকে বাঁচিয়ে দাও।কাঁদতে কাঁদতে কথাগুলো বললাম!
প্রার্থনা করলাম আল্লাহ্ তায়ালার কাছে মাথাটা সিজদায় দিয়ে আল্লাহর কাছে আমার স্বামীর প্রাণ ভিক্ষা চাইলাম।
জায়নামাযটা চোখের পানিতে ভিঁজে যাচ্ছে।
কখন যে ঘুমিয়ে গেছি জানিনা।
সকালে মা এসে দেখে এখনো আমি জায়নামাযের সিজদা অবস্হায় ঘুমিয়ে আছি।
.
মা আমাকে দেখে কান্না করে দেয়। মা আমাকে নিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যায়। বাবা সারারাত হাসপাতালেই ছিলো!
.
বাবা আমাকে দেখে বললো" মা'রে তোর মাঝে আরেকটা জীবন যে রয়েছে! তুই কী তোর ওই জীবনটার ক্ষতি করবি! তোর মায়ের কাছে সব শুনেছি।"
.
বাবা আমি রাজকে ছাড়া বাঁচবো না ওর জন্য হাসতে হাসতে জীবনও দিতে পারি।ওই যে আমার নিঃশ্বাসে ওই যে আমার বিশ্বাসে।
বাবা তুমি জানো? আমি চোখটা বন্ধ করতে পারি না যদি জীবনকে হারিয়ে ফেলি। আমার জীবনের চাঁদমাখা মুখটা সবসময় ভেসে ওঠে।
.
বাবা আমি জানি আমি আমার স্বামীর সাথে যা করেছি, পৃথিবীর কোন মেয়ে তার স্বামীর সাথে তা করতে পারবে না! বাবা কিন্তু এখন আমি যে আমার স্বামীকে ছাড়া বাঁচবো না।
রাজের কিছু হয়ে গেলে আমি হয়তো আর বাঁচতে পারবো না। হঠাৎ চোখ গেলো মেয়েটার দিকে মেয়েটা আমার দিকে ভ্রু কুচকে তাকিয়ে আছে।
মেয়েটার চোখটাও লাল হয়ে আছে।.
.
আপনি কেন এখানে আসছেন? ( রিত্ত)
.
আমি রিত্তের কথা শুনে মাথা নিচু করে আছি, আর কাঁদছি।কি বলবো রিত্তের চোখে আমি অপরাধী।
.
কি হলো কিছু বুঝেন না? আপনাকে না বলছি আমার ভাইয়ার ছায়াটাও মারাবেন না? (রিত্ত)
.
রিত্তের কথা শুনে চোখের জল বাঁধা মানছেনা।
.
মা পাশ থেকে বলে ওঠলো" দাড়া কথা একটু পরে যা।
আর রিত্ত মা আমি জানি, কথা অপরাধ করেছে।
তবে জানো মা? আমার মেয়েটা কিছুই জানতো না! মেয়েটা না বুঝে এসব করছে তার জায়গায় তুমি হলে হয়তো তুমিও এমন করতে।
জানো মা, আমার মেয়েটা অন্তঃসন্তা তোমরা জান। কাল সারারাত কুরআন তেলাওয়াত করেছে।
রাতে নামায পড়ে মোরাজাতে কেঁদেছে।
আমি মা মেয়ের কষ্ট সইতে পারিনাই তাই বললাম। জানো,আমার মেয়েটা একটা রাতও ঘুমায়না, রাজের সার্ট তার লেখা ডাইয়িটা বুকে নিয়ে কাঁদে। মাঝ রাতে নামায পড়ে কাঁদো আমার মেয়েটা সত্যি অভাগী।
মা কাল রাতেও মেয়েটা নাসাযের সিজদায় কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়ে যায়।
মা আমাদের মা মেয়ের কথায় কষ্ট পেলে ক্ষমা করবে।
.
এদিকে রিত্ত কাঁদছে, আমি চোখ মুছতে মুছতে বললাম মা চল। আমি চাই আমান স্বামী ভালো থাকুক বেঁচে থাকুক। আমি দূর থেকে না হয় আমার কলিজার টুকরার সংসার টাকে দেখবো।
যখনি হসপিটাল থেকে বের হতে যাবো"
তখনি দেখি,রিত্ত পিছন থেকে হাতটা টেনে ধরেছে।
যেয়োনা তোমরা কি করবো বলো আমার ভাইয়াটার জন্য কলিজাটা ফেঁটে যাচ্ছে।
দোয়া করি, আমার ভাইয়া যেন আগের মতো হয়ে যায়।
.
রিয়া মেয়েটা এসব শুনে আরো বেশি কাঁদতে লাগল পাশ থেকে।
বুঝতে বাকি রইলো না মেয়েটা রাজকে ভালোবাসে! এখন রাজ তো আমাকে কোনদিন গ্রহণ করবে না, সে তো আমাকে ডির্ভোস দিয়েছে! ভাবতেই আবারো চোখটা ছলছল করে ওঠলো।
মনে মনে ভাবলাম রাজ যার বুকেই থাকুক সো জন সুখে থাকে আর বেঁচে থাকে তাঁর সুখটা না হয় দূর থেকেই দেখবো।
এসব ভাবছি অার কাঁদছি। রিয়া মেয়েটার দিকেই চেয়ো থাকতে বড্ড মায়া লাগছে। মেয়েটা চোখ লাল করে ফেলছে।
.
হঠাৎ ডাক্তার রাজের রুম থেকে বের হয়ে আসলো! ডাক্তারের চোখ দিয়ে পানি বের হচ্ছে!
.
আঙ্কেল কী হয়েছ ভাইয়ার?
.
মামনী, পেশেন্ট স্যালাইন একদম নেওয়া বাদ দিয়েছে।এখন অক্সিজেন নেওয়া ৫০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। মামনি এতিম বাচ্চাদের স্বান্ত্বনা দেওয়ার বাসা হারিয়ে ফেললাম। কী বলে স্বান্ত্বনা দিবো রাজ যে আর...........
.
.
♥-----"To be Continue"---♥
.

Read More

গল্প :-
""অন্তঃস্বত্তা মেয়েকে বিয়ে""
.
লেখক:- #Nayem_Ahmed
.
100% কান্না করবেন challenge....শুধু শেষ পর্যন্ত সাথে থাকবেন....
.
★------পর্ব :- ১৭~~~ ♥
.
.
রিত্ত চলে গেলে, কাঁদছি, আর ভাবছি রাজকে শেষ বারের মতো একবার দেখে চলে যাবো।
আর আমার অভিশপ্ত ছাঁয়া নিয়ে পাশে দাঁড়াবো না আর। এদিকে ঠিকমতো হাঁটতে পারছিনা।
রাজের কেবিনে ডুকতেই দেখি রাজের মাথায় অন্য একটি মেয়ে হাত বুলাচ্ছে ! মেয়েটা দেখতে আহামরী সুন্দরী না হলেও অনেক মায়াবতী মনে হচ্ছে।
কিন্তু মেয়েটা কেন রাজের কাছে বসে আছে, কেনই বা মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। মেয়েটার হাত বুলানো দেখে শরীরটা রাগে জ্বলে যাচ্ছে। খুব কষ্ট হচ্ছে।
এ শরীর নিয়ে ঠিকমতো নড়তেও পারছিনা।এদিকে রিত্ত আমাকে রাজের সামনে যেতেও না করেছে।
কিন্তু না যেয়ে যে থাকতে পারছিনা।
কলিজাটা ফেঁটে যাচ্ছে, তাই রাজের কেবিনে যেতেই মেয়েটা কেমন করে যেন তাকালো।
মেয়েটার দিকে অসহায়রের দৃষ্টিতে তাকালাম।
.
আপনি কেন আসছেন, আপনাকে না বলেছি এখানে না আসতে।
কি চান আর আপনার জন্য আজ ভাইয়ার এ অবস্থা। প্লিজ আপনি আর আসবেন না। যতি এর পরও আসেন ভুলে যাবো আপনি একসময় আমার ভাবী ছিলেন।প্লিজ বের হয়ে যান আমি আর কথা বাড়াতে চায় না। ( রিত্ত)
.
আপু আমি একটু দেখেই চলে যাবো!
.
আপনি কথা বুঝেন না ( রিত্ত)
.
আচ্ছা চলে যাচ্ছি, তবে একটা প্রশ্ন মেয়েটা কে রাজের মাথায় হাত বুলাচ্ছে?
..
সেটা আপনাকে বলতে হবে না, রিয়া তাঁর অধিকারেই ভাইয়ার মাথায় হাত বুলাচ্ছে। আপনি যাবেন আপনার মুখ দেখাও পাপ প্লিজ চলে যান। আর হ্যাঁ ভাইয়া আপনার স্বামী এটা ভুলে যাবেন।আপনার মতো মেয়ে কারো স্ত্রী তো দূরের কথা ভালবাসার মানুষ হওয়ার মতো যোগ্য না! আপনার মুখ দেখলে যে কোন মেয়ের অমঙ্গল হবে। আপনার জন্য আমি আমার ভাইয়ের আদর থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।এতিম ছেলে-মেয়ে গুলো কাঁদছে।
প্রতিটা রাত মা - বাবা আমাকে হসপিটালে কাটাতে হয়।কি দোষ করে ছিলাম আমি,আমরা বলতে পারবে? কি দোষ করেছিল আমার ভাইয়া! আপনার ভালবাসা পাওয়ার এতটাই অযোগ্য ছিল।
নাহ্ আপনার ভাগ্য যে আমার ভাইয়ার মতো মানুষের বউ হতে পেয়েছিলেন।
আরে প্রতিরাত কাঁদবেন।ভাইয়ার স্মৃতি গুলো আপনাকে একটি রাতও ঘুমাতে দিবে না অভিশাপ দিলাম আপনাকে।( রিত্ত কাঁদতে কাঁদতে কথাগুলো বললো)
.
.
রিত্তের মুখে এমন কথা শুনে চোখ থেকে নিজের অজান্তে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে।
সত্যি আমি তো অপরাধী আমার জন্যই রাজ আর মৃত্যুশর্য্যায়।
ওর পবিএ ভালবাসাটাকে বুঝতে পারিনি। সত্যি আমি অভিশপ্ত ছাঁয়া, বোনের কাছ থেকে ভাইকে।
মায়ের কাছ থেকে ছেলেকে, বাবার কাচ থেকে সন্তান কে কেড়ে নিয়েছি।
আমি হতবাগী আজ আমারি সামনে অন্য মেয়ে আমার স্বামীর মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে।
আমি না করার অধিকারটুকুও হারিয়েছি। হঠাৎ মেয়েটার দিকে তাকালাম মেয়েটার চোখ থেকে পানি গড়িয়ে পড়ছে রাজের মুখের ওপর। মেয়েটার দিকে তাকিয়ে বুঝা যাচ্ছে মেয়েটা রাজকে অনেক ভালোবাসে।
কিন্তু আমি যে রাজকে ছাড়া বাঁচবোনা। কিভাবে বাঁচবো রাজকে যে নিজের জীবনের চেয়ে বেশি ভালোবেসে ফেলেছি। কিভাবে ভুলে থাকবো রাজের মায়াবী মুখটা না দেখলে যে সত্যি মৃত্যুর চেয়ে বেশি কষ্ট হয়।
হে আল্লাহ্ কি করবো আমি যে চোখ বন্ধও করতে পারছিনা, রাজের মায়াবী মুখটা জ্বলজ্বল করে ভেসে ওঠে।
.
কি হলো, আপনাকে আর কীভাবে বলবো প্লিজ বের হয়ে যান কেবিন থেকে।
আপনার ছাঁয়াটাও দেখতে মন চাচ্ছেনা। ( রিত্ত)
.
কি করবো আমি যে পাপী তাই চোখটা মুছে হাসপাতাল থেকে বাসায় এসে পড়লাম।
.
বাসায় এসে শুয়ে শুয়ে কাঁদছি। মা এসে বলল" কী হয়েছে?
.
না মা কিছু হয়নি। মা চলে গেলে ফ্রেশ হয়ে রাজের ছবিটা দেখছি। হঠাৎ খাট থেকে কাঁচের ফ্রেমে বাঁধায় করা রাজের ছবিটা পরে যেতেই বুকটা ছ্যাঁত করে ওঠলো। নিচের দিকে তাকাতেই দেখি ছবিটা টুকরো টুকরো হয়ে গেছে! ভাঙ্গা ছবিটা বুকে নিয়ে চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছে করছে।
কারণ ছবিটার মতোই যে রাজ আমার জীবন থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। রাতে শুয়ে শুয়ে কাঁদছি আর আল্লাহকে ডাকছি।
একবার ভাবলাম এ জীবন রেখে কী করবো যে জীবনে রাজকে পাবো না!
আমি রাজকে ছাঁড়া যে এখন নিঃশ্বাস নিতেও পারিনা। আজ আমারি অবহেলায় দেওয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছে রিয়া মেয়েটা আমাদের ভালোবাসার মাঝে। জানিনা এ দেয়াল ভাঙতে পারবো কিনা, মরতেও পারবোনা।
আমার গর্ভে যে আরেকটা জীবন বড় হচ্ছে।
এখন আমি কি করবো। রাতে এশার নামায পড়ে, মহান আল্লাহ্ তায়ালার কাছে দু'খানা হাত তুলে বলতে লাগলাম" হে পরওয়ারদেগার জানিনা কীভাবে ডাকলে তুমি রাজি খুষি হবে, সে ভাষা আমার জানা নেই। হে আল্লাহ্ আমি তো আমার স্বামীকে ডির্ভোস দেয়নি।
তুমি জানো ডির্ভোস পেপারটা ছিঁড়ে ফেলেছি। আমি জানি আসি অনেক বড় ভুল করেছি। কি করবো এখন আমি রাজকে ছাড়া যে বাঁচবোনা। হে আল্লাহ্ রাজকে আমার করে দাও।
রাজের পায়ের নিচে আমাকে থাকার একটু ঠাঁয় করে দাও। এসব বলতে কাঁদতে লাগলাম। রাতে নামায শেষ করে বিছানায় গা টা এলিয়ে দিলাম। কিন্তু ঘুম আসছেনা চোখ বন্ধ করলেই রাজকে দেখি। কি করবো আমি যে রাজের সামনে গিয়ে দাঁড়াতে পারবোনা এ মুখ নিয়ে।রাতে হঠাৎ ঘুমের মাঝে স্বপ্ন দেখলাম রাজের বিয়ে হয়ে যাচ্ছে রিয়া মেয়েটার সাথে। রিয়া মেয়েটা রাজের বুকে মুখ লুকাচ্ছে।
এসব দেখে মনে হচ্ছে কলিজাটা কেউ ছিড়ে বের করে নিচ্ছে। নিজের অজান্তে চোখদিয়ে পানি বের হয়ে গঁড়িয়ে পড়তে লাগলো। হৃদয়টাতে কেউ ছুড়ি চালিয়ে দিচ্ছে। রক্তক্ষরণ হচ্ছে মনে হচ্ছে চিনচিনে ব্যথা করছে। আর বাকি রাতে ঘুম হলোনা। রাজের ভাঙা ছবিটা বুকের সাথে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলাম। আর চুমু দিতে লাগলাম ছবিটাতে।
.
সারারাত আর ঘুমালাম না! যদিও আবারো ঘুমায় আর যদি দেখি রাজের বিয়ে হয়ে যাচ্ছে তাহলে আবার হয়তো মরেই যাবো। আসি সত্যি বাঁচবোনা রাজকে ছাড়া দিন যাচ্ছে রাজের প্রতি ভালবাসা দৃঢ় হচ্ছে।
প্রতিটা নিঃস্বাস বলে রাজকে ছাড়া বাঁচা সম্ভব না। কিন্তু কি করবো এভাবে রাতটা কেঁটে যায়।
.
সকালে বাবা আমাকে নিয়ে হসপিটালে চেকাপ করাতে যায়।হসপিটালে গিয়ে,ডাক্তার মায়া হোড়কে দেখালাম। ডাক্তার মায়া হোড় বললেন,সন্তানের অবস্থা ভালো তবে আপনাকে আরো বেশি যত্ম থাকতে হবে। ঠিকমতো ঘুমাবেন, ঠিকমতো খাবেন। তা না হলে সন্তানের বড় কোন ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। আপনার শরীরের কন্ডিশন ভালোনা শরীরের কন্ডিশন আরো যদি খারাপ হয় বাচ্চা মারা পর্যন্ত যেতে পারে। তাই যত্মে থাকবেন। ডাক্তারের কথায় মাথা নাড়ালাম। বাবাকে বাহিরে দাঁড়িয়ে থাকতে বলে, রাজের কেবিনে গেলাম! রাজের কেবিনের কাছে যেতেই বুকটা চিনচিনে ব্যথা করতে লাগলো। জানালার পর্দা সরাতেই অবাক হলাম। সেদিনের রিয়া মেয়েটা আজকেও রাজের মাথার কাছে বসে আছে। মেয়েটা আজ নীল শাড়ি পড়েছে। হাতে নীল কাঁচের চুড়ি, রাজ যেমনটা পছন্দ করতো মেয়েটা তেমনই সেজেছে। মেয়েটাকে দেখে কি করবো ভাবতে পারছিনা মনে হচ্ছে দৌঁড়ে গিয়ে রাজকে বুকে জড়িয়ে নিয়ে বলি, " রাজ তুমি শুধু আমার"। একহাতে চোখের পানি মুছতেছি আরেক হাতে, জানালার পর্দা ফাঁক করে রাজের মায়াবী মুখটা দেখছি। কতদিন মনে হয় মায়াবী মুখটার হাসি দেখিনা। মেয়েটা হঠাৎ রাজের কপালে চুপু খেলো। মনে হচ্ছে জীবনটা কেউ ছিনিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।আর বাহিরে দাঁড়িয়ে থাকতে পারলাম না।রুমে গিয়েই মেয়েটাকে কষে একটা থাপ্পর মারলাম। এই মেয়ে আপনার লজ্জা করেনা আপনি আমার স্বামীর কপালে টুমু দেন। আমার স্বামীকে টার্চ করবেন না আপনি। আমি আমার স্বামীর ভাগ কাউকে দিতে পারবো না।
.
মেয়েটা থাপ্পর খেয়ে ফ্যালফ্যাল করে তাকাচ্ছে। মেয়েটাকে দেখে অনেক রাগ হচ্ছে। মেয়েটা কাঁদছে। কি করবো, বুঝতে পারছেনা! কিন্তু তাই বলে আমার স্বামীকে কিস করবে আমি ছেড়ে দিবো। হঠাৎ পিছন দিকে তাঁকিয়ে দেখি রিত্ত রাগি লুক নিয়ে তাঁকিয়ে আছে।
.
আপনার কি করে সাহস হয় রিয়াকে চড় মারার? ( রিত্ত)
.
আমার স্বামীকে কেন চুমু দিবে,আমি তাঁকে ছেড়ে দিবো?
.
জানেন ওটা কে হয়, আপনার সাহস কম নেই তো, তার গায়ে কোন সাহসে হাত তুলছেন। জানেন সে হচ্ছে ভাইয়ার""
.
থাক বাকি টুকু শুনতে চায়না! রিত্ত আমাকে ক্ষমা করে দাও! আমি রাজকে ছাঁড়া বাচঁবোনা। আমাকে যত কষ্ট দাও তবুও রাজের থেকে দূরে সরিয়ে দিয়োনা! আমি সত্যি মরে যাবো। কি করবো তখন বুঝিনি! এখন রাজ আমার নিঃশ্বাসের সাথে মিশে গেছে।রিত্ত আপু আমি তোমার পায়ে পড়ি।বড় হয়ে তোমার পায়ে ধরে বলি আমাকে ক্ষমা করে দাও তবুও আমাকে রাজের থেকে দূরে সরিয়ে দিয়ো না।
.
একি করছেন, পায়ে কেন ধরতে আসছে।। আপনার মতো সবাই না ক্ষমা করে দিয়েন আর আমার ভাইয়াকে ভুলে যাইয়েন। আপনার মতো মেয়ে আমার ভাইয়ার ভালবাসা পাওয়ায় যোগ্য না।ক্ষমা করবেন আমার ভাইয়া বাজারের কোন পণ্য নয়।( রিত্ত)
.
এদিকে রিত্তের কথা শুনে চোখের পানি ফেলা ছাড়া কোন উপায় নেই। রিয়া ক্ষমা করে দিয়ো আমাকে! এদিকে রিয়াকে দেখলাম কাঁদছে। তবুও মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ সূচক জবাব দিল। হঠাৎ নার্স বললো" এখানে রিত্তকে তাকে ডাক্তার সাথী যেতে বলল!
.
রিত্ত নার্সের কথা শুনে বের হয়ে গেল। আমিও পিছন পিছন বের হয়ে গেলাম। রিত্ত ডাক্তারের রুমে গিয়ে বসলো। আমি জানালা দিয়ে তাকাঁতেই দেখলাম ডাক্তারের রুমে, রাজের মা- বাবাও।
.
ডাক্তার কে যেন বলতেছে।
.
পর্দাটা সরিয়ে শুনতে লাগলাম ডাক্তার কি বলে। ডাক্তার যা বললো তা শুনার জন্য মোটেই প্রস্তুত ছিলাম না। মনে হচ্ছে হসপিটালের ছাঁদ থেকে ঝাপ দেয়।"" ডাক্তার সবাইকে বললো,দেখেন আপনারা আমাদের যা করার সবকিছুই করলাম। এখন আর আমাদের হাতে কিছু করার নেই। পেশেন্ট কুমোতে চলে গেছে। জানিনা আল্লাহ্ কি করবে,তবে আমাদের চিকিৎসা বিজ্ঞান বলে পেশেন্ট মারা যাবে আগামী ১২ ঘন্টার মাঝে। সত্যিটা অপ্রিয় হলেও এটাই সত্যি। আমাদের আর কিছু করার নেই। মৃত্যু সংবাদ শুনার জন্য প্রস্তুত হতে বলা ছাড়া আপনাদের কিছু বলার নেই।
হঠাৎ নার্স দোঁড়ে আসলো,রিয়া মেয়েটা কাঁদছে,।নার্স ডাক্তারের কাছে এসে বলতে লাগল " ম্যাডাম ২১ নাম্বার কেবিনের পেশেন্ট......
.
.
♥-----"To be Continue"---♥

Read More

গল্প :-
""অন্তঃস্বত্তা মেয়েকে বিয়ে""
.
লেখক:- #Nayem_Ahmed
.
100% কান্না করবেন challenge....শুধু শেষ পর্যন্ত সাথে থাকবেন....
.
★------পর্ব :- ১৬~~২~ ♥
নার্সকে বের হয়ে যেতে বললাম কিছুক্ষণের জন্য। নার্স প্রথমে না করলেও পরে আর অনুরোধে না করতে পারেনি।
.
নার্স চলে গেলে রাজের বুকেতে নিজের মাথাটা রাখলাম। চোখের পানিতে কাঁপড় ভেঁজে যাচ্ছে।বুকটাতে মাথা রেখে কেঁদে কেঁদে বলছি প্লিজ রাজ আমাকে ছেঁড়ে যেয়োনা। আমি বাঁচবোনা। তোমার বুকে না পারো এই অপরাধী মেয়েটাকে তোমার পায়ের নিচে একটু জায়গা দিয়ে। তুমি আমাকে ছেড়ে যেতে পারবে? তুমি নি বলেছিলে বাঁচতে হয় একসাথো মরতে যতি হয় একসাথে মরবে। তাহলে কেন আমাকে ছেঁড়ে চলে যাচ্ছো। আমি পবিএ কুরআন নিয়ে কসম করেছি, তোমাকে আর কষ্ট দিবো না। তুমি, আমাকে আর দূরে সরয়ে দিয়োনা। তুমি না আমার সাথে বৃষ্টিতে ভিজতে চেয়েছ। বৃষ্টির রিম ঝিম ফোঁটার সাথে, কথা বলতে চেয়েছো আমার হাত ধরে। ধরবে না আর আমার হাত। কদম ফুল হাতে নিয়ে বৃষ্টিতে ভিজে বলবে না আমাকে ভালোবাসো? তুমি না আমার কুলে শুয়ে জ্যোস্না দেখতে চেয়েছিলে,দেখবে না? কথা বলছো না কেন। আমি জানি আমি বড্ড বেশি অপরাধী, তবুও বলছি তোমায় আমাকে রেখে যেয়োনা। তিল তিল করে তোমার জন্য ভালোবাসা জমিয়ে রেখেছি। একটিবার শুধু আমাকে বউ বলে ডাকো! কি হলো " কলিজার টুকরা" কথা বলছো না কেন? মরার আগে আমাকে গলা টিপে মেরে যাও।কাঁদতে কাঁদতে, সমানে রাজের মুখে, কপালে বুকে চুপু খাচ্ছি। আর কাঁদছি। কলিজাটা ফেঁটে বের হয়ে যাচ্ছে।মনে হচ্ছে জীবনটা কেউ টেনে বের করে নিচ্ছে। বুকের মাঝে চিনচিনরে ব্যথাটা আরো তীব্র হচ্ছে। হঠাৎ পিছনে তাঁকিয়ে দেখি নার্স কাঁদছে।
.
ম্যাডাম প্লিজ রোগীর সাথে এমন করবেন না। এতে রোগীর ক্ষতি হবে। আপনাকে না করার ক্ষমতা নেই আমার। আমাদের মনেও ভালবাসা রয়েছে। কিন্তু আপনি যা করছেন তাতে পেশেন্টের ক্ষতি হবে।প্লিজ আপনি পেশেন্টকে একা থাকতে দেন।
.
নার্সের কথায় কিছু বলতে পারছিনা। রিত্ত পাশে দাঁড়িয়ে কাঁদছে কিছু বলছেনা। শুধু কেঁদেই যাচ্ছে।
.
রিত্ত তুমি কাঁদছো কেন?
.
ভাবী একটু বাহিরে আসবেন, কথা আছে আপনার সাথে।
.
আচ্ছা চল, কি যেন বলতে চেয়েছিলে? এখন বল।
.
ভাবী কীভাবে যে কথাটা বলি,তবুও বলতে হবে। জানো, ভাবী আমার ভাইয়াটা যে ভিতরে ভিতরে এতটা কষ্ট পাচ্ছে তা আগেই বুঝতে পেয়েছিলাম।এটাও বুঝতে পেয়েছিলাম,যে তুমি ভাইয়াকে অবহেলা ছাড়া কিছু দিতে পারনি। কারণ আমিও একটা মেয়ে ছেলেদের মুখের দিকে তাকালে ভিতরের কষ্টটা আঁচ করতে পারা যায়। আর আমার তো ভাইয়া, দুই দেহের এক আত্মা। জানো ভাবী, ভাইয়া মৃত্যুর ক্ষণ গুনছে, শুধু মৃত্যু বরণ করেছে এ কথাটা ডাক্তারের কাছ থেকে শুনা বাকী! আর আমি এটাও জানি যে, ভাইয়ার এ অবস্হায় জন্য তুমি দায়ী। আহ সকালে তোমার আলমারীতে ভাইয়ার লেখা সুসাইড নোটের মতো আরেকটা সুসাইড পায়। ওটা দেখে বুঝতে বাকি থাকে না যে, ভাইয়াকে তুমি নিজের হাতে ঘুমের ঔষধ মিশিয়ে খাওয়েছো। ভাইয়া সত্যিটা জেনেও হাসি মুখে মৃত্যুটা মেনে নিতে তোমার দেওয়া দুধটুকু খেয়ে নিয়েছে। ছিঃ ভাবী ছিঃ লজ্জা করছে আজ মেয়ে বলে পরিচয় দিতে, লজ্জা করছে তোমাকে ভাবী বলে পরিচয় দিতে। একটা মেয়ে স্বামীর বাড়িতে আসে কেন জানো? সবাই জানলেও তুমি জানো না জানবে কীভাবে যে মেয়ে স্বামীকে মারার প্ল্যান করতে পারে তাঁর কাছে জানতে চাওয়াটা বোকামী। আচ্ছা আমি বলছি শোন; প্রতিটা মেয়ে লালশাড়ী পড়ে স্বামীর বাড়িতে আসে। প্রতিটি মেয়ে যখন, কবুল! কবুল! কবুল! তিনবার পড়ে নেয় তখন তাঁর মনে এক প্রকার ভালবাসা সৃষ্টি হয়। কারণ বিয়ে পবিএ সম্পর্ক মহান আল্লাহ্ তায়ালার বিধানগুলির একটি। তিনবার কবুল একটা মেয়েকে নতুন জীবন দান করে। সারাজীবন পাশে থাকার জন্য আশ্রয় হিসেবে একটা বটবৃক্ষ পায় একটি মেয়ে। বাবার বাড়িতে যেমন সে বটবৃক্ষটি থাকে বাবা তেমনি বিয়ের পরে বটবৃক্ষটি হলো তাঁর স্বামী। স্বামী যতই খারাপ হয়, স্বামীর খেদমত করেই জান্নাত হাসিল করতে হয়। স্বামীকে বুঝাতে হয় কোনটা ভাল কোনটা খারাপ, স্বামীর হৃদয় জয় করে নিতে হয় ভালবাসা দিয়ে। আর প্রতিটা মেয়ে যেমন লালশাড়ী পড়ে স্বামীর বাড়িতে আসে তেমনি বের হয় সাদা পোষাক পড়ে। আর আপনি সেই স্বামীকে নিজে হাতে খুন করার জন্য এসব করেছেন। আমার ভাইয়ার কি অন্যায় ছিলো, আপনাকে পাগলের মতো ভালবাসা, নাকি আপনার জন্য লুকিয়ে কান্না করাটা আমার ভাইয়ার অপরাধ ছিলো। জানি বলতে পারবেন না, জানেন আপনার গর্ভের সন্তান যখনি শুনতে পেয়েছে মেয়ে হবে সেদিন থেকে প্রতিদিন একটা করে পুতুল কিনে নিয়ে এসে, কণা আপুর রুমের আলমারিতে রেখে দিতো। আর আপনি সেই পুতুল বাহিরে ফেলে দিয়েছেন। বাহ্ খুব মহৎ আপনি, খুব মহৎ, ভালবেসে বকুল ফুলের মালা নিয়ে এসেছিল আর আপনি পায়ের নিচে ভালবসসে আনা ফুল গুলো পিষ্ঠ করেছেন। কানের ঝুমকো জোড়া আপনি ডাস্টবিনে ফেলে দিয়েছেন। ভাইয়ার ভালবাসা কি এতই অপবিএ ছিল যার জন্য ডাস্টবিনে জায়গা হয়।লজ্জা করে মেয়ে বলে পরিচয় দিতে যে কিনা নিজের ভালবাসার মানুষটিকে চিনতে পারেনা। আপনি নারী জাতির কলঙ্ক। আপনার পাপের ছাঁয়া যেন ভাইয়ার উপরে না পড়ে। আমি চাইনা আপনার জন্য ভাইয়া নতুন করে কষ্ট পাক। আপনার জন্য আমি আমার ভাইয়াকে হারিয়ে ফেলছি। কি চান আপনি, আপনার জন্য আমাদের সুখের সংসারের হাসি নষ্ট হয়ে গিয়েছে। আর হ্যাঁ আপনাকে ভাইয়া ডির্ভোস দিয়ে দিয়েছে। আপনি আর আমাদের পরিবারের কেউ নাহ্। আপনাকে কখনো যেন আর ভাইয়ার পাশে না দেখি। আপনি ভাইয়ার পবিএ মুখটা পর্যন্ত দেখতে পারবেন না। আপনি একটা খুনী! শুধু খুনি না স্বামীর খুনি। আমার ভাইয়ার কিছু হয়ে গেলে আমি আপনাকে ছাঁড়বোনা। ( কেঁদে কেঁদে কথা গুলো বলল রিত্ত)
.
রিত্তের কথা শুনে টপ-টপ করে পানি পড়ছে চোখ থেকে। কলিজাটা ফেঁটে যাচ্ছে। হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। চোখের সামনে বারবার রাজকে অপমান করার অবহেলা করার, ঘৃণা করার, রাজকে ঘুমের ওষধ খাওয়ানোর দৃশ্য মনে পড়ছে। কি করবো, রিত্তের কাছে কী বলবো। আমি যে সত্যিই অপরাধী। রাজকে দেখার অধিকারটুকুও হারালাম। একবার রিত্তকে বলতে চেয়েছিলাম রাজ আমাকে ডির্ভোস দিলেও আমি ডির্ভোস পেপারে সাইন করেনি। কিন্তু কোন মুখ নিয়ে বলবো। কান্না ছাড়া আমার আর কিছুই করার নেই।
.
রিত্ত চলে গেলে, কাঁদছি, আর ভাবছি রাজকে শেষ বারের মতো একবার দেখে চলে যাবো। আর আমার অভিশপ্ত ছাঁয়া নিয়ে পাশে দাঁড়াবো না আর। এদিকে ঠিকমতো হাঁটতে পারছিনা। রাজের কেবিনে ডুকতেই দেখি........ ♥
.
.
♥-----"To be Continue"---♥

Read More

গল্প :-
""অন্তঃস্বত্তা মেয়েকে বিয়ে""
.
লেখক:- #Nayem_Ahmed
.
100% কান্না করবেন challenge....শুধু শেষ পর্যন্ত সাথে থাকবেন....
.
★------পর্ব :- ১৬~~~ ♥
.
.
রিত্তের কথা শুনে কথার পায়ের নিচে মাটি সরে যাচ্ছে। পৃথিবীটা কেমন যেন অন্ধকার মনে হচ্ছে। কিছুক্ষণ পর এমবুলেন্স করে রাজের লাশ নিয়ে আসলে কথা গিয়ে দেখি কফিনের ভিতরে রাজকে খুব সুন্দর লাগছে। আর কখনো রাজ তাকাবেনা সেই ভালবাসার দৃষ্টি নিয়ে "কখনো বলবেনা " কথা তোমাকে আজ অনেক সুন্দর লাগছে"! তুমি সত্যিই মায়াকাননী, রৃপবতী,। তুমি কল্পনায় রাণি কখনো বলতে পারবেনা"।
.
রাজের ঘুম আর কোনোদিন ভাঙবে না। কত সুন্দর ভাবে ঘুমিয়েছে! মনে হয় কেউ পাশ থেকে একটু চিল্লানি দিলে রাজের ঘুম ভেঙে যাবে। সবাই কাঁদছে, রিত্ত সবচেয়ে বেশি কাঁদছে। কিন্তু আমি কাঁদতে পারছি না। শুধু চোখ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে গাল থেকে টুপ-টুপ করে পড়ছে। খুব কষ্ট হচ্ছে! বুকের ভেতরে কলিজার ঠিক মাঝ বরাবর কেউ ছুড়ি চালিয়ে দিচ্ছে মনে হয়। একটু পর কেউ এসে রাজের মুখটা ডেকে দিলো। মায়াভরা মুখটা ডেকে দেওয়ার আগে মনে হচ্ছে রাজ চুপিসারে বললো" এই পাগলী কাদঁছো কেন? তুমি কাঁদলে যে আমার কষ্ট হয়, তুমি বুঝনা? "
আমি আর এখন থাকতে পারছিনা জোরে চিৎকার করে কাঁদছি! রাজ আমাকে তুমি ক্ষমা করে দাও। আমি তোমাকে খুন করেছি। আমার মতো অভাগীকে ক্ষমা করে দাও,যে পাহাড়সম ভালবাসা পেয়েও ভালবাসা টা হারিয়ে ফেললো অবহেলায়। কি করে বাঁচবো নিজেকে যে নিজেই শেষ করে দিয়েছি। এভাবে কাঁদতে কাঁদতে মাটিতে পরে গেলাম। এদিকে রাজকে সবাই দাফন করতে নিয়ে যাচ্ছে। সবাই রাজকে নিয়ে যযাচ্ছে।আর রাজকে দেখতে পারবো না। রাজকে আর চরিএহীন বললেও সে আর চোখের পানি ফেলবেনা। মনে হচ্ছে কলিজাটা কেউ ছিঁড়ে নিয়ে যাচ্ছে। আমি চিৎকার করে কাঁদছি,আর সবাইকে বলছি " তোমরা কোথায় নিয়ে যাচ্ছো আমার কলিজার টুকরা কে। আমার স্বামীকে অনেক কষ্ট দিয়েছি অন্তত্য একটু ভালবাসতে দাও আমাকে বুকে নিতে দাও আমার কলিজার টুকরাটাকে! নিয়ো না ওকে, রাজকে নিয়ো না, আমাদের রাইসা কাকে বাবা ডাকবে। প্লিজ তোমরা নিয়ে যেয়োনা রাইসার বাবাটাকে।আমার মেয়েটার মুখে বাবা ডাক না শুনিয়েই তোমরা কোথায় নিয়ে যাচ্ছো? প্লিজ নিয়ো না আমি বাঁচবোনা " আমার স্বামীকে ছাঁড়া।কেউ আমার কথা শুনছে না সবাই রাজকে নিয়ে চলে যাচ্ছে, আমি পারছিনা আর, এত কষ্ট হচ্ছে কেন আমার।আল্লাহ্ এত বড় শাস্তি দিয়োনা আমায়। এদিকে
রিত্ত, মা- বাবা সবাই বুঝাচ্ছে কিন্তু পারছিনা আমি নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
.
এই কথা কি হয়েছে? কাঁদছিস কেন এভাবে? আর কী সব বলছিস ঘুমের মাঝে !
.
মা রাজ মারা গিয়েছে, রাজকে ওই যে দাফন করতে নিয়ে যাচ্ছে। মা আমি রাজকে ছাড়া বাঁচবোনা! সবাইকে আকঁটাও মা, রাজকে নিয়ে যেতে দিয়ো না।
.
মা গ্লাসে করে পানি নিয়ে এসে কয়েক ফোঁটা পানি মুখে ছিটিয়ে দিলো। কথা মা তুই দুঃস্বপ্ন দেখছিস। রাজ বেঁচে আছে মা, তুই আর কান্না করিসনি। কান্না করলে তোর গর্ভের সন্তানের ক্ষতি হবে যে, তোর গর্ভে যে রাজের সন্তান। রাজের স্বপ্ন যে তোর গর্ভে বড় হচ্ছে মা।
.
এদিকে আম্মুর কথায় আর বুঝতে বাকি রইলো না আমি দুঃস্বপ্ন দেখছিলাম। মা'কে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বলতে লাগলাম" মা আমি রাজকে ছাড়া বাঁচবোনা। সত্যি মরে যাবো, রাজ যে আমার স্বামী আমার বেঁচে থাকার একমাএ অবলম্বন।"
.
হুম জানিরে মা! রাজের মতো ছেলে হয় না। রাজ নিজস্ব টাকায় একটা এতিম খানা পরিচালনা করতো। কিন্তু রাজের মা - বাবা পর্যন্ত জানতো না। কিন্তু রাজের অসুস্হতার জন্য, এতিমখানার অধ্যক্ষ এসে সব বলেছে। এতিম ছেলেরা হাসপাতালে বসে কাঁদছে। তাঁদের কান্নায় হাসপাতালের ডাক্তার রা পর্যন্ত কেঁদে দিয়েছে। এতিম ছেলেরা খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে রাজের কেবিনের বাহিরে বসে আছে। মা'রে রাজের কিছুই হবেনা মা চিন্তা করিস না মা! রাজের মতো ছেলে যে মায়ের গর্ভে জন্ম নিয়েছে সে মা বড় ভাগ্যবতী সে, বাবা বড় ভাগ্যবতী। মা'রে আমি সত্যি অনেক ভাগ্যবতী মেয়েটা'কে একজন সুপাএের হাতে তুলে দিতে পেয়েছি। আর হ্যাঁ রাজের শার্ট পড়ে শুয়ে না থেকে ফ্রেশ হয়ে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা কর। ( কথাগুলো বলে মা চলে গেল)
.
মা'র কথা গুলো কানে বাজচ্ছে।চোখদিয়ে টপ-টপ করে পানি পড়ছে। সত্যি পৃথিবীতে এত ভালো, মহান মানুষ হতে পারে?আর এত বড় মহান মানুষটাকে কত অবহেলা করেছি।স্বামীর অধিকার দেয়নি কখনো। স্ত্রী হয়ে স্বামীর গায়ে হাত তুলেছি। শুধু নীরবে কেঁদেছে। ইসলামে স্বামীর খেদমত করে জান্নাত হাসিল করতে বলেছে মহান আল্লাহ্ তায়ালা। কিন্তু আমি তো, তাকে অবহেলা, ঘৃণা অপমান ছাড়া কখনো ভালবাসতে পারিনি। পারিনি ভালবেসে বুকে টেনে নিতে। কখনো এক বিছানায় থাকিনি পর্যন্ত। কখনো কপালে ভালবাসার স্পর্শ একেঁ দিতে পারিনি। এতোটা ভালবাসা পাওয়ার পরও শুধু অবহেলায় করে গেছি। কখনো বুঝিনি, রাজের চোখ থেকে ঝড়ে পড়া প্রতিটি অশ্রুকণার কতটা ভালবাসা লুকায়িত। আমি হীরাকে কাঁচ ভেবে কত বড় ভুল করে ফেলেছি। যে মা এতো ভাগ্যবতী, যে ছেলেটা এতটা উদার মনের মানুষ, তাঁকে আমি জারজ সন্তান পর্যন্ত বলেছি। চোখটা আর বাঁধা মানছেনা! " আল্লাহ্ তুমি আমার জীবন নিয়ে রাজকে বাঁচিয়ে দাও"! রাজের শার্টটাতে এখনো রাজের গায়ের গন্ধ লেগে আছে! শার্টটা গায়ে দিয়েই রয়েছি। রাজের লেখা ডাইয়িটা বুকের সাথে শক্ত করে জড়িয়ে রেখেছি। সমানে ডাইয়ির লেখা গুলোতে চুমু খাচ্ছি। বুকটা কেঁপে কেঁপে ওঠছে।
.
কিছুক্ষণ পর বাবা আসলো। বাবা এসে রেডি হতে বলল।
.
বাবা রেডি হয়ে কী করবো?
.
হসপিটালে জামাই বাবাজীর কাছে যাবো রে মা তুই রেডি হয়ে নে প্লিজ। আর তোর ও চ্যাকাপ করতে হবে।
.
বাবার কথাতে ওয়াশরুমে গিয়ো শাওয়ার নিয়ে, আসরের নামায পড়,হসপিটালে রওয়ানা দিলাম। মনটা কেমন কেমন করছে। মনে হচ্ছে যদি রাজকে বুকে নিতে পারতাম,তাহলে বোধহয় অশান্ত মনটা শান্ত হতো। মায়াবী মুখটা দেখার জন্য পরাণটা জ্বলে যাচ্ছে। হাসপাতালে পোঁছানোর পর, রাজের কেবিনের সামনে আসতেই বুকঁটা ভেতর কেমন যেন চিনচিনে ব্যাথা অনুভব করতে লাগলাম। হঠাৎ রাজের কেবিনের বাহিরে অনেকগুলো বাচ্চা ছেলে - মেয়ে দেখলাম তাঁদের সবার মাঝে একটা মেয়েকে কেমন যেন পরিচিত লাগছে খুব। মেয়েটা খুব কাঁদছে তাই আস্তে আস্তে মেয়েটার কাছে যেতেই মনে পড়ে গেল। এটা তো সেই মেয়ে যে কিনা গাড়িতে,গাড়িতে ফুল বিক্রি করতো। রাজ এই মেয়েটার কাছ থেকেই বকুল ফুলের মালা কিনেছিল।
.
মেয়েটার কাছে গিয়ে কিছু বলার আগেই বলতে লাগলো" আপনাকে রাজ ভাইয়ার সাথে নিউ মার্কেট মোড়ে গাড়িতে দেখেছি না? "
হ্যাঁ আমাকেই দেখেছিলে, আমি তোমার ফুল কিনিনি সেদিন।
.
না ম্যাম সেদিন রাজ ভাইয়া আমার সব ফুল কিনেছিল। আর বলেছিল গাড়িতে যে মেয়েটা বসে আছে বকুল ফুলের মালাতে মেয়েটাকে কেমন লাগবে?
.
আমি সেদিন হেঁসে দিয়ে বলেছিলাম অনেক সুন্দর লাগবে ভাবীকে! আচ্ছা ম্যাম ক্ষমা করবেন আপনি বড় লোক আপনাকে ভাবী ডাকার জন্য।
.
আরে না না কি বলছো? আমি তোমাদের ভাবীন,রাজই যে আমার বেঁচে থাকার অবলম্বন।
.
আচ্ছা ঠিকআছে! জানো ভাবী, সেদিন সারাদিনে একটা ফুলও বিক্রি করতে পারছিলাম না। তোমাকে কিনদে বলেছিলাম তুমি আরো বকা দিয়েছো। জানো, আমি না সত্যি দুইদিন কিছু খায়নি। প্রথম দিন ফুল বিক্রির সবটাকে দিয়ে মা'র জন্য ঔষদ কিনে নিয়েছিলাম। তার পরের দিন সারাদিনে যখন একটা ফুলও বিক্রি করতে পারছিলাম না তখন, আপনাকে বলেছিলাম আপনি তাড়িয়ে দিয়েছিলেন। ভাইয়া সব ফুল কিনে আমার মায়ের চিকিৎসার সব খরচ নিয়েছিল। জানো আমরা গরীব কুঁড়ে ঘরে থাকি, তার পরেও ভাইয়া আমার মাকে মা বলে ডাকতো। কিন্তু একদিন মা মারা যায় ভাইয়া খুব কেঁদেছিল! আমিও তার পর থেকে ভাইয়া আমাকে তাঁর এতিম খানায় নিয়ে যায়। আমার মতো এদের অনেকের জীবনের গল্প এমনই। ভাবী আপনার কাছে একটা অনুরোধ করবো?
.
মেয়েটার কথায় চোখ দিয়ে অঝরো পানি আসছে, একটা মানুষের সাথে ৬ মাসের মতো ঘর করেও চিনতে পারলাম না। নিজেকে আজ বড়ই অভাগী মনে হচ্ছে।
.
আমার অনুরোধ টা কী করো ভাবী?
.
আচ্ছা বলো কী এমন অনুরোধ?
.
রাজ ভাইয়াকে কেউ দেখতে দিতে দিচ্ছে না আমাদেরকে। দয়া করে ভাইয়ার চাঁদমাখা মুখটা কী আমার মতো গরীব এতিম বোনটাকে কী দেখতে পারবে।
.
মেয়েটার কথায় নিজেকে ঠিক রাখতে পারলাম না। মেয়েটাকে বুকে জড়িয়ে নিলাম। আজ বুঝতে পারছি, মানুষকে ভালবাসতে পারলে কতটা শান্তি পাওয়া যায়। মেয়েটার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললাম হ্যাঁ রে তোর ভাইয়াকে দেখাবো! দেখাতেই যে হবে।
.
ডাক্তারকে বলে আমার কলিজার টুকরা, আমার রাইসার আব্বুটাকে দেখতে রুমেতে প্রবেশ করলাম। পিনপিনে নীরবতা, কিছুক্ষণ পর পর টিট- টিট শব্দ হচ্ছে। মুখে অক্সিজেন মাক্স লাগানো। কিছুক্ষণ পর ছোট মেয়েটা রাজের কপালে একটা পাপ্পি দিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বের হয়ে গেল। নার্সকে বের হয়ে যেতে বললাম কিছুক্ষণের জন্য। নার্স প্রথমে না করলেও পরে আর অনুরোধে না করতে পারেনি।

♥-----"To be Continue"---♥

Read More

গল্প :-
""অন্তঃস্বত্তা মেয়েকে বিয়ে""
.
লেখক:- #Nayem_Ahmed
.
100% কান্না করবেন challenge....শুধু শেষ পর্যন্ত সাথে থাকবেন....
.
★------পর্ব :- ১৫ ~~২~♥️
দোস্ত তোর মাথা ছুঁয়ে
প্রমিজ করলাম। কথাকে বিয়ে করে তোর
সন্তানের পিতৃপরিচয় বহন করবো।
.
দোস্ত রাজ তুই আমার কাঁধ থেকে একটি
পাপ মোচন করলি। দোস্ত আমি কিছু দেখতি
পারছিনা কেন। আমার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে
আসছে। খুব কষ্ট হচ্ছে আমার দোস্ত মৃত্যু এত
কষ্ট কেন। মনে হচ্ছে ভুতাঁ চাকু কেউ আমার
কলিজাতে ডুকিয়ে দিচ্ছে। গরুর চামড়া
যেমন করে মাংস থেকে আলাদা করে তেমন
করে কে যেন আমার চামড়া আমার শরীর
থেকে আলাদা করছে। দোস্ত আমাকে একটু
বুকে নিবি।একবার বুকে নে তোর অপরাধী
বন্ধুটাকে!( সজিব)
.
সজিবের কথা শুনে চোখ দিয়ে অঝরে
নোনা জল বের হচ্ছে। কষ্টে বুকটা ফেঁটে
যাচ্ছে মনে হচ্ছে হৃদপিন্ডে কেউ ছুঁড়ি
ডুকিয়ে দিয়েছে। কি করবো বামহাতে
রুমাল দিয়ে ছুড়িটা বের করে সজিবকে শক্ত
করে জড়িয়ে ধরলাম।এদিকে সজিবের
শরীরের শক্তি নেই, তবুও আমাকে বাহুডরে
আবদ্ধ করে নিলো। কিছুক্ষণ পর সজিবের
কোন শ্বাসঃপ্রশ্বাস নেই। হাতের স্পদর্ন
দেখি নেই। সজিব আর জীবনে চোখ
খুলবেনা। নিজের অজান্তেই সজিব বলে
কেঁদে দিলাম।
সজিবকে ফ্লরে রেখে দিয়ে বাম হাতে
ছুড়িটা নিয়ে দাঁড়ালাম। কি করবো ভাবতে
পারছিনা। হঠাৎ খুন বলে পিছন থেকে
কারো চিৎকার শুনতে পেলাম। পিছন দিকে
চেয়েই দেখি কথা।ভয়ে তাঁর হাত পা
কাপচ্ছে।
.
কাঁপতে কাঁপতে বললো" রাজ তুমি তোমার
বন্ধুকে খুন করে ফেললে। আমি তোমাকে
ছাঁড়বোনা। আমি তোমাকে ফাঁসিতে
ঝুলাবো। ( কথা)
.
কথা প্লিজ বিলিভ করো, আমি খুন করিনি।
সজিব নিজেই সু- সাইড করেছে।
.
ছিঃ লজ্জা করেনা খুন করেও। সামনে লাশ
পড়ে আছে। হাতে রক্তাক্ত ছুড়ি, রক্তমাখা
শরীর এর পরও খুন করনি বললেই কেউ
বিশ্বাস করবেনা,যে তুমি খুনি নও।( কথা)
.
কথা প্লিজ আমাকে বিশ্বাস করো, আমার
মায়ের কসম করে বলছি,সজিব সুসাইড
করেছে। আমি তাকে খুন করেনি।
.
হা,হা,হা খুনিদের কী মা বাবাও আছে
নাকি? খুনি তো সবসময় খুনিই হয়। তারা
কারো সন্তান হতে পারেনা। তাদের
জন্মের দোষ। তারা সমাজের জারজ
সন্তান। আর তুই খুনি। রাজ তোর গলায় আমি
ফাঁসির দড়ি ঝুলাইয়ে ছাঁড়বো। এটা আমার
চ্যালেন্জ।( কথা)
.
এদিকে কথার মুখে জারজ সন্তান কথাটা
শুনে, নিজেই বাকরুদ্ধ হয়ে গেলাম। মনে
মনে ভাবছি এভাবে বললে কখনো বিশ্বাস
করবে না। তাই ব্ল্যাকমেল করতে হবে।
আচ্ছা খুন সজিবকে আমি করেছি। এখন তকে
খুন করবো। তকে না শুধু তোর আদরের
ছোটবোন তোবাকেও। কারণ একটা খুন
করলেও ফাঁসি, দশটা খুন করলেও ফাঁসি। তাই
যদি ফাঁসিতে ঝুলতেই হয়, তোকে খুন করেই
ঝুলবো। কথাটা বলে ছুড়িটা কথার গলাতে
ধরলাম।খুব কষ্ট হচ্ছে কথার করুণ মুখটা
দেখে। কিন্তু কি করবো? সত্যটা যে আজ
মিথ্যার আড়ালে ঢাকা। এ ছাড়া যে আমার
কোন উপায় নেই।
.
প্লিজ আমাকে ছেড়ে দাও। আমি কিছু
দেখেনি। আর সজিব নিজেই সুসাইড
করেছে। তুমি করনি। (কাঁদতে কাঁদতে
কথাগুলো বলল কথা)
.
মনে থাকবে তো?
..
হ্যাঁ মনে থাকবে! ( কথা)
.
ওই আবার কাঁদছিস। একদম কাঁদবিনা। এর
পরের দিন সজিবের দাফন হয়ে গেলে।
কথাকে এক সপ্তাহ পর ফোন দিয়ে বলি যে
আমাকে যদি বিয়ে না করে তাহলে
তোমার গর্ভে যে সজিবের সন্তান এটা
কেউ বিশ্বাস করবেনা। কারণ তোমাদের
বিয়ের কোন ডুকোমেন্ট নেই। আর সবাই
তোমাদের সন্তানকে জারজ সন্তান বলবে।
এ লজ্জা,, ঘৃণায় তোমার বাবা সুসাইড
করবে। তোমার বোনকে কেউ বিয়ে
করবেনা। বল তুমি বিয়ে করবে নাকি
তোমার গর্ভে অবৈধ সন্তান তা তোমাদের
সবাইকে বলে দিবো?
.
কথা সেদিন কাঁদতে কাঁদতে বিয়েতে
স্বীকার হয়েছিল। বাসায় এসে শাওয়ার
ছেড়ে চিৎকার করে কান্না করেছিলাম।
কীভাবে পেয়েছি,আমার কলিজার
টুকরা,আমার ভালবাসার মানুষকে কাল
কাঁদাতে। কিন্তু এ ছাড়া কোন উপায় ছিল
না আমার।
.
দেখতে দেখতে বিয়েটা হয়ে গেলেও
কোনদিন কথার ভালবাসা পায়নি। পায়নি
স্বামীর বিন্দুমাএ অধিকার। মাঝরাতে ঘুম
থেকে ওঠে জ্যোৎস্নার দিকে চেয়ে
কাঁদতাম। সারাটা জীবন কথা শুধু আমাকে
ভুলই বুঝে গিয়েছে। তোবার গুছিরে মিথ্যা
কথা বলার জন্য, কথার সে অকাট্য গালি
এখনো কানের কাছে বাজে। খুব ভালো
লেগেছিল,নিউ মার্কেট মুড়ের পিচ্চি
মেয়ের হাতের সেই বকুলের মালা,এক
জোড়া কানের দুল। কিন্তু সে গুলো কথা
পড়েনি, বকুল ফুলের মালা কথার খোঁপাতে
শোভা না পেয়েছে তার পায়ের তলায়।
ভালবেসে আনা কানের দুল, ঝুমকো জুড়া
কথার কানে ঠাঁয় পায় নি পেয়েছে
ডাস্টবিনে ময়লা আবর্জনার ভিড়ে। খুব কষ্ট
হয়েছিল, সেদিন,অনেক কান্নাও করেছি।
তবে যেদিন তোবা আমাকে মিথ্যা ধর্ষণের
অভিযোগ করলো আর কথা তার বাহবা
দিলো সেদিন খুব কষ্ট হয়েছিল।কষ্টে বুকটা
ফেঁটে গিয়েছিল। তবে জীবনের সবচেয়ে বড়
কষ্ট পেয়েছি সেদিন,যেদিন কথা আমাকে
মারার জন্য নিপুণ প্ল্যান করেছিল সেদিন।
নিজের ভালবাসার মানুষের হাতে কয়জনই
বা মরতে পারে তাও এতটা ভালোবেসে।
তাই সবটা জেনেও, নিজে কথাকে সন্দেহের
হাত থেকে বাঁচাতে সুসাইডড নোট লিখি।
চোখের জলে সুসাইড নোট টা ভেঁজে গেলেও
মনটাকে এ বলে স্বান্ত্বনা দেয় যে,
ভালবাসার মানুষের হাতেই মৃত্যু হবে। তাও
যাকে নিজের থেকে বেশি ভালোবেসেছি
তাঁর হাতে।জানো কথা যেদিন আমাকে
দুধের সাথে ঘুমের বড়ি মিশিয়ে হয়তো
জীবনের শেষ খাওয়া খাওয়াও সেদিন
তোমাকে অনেক সুন্দর লাগবে হয়তো ।
অবাক নয়নে তাঁকিয়ে থাকবো তোমার
দিকে। জানিনা কতক্ষণ তোমার দিকে
তাকিয়ে থাকতে পারবো কি না?
.
আজকে রাতটাই হয়তো আমার শেষ রাত।
তাই দিনের বেলাতেই কিছু ভবিষ্যত লিখে
গেলাম। আর হ্যাঁ আমার মেয়েটার নাম
রাইসা রাখবে কিন্তু। আর তোমাকে অনেক
কষ্ট দিয়েছি, জানিনা ক্ষমা করবে কিনা
তবুও বলছি ক্ষমা করে দিয়ো আমায়।
জানিনা কোনদিন আমার লেখা ডাইরিটা
তোমার হাতে পরবে কিনা। তবে ডাইরিটা
যেন তোমার হাতে যাই সেই প্রার্থনা করি
আল্লাহর কাছে। সময় ভালো থেকে" বড্ড
বেশি ভালোবাসি তোমায়"!
ইতি " অতিথি পাখি"
" কথা ডাইরিটা পড়ে কান্না থামাতে
পারছেনা। এতটা ভালোবাসার পরও রাজকে
সে অবজ্ঞা করেছে। দিনের পর দিন অপমান
করেছে। অভিশাপ দিয়েছে। শেষে নিজে
হাতে ঘুমের ওষধ খাওয়াইছে। কথার চোখের
পানিতে ডাইরিটা ভেঁনজে যাচ্ছে। কথা
রাজের শাটটা গায়ে দিয়ে রয়েছে। বুকে
ডাইরি, আর ফুপিয়ে কাঁদছে। বার বার
রাজের ডাইরিটাকে চুমু খাচ্ছে। রাজের
ডাইরিটা এবং তার শার্টটা গায়ে জড়িয়ে
ঘুমিয়ে যায়।
.
হঠাৎ রিত্ত দৌঁড়ে এসে কাঁদতে কাঁদতে
বললো ভাবী ও ভাবী" ভাইয়া মারা
গিয়েছে"। ভাবী আমার ভাইয়াকে আর কি
ভাইয়া ডাকতে পারবোনা?"
.
রিত্তের কথা শুনে কথার পায়ের নিচে
মাটি সরে যাচ্ছে। পৃথিবীটা কেমন যেন
অন্ধকার মনে হচ্ছে। কিছুক্ষণ পর এমবুলেন্স
করে রাজের লাশ নিয়ে আসলে কথা গিয়ে
দেখি কফিনের ভিতরে রাজকে খুব সুন্দর
লাগছে। আর কখনো রাজ তাকাবেনা সেই
ভালবাসার দৃষ্টি নিয়ে.......
.

♥-----"To be Continue"---♥

Read More