গল্প :-
""অন্তঃস্বত্তা মেয়েকে বিয়ে""
.
লেখক:- #Nayem_Ahmed
.
100% কান্না করবেন challenge....শুধু শেষ পর্যন্ত সাথে থাকবেন....
.
★------পর্ব :-১০ ~~~ ♥
.
.
হা,হা,হা, খুনির আবার কষ্ট কিসের, তুই কিভাবে ভাবলি
আমার স্বামীকে খুন করার পরও তোকে
স্বামী হিসেবে মেনে নিবো! আজ দুধের
সাথে ২৭ টা ঘুমের পিল মিশিয়ে দিয়েছি! তুই নিশ্চিত
মৃত্যু বরণ করবি! অনেক কষ্ট দিয়েছিস আমাকে,
আমার বোনটাকে অন্তঃসন্তা করেছিস! তাই তো
হাতের লেখার মতো সুসাইড নোট লিখেছি! আর
তুই মারা গেলে সুসাইড বলে চালিয়ে দিবো!আজ
আমি অনেক খুশি আমার স্বামী হত্যার বিচার নিজ
হাতে করতে পেয়েছি। এই কথা বলে ,
বিদ্রুপের হাসি হাসতে থাকলো।
.
-- কথার হাসিটা আজ অনেক ভয়ংকর লাগছে, এতোটা
ভয়ংকর মনে হয় পৃথিবীতে কিছু নেই। চোঁখ
দিয়ে জল গঁড়িয়ে পড়ছে, খুব কষ্ট হচ্ছে, মৃত্যু
কষ্ট'টা যে এতটা বেদনাদায়ক।বিঁড়- বিঁড় করে বললাম
কথা তুমি সুখে থেকো, আর গর্ভের মেয়েটার
নাম 'রাইসা 'রেখো। হয়তো এটাই আমার শেষ
কথা। এর পর আর চোঁখ মেলে তাকাতে পারিনি।
নিঃশ্বাস'টা এই বুঝি বন্ধ হয়ে গেলো। এর পর আর
কিছু মনে নাই।
.
-- প্রতিদিনের সকালের মতো, আজও সকাল
হয়েছে, পাখি গুলো কিচিঁর - মিচির করছে,
পূর্বদিকে সূর্য'টা সকল অন্ধকার দূর করে আলোর
বার্তা নিয়ে এসেছে। কিন্তু রাজ এখনো চোখ
খুলেনি হয়তো, আর কখনো খুলবেও না, গত
কয়েক মাসের মাঝে আজ কথার তৃপ্তির ঘুম
এসেছে, কারণ কথা আজ তার স্বামী হত্যার
প্রতিশোধ নিতে পেয়েছে।
.
-- ভাবী, ও ভাবী দরজা খুলো কয়টা বাজে
দেখেছ!(রিও)
.
-- রিওের ডাকে কথা স্বাভাবিক ভাবে-ই দরজা
খুললো! দরজা খুলতেই রিও রাজের জন্য চা নিয়ে
গেলো!
.
-- ভাইয়া, ও ভাইয়া এভাবে মশায় মতো পড়ে, পড়ে,
ঘুমাচ্ছো ওঠো চা খেয়ে নাও বলে ধাক্কা দিতেই
রাজের কোন শব্দ নেই! ভাবী, ভাইয়া কথা
বলছে না কেন?( রিও)
.
-- রিওের ডাকে কথা রাজের কাছে স্বাভাবিক ভাবে
একগ্লাস পানি নিয়ে হালকা পানি মুখে ছিটা দেয়। কিন্তু
রাজ চোখ খুলছে না!
.
-- মা- বাবা কোথায় তোমরা'ও 'ভাবী ভাইয়ার কী
হলো, আমার ভাইয়াটা কথা বলছেনা কেন।( রিও)
.
- এদিকে রিওের ডাকে রাজের মা - বাবা এসে
দেখ রাজ কথা বলছেনা!
.
-- হঠাৎ রিওের চোঁখ যায়, টেবিলের উপর একটা
নীল খামের দিকে, । রিও নীল খামটা টেবিল
থেকে নিয়ে পরের, কান্না করে দিলো! না
আমার ভাইয়া এমন কাজ করতে পারেনা! মা ভাইয়া
ঘুমের পিল খেয়েছে, ভাইয়াকে হসপিটালে নাও
প্লিজ। ( কথা' টা বলতেই রিওের গলাটা ধরে
এলো)
.
-- কথা ৮ মাসের অন্তঃসন্তা ঠিকমতো নড়তেও
পারেনা। তাই রিও, রাজের মা -বাবা কথাকে বললো,
মা তুমি পরে এসো। আমরা রাজকে এডমিন করি
হসপিটালে, আবার তোমার কিছু হয়ে যাবে বলে
বের হতেই,: বাবা আমিও তোমাদের সাথে
যাবো আমি আমার স্বামীকে ছাঁড়া বাঁচবো
কেমনে কথাটা বলে ( অভিনয়ের কান্না করে
দিলো, যেন সন্দেহের তীঁর কথার উপর না
আসে)
.
-- এদিকে, সবাই রাজকে নিয়ে চলে গেলে, কথা
দরজা বন্ধ করে চোঁখের পানি মুছে, হা,হা, করে
হাসতে লাগলো, হাঁসিটা বড্ড ভয়ংকর রূপ ধারণ
করেছে ।হঠাৎ, টেবিলের ওপর নীল খামটা
দেখে অবাক হলো, কারণ কথা তো কোন
খামে সুসাইড নোট লেখেনি, তাহলে কথাটা
ভাবতেই মাথাটা কেমন যানি ঘুরতে লাগলো!
.
--- তাড়াহুড়া করে চিরকুটটা হাতে নিয়েই পড়তে
লাগলো,; প্রিয় বাবা,
এটা হয়তো আমার তোমাকে দেয়া প্রথম এবং
শেষ চিরকুট। বাবা আমি সত্যিই অনেক অপরাধী।
আমার ভাবতেও লজ্জা লাগে যে তোমার মতো
একজন মহৎ বাবার সন্তান হয়ে কেমনে পারলাম
এমন নোংরা কাজ করতে, । আমি আমার শ্যালিকা যে
কিনা আমার বোনের মতো তাঁর সাথে অশ্লীল
আচরণ করেছি। আমারি সন্তান তাঁর গর্ভে।ভাবতে
পারছিনা তোমার সন্তান হয়ে এমন কাজ করবো
কোন নারীর মোহে পড়ে। বাবা আর হ্যাঁ
অনেক ঠকিয়েছি, আমার অন্তঃসন্তা স্ত্রী টাকে।
বাবা তোমার কাছে অনুরোধ কথাকে তোমার
নিজ দায়িত্বে দেখে রাখবে, আর ভালো পাএ
পেলে তার হাতে তুলে দিবে।বাবা আমাদের
বংশে মরার পর প্রতিটা মেয়ে স্বামীর বাড়ি
ছেড়ে চলে যায়।বংশের ইতিহাসে কোনদিন
কেউ কাউকে ডির্ভোস দেয়নি কিন্তু আমি যে
বড় অপরাধী কথার আপন বোনের সাথে নষ্টামি
করার পর কথাকে স্ত্রী হিসেবে মেনে
নিতে পারিনি। তাই কথাকে আমার পাপের ছাঁয়াতলে
রাখতে চায়নি ক্ষমা করে দিয়ো। কথাকে বলো
আলমারিতে একটা খাম আছে তার ভিতরে ডির্ভোস
পেপার সেটাতে আমি সই করে দিয়েছি। কথা
যেন তাঁর দুশ্চরিএ অপরাধী স্বামীকে ক্ষমা
করে দেয়।
ইতি, তোমার অপরাধী সন্তান রাজ।
.
-- কথার বুঝতে বাকি রইলো না যে তাঁর চিঠি এটা নয়
এটা রাজের লেখা। কিন্তু কেন এমন করলো এসব
ভাবতে ভাবতে আলমারিতে থাকা খামটি বের
করেই দেখলো যে ডির্ভোস পেপার,
সেখানে রাজের সাইন করার জায়গা ফিলাপ। তাঁর মানে
কথা সাইন করলেই অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবে।
খামটার নিচে ছোট্ট আরেকটি খাম পেল।
সেখানে লেখা;
.
-- জানি কথা তুমি ভাবছো কেন এমন করলাম? তাহলে
শোন তুমি যখন সজিব হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার
জন্য সুসাইড নোট লেখ আমার হয়ে সেটা
কোখায় রেখেছিলে তা দেখে ফেলি। তখন
আর বুঝতে বাকি থাকেনা যে তুমি আমাকে
ভালবাসতে পারনি আর পারবেওনা, । সত্যিই তো
প্রকৃত অর্থে কোন মেয়েই তাঁর স্বামীর খুনি,
বোনের ধর্ষণ কারীর সাথে সংসার করবেনা
তুমিও ঠিক তাই করেছে। তোমাকে ভালবেসে
তো কিছু দিতে পারলামনা তাই হাসি মুখে নিজের
জীবনটাই দিয়ে দিলাম। কি করবো, পাপের
প্রায়শ্চিত করলাম হাজার হলেও যাকে ভালোবাসি তাঁর
চোখে আমি যে খুনি, অপরাধী। আর ক্ষমা
করে দিয়ো, সুসাইড নোট'টা আমার লেখার জন্য
কারণ তুমি আমার হাতের লেখা কপি করতে
পারোনি, আর যেভাবে কোন রিজন ছাড়া সুসাইড
নোট লিখেছ, তাতে সবাই তোমাকে সন্দেহ
করতো তাই আমিই লিখেছি। আর হ্যাঁ রাইসার খেয়াল
রেখো।
.
--- ইতি, খুনী,
.
-- কথা মনে মনে ভাবছে বেঁচারা সত্যিই আমাকে
যদি ভালোবাসতি তাহলে আমার বোনকে কেন
ধর্ষণ করলি। হা,হা, আজ আমার প্ল্যান সাকসেস ফুল।
আমার সমস্ত পথের কাঁটা আজ দূর হয়ে গেছে।
.
-- কথা ডির্ভোস পেপারটা নিয়ে বাসায় এসে পড়ে,
মনে মনে ভাবে খুনিটা সাড়েঁ- তিন হাত মাটির নিঁচে
গেড়ে ডির্ভোস পেপারে সাইন করবো।তাঁর
আগে করবোনা, অনেক কষ্ট দিয়েছে
আমাকে। অভিনয়ের স্ত্রী সেজে থাকতে
থাকতে আজ আমি বড্ড ক্লান্ত।
.
-- বাসায় গিয়ে কথা তার মাকে কান্না করে সব বলে
দেয় যে রাজ তোবার সর্বনাশ করেছে।
.
-- মা আমাকে ক্ষমা করে দাও আমার জন্য তোবার
জীবনটা নষ্ট হয়ে গেল। ( কান্না করতে
করতে কথা কথাগুলো বললো)
.
-- নারে মা তোর কোন দোষ নেই কাঁদিস না সব
ঠিক হয়ে যাবে। ( কথার মা)
.
-- মা তোবা কোথায়?
.
-- দেখ ওর রুমেই কি সব করছে ছোট বেলা যা
করছে ইদানিং তাই করছে।
এদিকে কথা রুমে ডুকতেই দেখে তোবা পুতুল
নিয়ে খেলছে।
.
-- তোবা ছোটবেলা থেকেই পুতুল
ভালোবাসতো তাই তাঁর বাবা- কিছু ভাবেনি।
.
-- তোবা বোন আমার কি করছিস পুতুল নিয়ে।
( কথা)
.
-- চুপ কথা বলোনা, দেখছো না আমার বাবুটা
ঘুমাচ্ছে, ওইতো জেগে যাবে। ( তোবা)
.
-- কি বলছিস পাগল হয়ে গেছিস? ( কথা)
.
--- জানো, আপু আমার পেটের বাবুটা কথা বলে
পুতুলটার মতো। বাবা - মা ওকে নিয়ে নিতে চাই,
আপু আমার বাবুটাকে কাউকে দিবোনা। ( তোবা)
.
-- তোবা কি করছিস এসব তকে যে এ অবস্হা
করেছে তাকে নিজের হাতে শাস্তি দিয়েছি।
প্লিজ বোন আমার পাগলামী করিস না, খেতে
চল। ( কথা)
.
-- এদিকে কথা খাবার কথা বলে চলে গেলে '
তোবা পুতুলটা ছুঁড়ে ফেলে হাসতে লাগলো।
.
-- এদিকে তোবাকে নিয়ে খাওয়া শেষ করে,
সবাই মিলে তোবার অজান্তে তোবার এবারশন
করার সিদ্ধান্ত নেয়া হলো। বাবা - মাকে বললাম মা
রাজ আমাকে ডির্ভোস দিলেও মানবিকতার দিকে
লক্ষ রেখে রাজকর দেখতে যাওয়া উচিত! ( কথার
মা- বাবা প্রথমে না করেও পরে সম্মতি দিলো)
.কথা মনেমনে ভাবলো যাক কেউ আমাকে
সন্দেহ করতে পারবে না, । এদিকে হসপিটালে
গিয়ে যা শুনলো তা শুনে কথার নাঁচতে ইচ্ছা
করছে। কারণ রাজ খুব হলে ২৪ ঘন্টা বাজবে,
বেঁচে থাকার কোন চান্স নেই। এওোগুলো
ঘুমের পিল খাওয়ার পর লিভার ড্যামেজ হয়ে
গেছে।
.
-- সবাই কাঁদছে, সব চেয়ে বেশি কাঁদছে রিও। কথা
অভিনয়ের ভাব নিয়ে, কেঁদে কেঁদে বলতে
লাগলো, কেন করলে তুমি আমার সাথে, আমরা না
ভালবেসে বিয়ে করেছিলাম, তোমার না তোমার
সন্তান রাইসাকে নিয়ে কতস্বপ্ন। কেন আমার
সাথে এমন করলে কী অপরাধ করেছি আমি,
কেন আমাকে দূরে সরিয়ে দিলে। আমি কাকে
নিয়ে বাঁচবো।
"" মা'রে তোর সাথে বড় অন্যায় হয়েছে।
রাজের হয়ে আমি ক্ষমা চাচ্ছি রাজ তোমাকে যে
ডির্ভোস দিয়েছে তা ভাবতে পারিনি।( রাজের বাবা)
.
-- না বাবা আমি আপনার মেয়ের মতোই! কেন
ক্ষমা চেয়ে কষ্ট দিচ্ছেন। বাবা আমি একটা
অনুরোধ করবো?( কথা)
.
-- হ্যাঁ মা কি অনুরোধ করবে বল( রাজের বাবা)
.
--- বাবা আমি কি আমার স্বামীর সাথে দেখা করতে
পারি? ( কথা)
.
-- আচ্ছা ডাক্তার কে বলছি!
.
-- বাবা, আমি রাজের সাথে একা দেখা করতে চায়!
( কথা)
.
-- আচ্ছা মা ঠিক আছে যাও( রাজের বাবা)
.
-- এদিকে কথা কেবিনে গিয়ে দেখে রাজের
মুখে অক্সিজেন মাস্ক লাগানো, কথা মনে মনে
বলতে আমি চাই তুর মতো ধর্ষণ খুনির ২৪ ঘন্টার
বাঁচার অধিকার নেই কথাটা বলে, কপালে একটা চুমু
দিয়ে বলতে লাগলো এটা তোর ভালবাসার
প্রতিদান। কথাটা বলেই অক্সিজেন মাক্সটা খুলে
ফেললো। রাজ মৃত্যুর যন্ত্রণার ছট-ফট করছে
এদিকে কথার খুব শান্তি লাগছে মিটি-মিটি হাসছে। হঠাৎ
দরজায় কারো পায়ের শব্দ পেয়ে অক্সিজেন
মাস্কটা লাগিয়ে দিয়ে মনে মনে বলতে লাগলো,
কপাল ভালো হাঁয়াত টা একটু বেড়ে গেল তোর!
কথা রাজের বাবা - মাকে বলে বাসায় চলে যাওয়ার নাম
করে সজিবের বাসায় যায়। কথার সজিবের রুমে
গিয়ে সজিবের ছবির কাছে গিয়ে ছবির উপর হাত
রেখে বললো ' প্রিয় স্বামী আমি তোমার
হত্যার প্রতিশোধ নিজ হাতে নিয়েছি। কথাটা বলে
সজিবের ছবি বুকে নিয়ে হারিয়ে গেলে ভার্সিটির
সেই দিনে, ফুলশর্য্যা রাতের কথা মনে পড়তেই
কথার চোখ গড়িয়ে পানি পড়ছে। অনেক ক্ষণ
সজিবের ছবিটা বুকের সাথে জড়িয়ে রাখলো,
তারপর ছবিটার কপালে চুমু দিয়ে বের হতেই
দেখে সজিবের খাটের নিঁচে একটা আন্টির
মতো কি যানি দেখা যায়!
.
-- আন্টি'টা হাতে নিতেই কথা অবাক হয়ে যায়, এটা
তো তোবার আন্টি এখানে কীভাবে এলো,
নাকি তোবাও এখানে এসেছিল। কথার মাথায় অনেক
কিছুই ঘুড়তে ছিল।তা হলে কি তোবা সবকিছুর
পিছনে রয়েছে। হঠাৎ কথার ফোনটা বেজে
ওঠলো!
.হ্যালো কথা মা তুই কোথায়, তোবাকে এবারশন
করতে নিতে যাচ্ছি, তুমি হসপিটালে এসে পড়ো।
( কথার বাবা)
.
-- এদিকে কথার বাবার কথা মতো, কথা হসপিটালে
গিয়ে এবারশন করার সব কিছু ঠিক- ঠাক করে
আসলেন!
.
-- ডাক্তার তোবার ডিএন এ টেস্ট করে অবাক হয়ে
গেলেন। যে সব রির্পোট ছিল সব ভূয়া। ডাক্তার
কথা, এবং তার মা বাবাকর যা বললো তা শুনে সবাই
অবাক হয়ে গেল! ডাক্তার বললো, প্রকৃত পক্ষে
তোবা অন্তঃসন্তা নয়.......
.
.
♥-----"To be Continue"--♥ -

গল্প :-
""অন্তঃস্বত্তা মেয়েকে বিয়ে""
.
লেখক:- #Nayem_Ahmed

.100% কান্না করবেন challenge....শুধু শেষ পর্যন্ত সাথে থাকবেন....
.
★------পর্ব :- ০৯~~~ 2
.
-- কথা, তোবার কথা শুনে মনে, মনে ভাবছে
ভালোই হয়েছে রাজকে এই সুযোগে
ডির্ভোস দেয়া যাবে! তার সাথে নিজের
বোনের গর্ভের সন্তান। আমি না হয়
সজিবের ভালবাসার সন্তানটার মুখ দেখেই
জীবনটা পার করে দিবো! মুক্তি পাবো
আমার স্বামীর খুনির কালো ছাঁয়া থেকে!
.
-- আপু কি হলো বলছো না কেন কিছু! আপু
ক্ষমা করে দাও তোমার ডির্ভোস এর কথা
বলা ঠিক হয়নি! আমি না হয় আমার
বোনটার সুখের জন্য নিজেকে কুরবানী করে
দিবো! ( তোবা)
.
-- চুপ কর বোন আমার! তোর হাসি মুখটা
দেখার জন্য এমন দুশ্চরিএ স্বামীকে হাজার
বার ডির্ভোস দিতে পারি! চিন্তা করিস
না!
.
--- এদিকে তোবা কথার মুখে ডির্ভোসের
কথা সুনে, ফোনটা রেখে দিয়ে, হি,হি,হি
করে হেসে দিলো! আর বলতে লাগলো" রাজ
বলেছিলাম না তোমাকে যে ভাবে হোক
আপন করে নিবো"! হা,হা,হা এখন কথা
রাজকে ডির্ভোস দিবে! আর আমি
রাজকে""""" থাক বাকিটা না হয় পরে জেনে
নিবেন।
.
--- এদিকে বিকেলে অফিস থেকে আসার
সময়, বেবী কর্নার থেকে দুইটা পুতুল কিনে
নিয়ে আসলাম "। দেখতে দেখতে আজ ৯ মাস
আর একমাস পরেই রাইসা আসবে আমার ঘর
আলোকিত করে আমি বাবা হবো, কথা মা
হবে। কথা তখন আর আমাকে দূরে সরিয়ে
রাখতে পারবে না।কথা বুঝবে তাকে কতটা
ভালোবাসি! এসব ভাবতে ভাবতে বাসায়
এসে দরজা লক না করে রুমে ডুকতেই দেখি
কথা কাপড় চেন্জ করছে! পুতুল দিয়ে মুখটা
ডেকে ফেললাম!নিজের কাঁছে কেমন জানি
লাগছে!
.
--- অ্যা, অ্যা তুমি এখানে কি হচ্ছে এসব
কারো রুমে আসতে অনুমতি লাগে! এই কথা
বলে কাপড় টা পড়ে নিলো!
.
--- সরি! আমি জানতে পারিনি তুমি চেইন্জ
করছো! জানলে হয়তো আসতাম নাহ্!আচ্ছা
বলো তো পুতুল গুলো কেমন হয়েছে? ( আমি)
.
-- হি,হি, আমি কি ছোট বাচ্চা যে পুতুল
দিয়ে খেলবো! ( কথা)
.
-- আরে তোমার জন্য না আমাদের মেয়ের
জন্য! ( আমি)
.
--- ওহ্ তাই বুঝি! কেমন করে ভাবলে ওইটা
তোমার মেয়ে হবে, এই কথা বলে পুতুল গুলো
ফেলে দিলো!
.
-- পুতুল গুলো ফেলে দেওয়ার দিকে তাকিয়ে
আছি।
.
---- আর শোন তোর মতো দুশ্চরিএ আমার
গর্ভের মেয়ের বাবা তো দূরের কথা আমার
মেয়ের নামও নিতে পারবি না! আর হ্যা ৬
মাস হতে তিনদিন বাকি, ডির্ভোস টা
দিয়ে দিবে তোমার কালো ছাঁয়া সজিবের
সন্তানের ওপর, আমাদের ভালবাসার
ফসলের ওপর পড়তে দিবো না। ( কথা)
.
-- কি বলছো এসব, আমি কি এতই খারাপ যার
জন্য এমন করছো! প্লিজ এমন
বলোনা,ডির্ভোস দিয়ে কিভাবে থাকবো
আমি! আমি মরেই যাবো! আমার সমস্ত
ভাবনা জুড়েই তুমি। একটা বার ভেবে দেখ
তো তুমি ; একটা মানুষ অন্য আরেকটা
মানুষকে কতটা ভালবাসলে অন্তঃসন্তা
মেয়েকে বিয়ে করতে পারে! শুধু তাই নয়
আজ পর্যন্ত স্বামীর অধিকারও ফলায়নি।
কথা সত্যি তোমাকে বড্ড বেশি ভালবাসি!
.
-- ঠাস- ঠাস, ওই পাপী মুখে ভালবাসার কথা
বলতে লজ্জা করেনা! ছিঃ তুই এতটা
নিলজ্জ, এতটা দুশ্চরিএ তোর বোনের মতো
আমারো বোন তোবাকে হোটেল এ নিয়ে
যেয়ে রুম ডেট করে গর্ভবতী করে
ফেলেছিস।এই তোর ভালবাসা, আমার মন
চায় তোর রক্ত দিয়ে গোসল করে নিজের
মনের জ্বালা মিটায়! ( কথা)
.
-- কথার মুখে তোবাকে নিয়ে এমন কথা শুনে
নিজের অজান্তেই বুকটা ফেঁটে কান্না
আসছে! চোখ দিয়ে অঝরে পানি পড়ছে! কিছু
না বলে কথার সামনে থেকে চলে গেলাম!
কী লাভ, তাকে সত্যটা বলে, তাকে যতই সত্য
বলি সে বিশ্বাস করবেনা! রেগে গিয়ে
গর্ভের সন্তানের ক্ষতি করবে! ফেলে
দেওয়া পুতুল গুলো কুঁড়িয়ে বুকে নিয়ে শুয়ে
রইলাম! রাতে শুয়ে শুয়ে ভাবছি অনেক
হয়েছে কাল ডির্ভোস পেপার দিয়ে দিবো!
তার সাথে মুক্তি দিবো সব ভালবাসার
বন্ধন থেকে, । সজিবের কথা মনে পগছে!
সজিবের সাথে এমন করাটা ঠিক হয়নি!
সজিব তো আমার বন্ধু ছিল! সত্যি কি আমি
ওকে বন্ধু ভাবতাম নাহ্! এসব ভাবতে ভাবতে
রাতে না খেয়েই সোফায় শুয়ে পড়লাম।
.
---- কথা রাতে ভাবছে, যদি তার জন্ম না
হতো পৃথিবীতে তাহলেই হয়তো ভালো
হতো। কি এমন পাপ করেছিলাম যার জন্য
এমন দুশ্চরিএের সাথে সংসার করতে হচ্ছে!
এসব ভাবতে, ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে যায়
কথা!!
.
--- কেমন আছো! এতো কান্না করো কেন?
তুমি কাঁদলে আমার খুব কষ্ট হয় জানো না।
প্লিজ তুমি আর কেঁদোনা সোনামনা!
( সজিব)
.
-- তুতুতু"""মি কথাটা বলতে কথার গলাটা
ধরে এলো!
.
-- হ্যাঁ তোমার ভালবাসায় আমাকে ফিরে
নিয়ে এসেছে! কি করবো আর থাকতে
পারলাম না তোমাকে যে বড্ড বেশি
ভালোবাসি!( সজিব)
.
--- আমি তোমাকে অনেক ভালবাসি তাই
তোমার খুনিটাকে স্বামীর অধিকার
দেয়নি! ( কথা)
.
-কথা তুমি আমার খুনের প্রতিশোধ নিবে
ছাড়বেনা রাজকে, ছাড়বেনা ওই খুনিটাকে
যে তোমার গর্ভের সন্তানটাকে তাঁর
বাবার কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে।
আমাকে তোমার কাছ থেকে তোমাকে
কেঁড়ে নিয়েছে! বলো প্রতিশোধ নিবে?
( সজিব)
.
--- হুমম আমি তোমার সন্তানের কসম করছি
তোমার খুনের প্রতিশোধ আমি নিবো- ই! ওই
তোমার ব্লেডিং হচ্ছে, তোমার বুকে ছুঁড়ি
ডুকানো কেন?
.
--এ ছুঁড়ি দিয়েই রাজ আমাকে খুন করেছে!
( সজিব)
.
-- খুননননননননন কথাটা কাঁপা -কাঁপা গলায়
বলতে গেলেই কথার ঘুম ভেঙ্গে যায়। কথার
ঘুম ভাঙ্গতেই পানি পিপাসারে জীবন বের
হয়ে যাচ্ছে, কথা টেবিলে গ্ল্যাসে রাখা
পানি খেয়ে ফ্লরে বসে ভাবতে থাকে কি
দেখলো সে, ! রাজ এভাবে তার স্বামীকে
খুন করেছে! এসব ভাবতে ভাবতে রাতে আর
ঘুম হলোনা!
.
--- সকাল এ ফ্রেশ হয়ে অফিস এ না গিয়ে
কুর্ট থেকে ডির্ভোস পেপার টা নিয়ে
বাসায় আসতেই বিকেল হয়ে যায়! বাসায়
এসে ফ্রেশ হওয়ার জন্য ওয়াশ রুমে ডুকতেই
একটা শর্ক খেলাম। কথা ওয়াশরুমের দরজা
লর্ক না করেই শাওয়ার নিচ্ছে!চোখ দুটি
দু'হাত দিয়ে বন্ধ করে ফেললাম!
.
-- হইছে আর লজ্জাবতীর মতো লজ্জা পেতে
হবে না! আমার সব জিনিস তোমার দেখার
অধিকার রয়েছে! আচ্ছা চোখটা খুলো কেমন
লজ্জা পেতে হবেনা দেখ কি দেখতে চাও!
( কথা
.
-- ওরে! আল্লাহ্ চোরের মুখে রামনাম! যাহ্
বলছো তাতেই অনেক। আচ্ছা তুমি শাওয়ার
নিয়ে এসো!( আমি)
.
-- যাহ্ দুষ্ট! এতো দুষ্ট কেন তুমি! কথাটা বলে
ওয়াশরুম থেকে দরজাটা লাগিয়ে দিলো!
.
-- রুমে এসে বসে পড়লাম! এসির মাঝেও
শরীরটা ঘামছে! আজ নিজেকে অনেক খুশি
- খুশি লাগছে!কথা আমাকে স্বামী
হিসেবে মেনে নিয়েছে!
.
--- হঠাৎ কথা টাওয়াল পড়ে রুমে আসতেই
আমি সেন্সলেন্স হয়ে গেলাস মনে হচ্ছে!
বিছানায় উপুড় হয়ে ষুয়ে পড়লাম!
.
-- মিনিট ৩০ মিনিট পর ডেস্রিং টেবিলের
দিকে তাকাতেই দেখি একটা নীল পরি
আকাশ থেকে নেমে এসেছে! কি সুন্দর
মায়াবী চোখের চাহনী! এলোকেশ থেকে
সূর্যমুখী তেলের সুবাস আসছে! মনে হয়
মাতাল করা চুলের সে গন্ধে নিজেকে
হারিয়ে ফেলি! বিয়ের পর আজ প্রথম
কথাকে নীল শাড়ি, নীল চুড়ি,আমার
পছন্দের পিংক কালারের লিপিস্টিক,
কপালে মাঝে কালো টিপ সবকিছু মিলিয়ে
স্বর্গের অপর্সীর মতো লাগছে! বিস্ময়ের
দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি! খুব ইচ্ছে করছে
গোলাপের পাপড়ীর মতো ঠোঁঠে নিজের
ঠোঁট টা মিলিয়ে দিতে!
.
--- কি দেখছে দুষ্টটা এমন করে!? ( কথা)
.
-- আমার নী পরীকে! ( আমি)
.
-- ওহ্ তাই! রাজ কাল রাতে তোমার কথা
অনেক ভেবেছি! তুমি আমাকে ক্ষমা করে
দাও! আমি বুঝতে পারিনি তুমি আমাকে
এতো ভালবাসো! তাই তোমাকে আজ রাতে
আপন করে নিবো! আমার বুকে আজকের পর
আর কোন কষ্ট থাকবে না! তোমাকে আমার
ভালবাসার সাগরে ডুবিয়ে দিবো! আমার
ডেবিলটাকে! ( কথা)
.
-- এদিকে রাত হতেই মনের মাঝে এক
অজানা ভালো - লাগা কাজ করছে!
কিছুক্ষণ পর কথা আসলো! এসেই বললো এই
দুষ্ট এখন ঘুমালে চলবে নাহ্! আচ্ছা তোমার
জন্য দুধ টা গরম করে নিয়ে আসলাম! খেয়ে
নাও শরীরে রাতে শক্তি পাবে! কথাটা
বলেই গ্লাসটা মুখে ধরলো! সম্পূর্ণ দুধটা টা
খেয়ে ফেললাম!
.
-- কথা আমার এমন লাগছে কেনো? চোখ বন্ধ
হয়ে আসছে! (আসি)
.
-- যাহ্ দুষ্ট আমাকে আপন করে নিতে যাচ্ছো
যে তার জন্য এমন লাগছে! ( কথা)
.
-- হি,হি,হি আমি জানতামনই না আমার
কলিজার টুকরা টা আমাকে এতো
ভালবাসে!
.
-- যাহ্ দুষ্ট আজ কোন কথা না বলে কথার
ঠোঁঠের ঊষ্ণ ছোঁয়া পেতেই শরীরটা কেঁপে
ওঠলো!
-- কথাকে ছাঁড়িয়ে বলতে লাগলাম, কথা
আমার খুব কষ্ট হচ্ছে! আমার নিঃশ্বাস বন্ধ
হৃযে আসছে!
.
--- হা,হা,হা, খুনির আবার কষ্ট কিসের, তুই
কিভাবে ভাবলি আমার স্বামীকে খুন
করার পরও তোকে স্বামী হিসেবে মেনে
নিবো! আজ দুধের সাথে ২৭ টা ঘুমের পিল
মিশিয়ে দিয়েছি! তুই নিশ্চিত মৃত্যু বরণ
করবি! অনেক কষ্ট দিয়েছিস আমাকে, আমার
বোনটাকে অন্তঃসন্তা করেছিস! তাই তোে
হাতের লেখার মতো সুসাইড নোট লিখেছি!
আর তুই মারা গেলে সুসাইড বলে চালিয়ে
দিবো.........
.
.
----"To be Continue"--

গল্প :-
""অন্তঃস্বত্তা মেয়েকে বিয়ে""
.
লেখক:- #Nayem_Ahmed

.100% কান্না করবেন challenge....শুধু শেষ পর্যন্ত সাথে থাকবেন....
.
★------পর্ব :- ০৯~~~
.
.তোবার মুখে অন্তঃসন্তা কথাটা শুনতেই
বুকের মাঝে এক অজানা চিন- চিনে ব্যথা
অনুভব করছে! হঠাৎ রিওের কথা মনে পড়ে
কণার সেই অন্তঃসন্তা হয়ে সুসাইড করার
কথা! মুহূর্তেরর মাঝে কথার পৃথিবীটা
অন্ধকারে ঢাকা পড়ে যেতে থাকে ""।
চোখের সামনে তোবার মুখটা ভেঁসে ওঠছে !
শেষ পর্যন্ত রাজ তোবার সাথে এমনটা
করলো? নাহ্ অনেক হয়েছে, আর না!। তোবা
বোন আমার কাঁদিস না প্লিজ। তোর
কান্না যে আমার কাছে মৃত্যুর চেয়ে
বেদনাদায়ক!
.
-- আপু আমি কি করবো গর্ভের সন্তানের কি
পরিচয় দিবো? সমাজ কি বলবে। আপু বাবা-
মাকে কি বলবো! আপু আমার আত্মহত্যা
করা ছাড়া কোন উপায় নেই! ( তোবা)
.
-- তোবা কাঁদিস নাহ্ তোকে নিয়ে
হসপিটাল থেকে এবারশন করে নিয়ে
আসবো! প্লিজ তুই কোন চিন্তা করিস না!
( কথাটা বলতে কষ্ট হলেও দাঁতে দাঁত চেপে
কষ্টের পাহাড় বুকে রেখে কথা গুলো বললো
কথা)
.
-- বাহ্! আপু, বাহ! তুমি কিভাবে বললে
এবারশন করতে।আমার ভিতরে থাকা ছোট্ট
জীবনটাকে মেরে ফেলতে। তোমার বরের
পাপ কেনো আমি মোচন করবো! আচ্ছা আপু
তোমার গর্ভের সন্তানকে এবারশন করতে
পারবে? দুজন একসাথে করলে কেমন হয়!
( তোবা)
.
--- তোবার কাছে নিজের সন্তানের এবারশন
করার কথাটা শুনতেই কলিজার মাঝে কেউ
যেন ছুঁড়ি চালিয়ে দিচ্ছে! কলিজা ফেঁটে
কান্না আসছে। কি বলে তোবাকে
সান্ত্বনা দিবে ভেবে পাচ্ছেনা কথা!
.
-- আপু তুমি কাঁদছো কেন? আমি জানি তুমি
তোমার সন্তানের এবারশন করতে পারবে
না! তাহলে আমি কেমনে পারব। তাই ভেবে
নিয়েছি সুসাইড করবো! ( তোবা)
.
-- প্লিজ বোন আমায় পাগলামি করিস নাহ্!
সব ঠিক হয়ে যাবে! (কথা)
.
--আপু কেমনে সব ঠিক হবে! আমার সন্তান
যখন হবে কি পরিচয় দিবো তার? আচ্ছা আপু
তোর কাছে আমার সন্তানের পিতৃ- পরিচয়
চায় দিতে পারবি, দিতে পারবি নিজের
স্বামীর ভাগ আমাকে দিতে? ( তোবা)
.
-- তুই, আমার কলিজার একটা অংশ তোকে
বাঁচাতে স্বামীর কেনো তাঁর চেয়ে বড়
ভাগও দিতে রাজি।( কথা)
.
-- তাহলে তুমি রাজকে ডির্ভোস দিবে! আর
রাজ আমাকে বিয়ে করবে! যেন সবাই বুঝতে
পারে আমার গর্ভের সন্তান কোন অবৈধ
সন্তান নয়! এছাড়া সমাজে মুখ দেখানোর
কোন রাস্তা নেয়! রাজ যদি আমাকে বিয়ে
না করে তাহলে আমার মৃত্যু ছাড়া কোন
উপায় নেই। ( তোবা)
.

গল্প:পাওয়া মেয়ে

ঢাকা থেকে খুলনা আসতে ছিলাম বাসে ।
আমার ঠিক সামনের সিট থেকে কান্নার আওয়াজ শুনতে পাচ্ছি।
কান্নার আওয়াজ শুনে মনে হল একটা মেয়ে কান্না করতেছে।
পাশের সিটে একজন মধ্য বয়স্কো লোক বসা ।
আমার মনে একটু সন্দেহ হলো কেননা টিভি নিউজ এ মাঝে মাঝে দেখি মেয়ে মানুষ কে পাচার করে,রেপ করে ,বিক্রি করে....ইত্যাদি ।

আমি একটু ভালো করে কান পেতে শুনতে ছিলাম লোক টি মেয়ে টাকে বলতাছে চুপ কর ছেমরি চুপ চাপ বইসা থাক ,তরে আমার আনাই ভুল হয়ছে
হালা রে কত কইরা বললাম এই ছেমরি আমার লাগবো না তাও তরে আমারে দিয়া দিলো.এখন চুপ চাপ বইসা থাক নাইলে কিন্তু তরে আবার দিয়ামো।
তার পর মেয়েটা আস্তে আস্তে কান্না করতে লাগলো ।
একটু পর লোক টি আবার মেয়েটাকে বলতাছে
অইনে যাইআ ভালো মত কাম করবি নইলে কিন্তু তরে ওরা মাইরা লাবে,আর এই বালের কান্না কাটি বন্ধ কর নইলে কিন্তু......

এইবার আমি কনফার্ম হলাম এই মেয়ে টা কোন খারাপ লোকের পাল্লায় পরছে।
বাস চলেছে আর আমি সময়ের অপেক্ষায় কখন মেয়েটার সাথে কথা বলা যাবে ।
বাস যখন মাওয়া ঘাটে পোছালো তখন মাওয়া ঘাটে প্রচুর জাম ।
কমপক্ষে ৪/৫ ঘন্টা লাগবে আর ঘাটে যে ফেরি আছে ওই টা ১ ঘন্টা পর ছারবে ।তার মানে আমরা পরে যে ফেরি আসবে সেই ফেরি তে যাওয়া লাগবে জামের কারনে।
বাসের ভিতর গরমের কারনে অনেক যাত্রী বাইরে বের হচ্ছে ।
কিছুখন পর ওই লোকটা বাইরে বের হলো।
আমি এই রকমই একটা সময়ের অপেক্ষা করতে ছিলাম।
আমি মেয়েটার পাসের সিটে বসলাম ।
মেয়েটার দিকে তাকালাম মেয়েটা বোরকা পরা শুধু তার চোখ টা দেখা যাচ্ছে ।
চোখ টা রক্তর মত লাল অনেক কেদেছে মেয়েটা।
আমি মেয়েটা কে বললাম কোন সমস্যা ।

মেয়েটা মাথা নারিয়ে না বললো।
আমি বললাম যদি কোন সমস্যা থাকে বলতে পারেন ।
মেয়েটা কিছুখন চুপ থেকে বললো
সমস্যা বলে কি হবে যেই সমস্যার কোন সমাধান নাই।
আগে বলবেন তো দেখি সমাধান করা যায় কি না ।
আমাকে বিক্রি করে দেছে খারাপ জায়গায়
সেখানে আমাকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ।

আপনাকে কে বিক্রি করে দিয়েছে,
আর আপনার পরিবার কোথায় থাকে।
মেয়েটা বললো আমার পরিবার বলতে কেউই নেই আমি একটা এতিম মেয়ে,
আর যারা আমাকে বিক্রি করছে তাদের আমি কাউকে চিনি না কিন্তু তাদের মধ্য একজন পুলিশ ছিল ।
এর মধ্যে এই মধ্যে বয়স্ক লোক চলে আসলো
আমি আস্তে করে আমার সিটে বসে পরলাম।

আমি ভাবতে লাগলাম
আমি কি মেয়েটাকে বাঁচাতে পারবো নাকি পারবোনা।
আমি যদি কোন আবার কোন সমস্যার ভিতর পরি।

লোক টি মেয়েটাকে বলতাছে আসে পাশে খাবার হোটেলে নাই।
সামনে হোটেল আমি যাইআ খাবার লইআ আই
তুই এইনে বইআ থাক আমি আইতাছি।
এই কথা বলে লোকটি চলে গেলো।
আমি আবার মেয়েটার পাশে গিয়ে বসলাম।

আর বললাম এখন কি করবেন ।
মেয়েটা বললো যানিনা।
আমি বললাম বাচতে হলে একটা উপায় আছে।
মেয়েটা বললো কি উপায় ?
এখান থেকে পালাতে হবে।
কিন্তু আমি পালিয়ে কোথায় যাবো।আমার তো আপন বলতে কেউ নেই এই দুনিয়াতে।
সেটা এখন ভাবার বিষয় না।
কিন্তু আপনি আমাকে নিয়ে কোথায় যাবেন?
সেটা পরে ভাবা যাবে।
কিন্তু?
কিন্তু কি? এই লোকটা চলে আসবে।যদি বাঁচতে চান তাহলে এখান থেকে এখনই পালাতে হবে।

মেয়েটাকে দেখে মনে হচ্ছে ভয় পাচ্ছে ।

দেখেন আপনি আমাকে বিশ্বাস করতে পারেন
আমি আপনার কোন ক্ষতি করবোনা ।

মেয়েটা আমার চোখের দিকে কিছুখন তাকিয়ে থেকে বললো চলুন ।

আমি মেয়েটাকে নিয়ে সোজা বাস থেকে নেমে ফেরিঘাটের দিক হাটা শুরু করলাম।

ফেরিঘাটে যেয়ে দেখি ফেরি চলে গেছে
এখন কি করবো কিছু বুঝতাছিনা।
এখন স্টিমার বোটে যাওয়া ছাড়া কোন উপায় নাই ।

মেয়েটা বললো কোথায় যাবো আমরা এখন
ভয়ে ভয়ে বললো কথা টা।

আমি বল্লাম আমার দাদা বাড়ি ।

তার পর

স্টিমার বোটে উঠলাম
অনেক গতিতে চলছে
কিছু খন পর মেয়েটা অন্যদিকে ফিরে মুখের উপর থাকা মুখোস টা মাথার উপরে উঠেয়ে হাতটা মেলে আকাসের দিক তাকিয়ে রইলো ।

তারপর মেয়েটা মুখোসটা ঠিক করে আমার পাশে এসে বসলো ।
জানেন আমি এই প্রথম নদী দেখলাম।(মেয়েটা)
মানে, আপনি আগে পরে কখনও নদী দেখেন নাই।(আমি)
না , আমি সব সময় এতিমখানার ভিতরই থাকতাম।(মেয়েটা)
আপনার আপন বলতে কেউ কি নেই(আমি)
জানিনা আছে কিনা। বলেই মেয়েটা কান্না করতে লাগলো।
কান্না বন্ধ করুন মানুষজন খারাপ ভাববে ।

বোট থেকে নামার পর আমার চাচাতো ভাইরে ফোন দিলাম।
হ্যাঁলো সাকিল।(আমি)
কেমন আছো ভাইয়া।(সাকিল)
ভালো, আমি আসতাছি বাড়ি ।
সত্যি ।
হুম।
এর কে কে আসবে।(সাকিল)
একটা মেয়ে আছে আমার সাথে ও আসবে।(আমি)
কে ভাইয়া মেয়েটা।(সাকিল)
আমি আসি তারপর বলবানি।(আমি)
থাক আর বলা লাগবে না আমি বুঝছি ।(সাকিল)
কি বুঝ....বলার আগেই ফোনটা কেটে দিলো।

তারপর
মেয়েটাকে বললাম কিছু খাবেন
মেয়েটা মাথা নারিয়ে না বললো।

তারপর আমি জোর করে হোটেলে নিয়ে গেলাম
মহিলা ওয়াশ রুম দেখিয়ে দিয়ে বললমা হাত মুখ ধুয়ে টেবিলে আসুন।
আমিও হাত মুখ ধুয়ে খাবার টেবিলে আসলাম

ওয়েটার টেবিলে খাবার দিতাছে এর ভিতর
মেয়েটা আমাকে বললো
আমি কি এখানে বসে খাবো।
তো কোথায় বসে খাবেন।(আমি)
না আমি এখানে বসে খাবো না।(মেয়েটা)
কেন?
এখানে অনেক লোকজন আর পুরুষ আছে তাই।
আমি আর কোন কথা বললাম না।
ওয়েটার বললাম
ভাই এখানো কোন আলাদা খাওয়ার জাগা আছে ।
হুম এইখানে।
আপনি ওনাকে এইখানে নিয়ে যান আর ওনার খাবারটা এইখানে দিয়ে আসেন।(আমি)
ওকে।
তার মেয়েটাকে বললাম
আপনি এইখানে যেয়ে খেয়ে আসুন
মেয়েটা কিছুখন তাকিয়ে থেকে চলে গেল।
খাওয়া দাওয়া শেষে বাসে উঠলাম দাদা বাড়ি যাওয়ার জন্য ।
রাত ৮টার সময় দাদা বাড়ি পৌছালাম ।
বাড়ির ভিতর ঢুকে আমি একটু অবাক হলাম ।
আমার দাদা দাদি ৪ চাচা চাচি ২ফুফু ভাই বোনে পুরা ঘর ভরা।
সাকিল আমার পাশে এসে বললো চলো ভাইয়া।
বলে একটা রুমে নিয়ে যাচ্ছে ছিলো আমি মেয়েটাকে দেখিয়ে শাকিল কে বললাম ও
সাকিল আপু ডাক দিয়ে বললো
আপু তুই ভাবি কে নিয়ে যা।(সাকিল)
ভাবি মানে।(আমি)
সাকিল মুচকি মুচকি হাসতাছে।

আমি মেয়েটাকে বললাম
এনাদের সামনে একটুও কান্না করবেন না
মেয়েটা মাথা নারিয়ে ঠিক আছে জানালো।
আপু আমার সামনে এসে বলতাছে
অনেক বড় হয়ে গেছিস
মানে(আমি)
মেয়েটাকে দেখিয়ে এ যে বলে আপু মেয়েটাকে নিয়ে অন্য রুমে চলে গেল।
আমি রুমে এসে ফ্রেশ হয়ে বের হওয়ার সাকিল আমার হাতে একটা পান্জাবি দিয়ে বললো পরো এটা ।
আমি বললাম না আমার জামা কাপুর ব্যাগে আছে।।
তারপর ও পরো দাদা পরতে বলছে।(সাকিল)
আমি পরে বের হলাম।

তারপর দাদার পাশে বসলাম
দাদাকে বললাম কেমন আছো ।
তারপর দাদা আমাকে জড়িয়ে দরে কান্না করতে লাগলো
আর বললো তোর মা বাপ এখন ও আমার উপর অভিমান করে আছে
আমি ফোন করছিলাম তোর আব্বু আম্মু
কে তারা সকালে আসতাছে
আমি অবাক হয়ে গেলাম এই ২১ বছর পর দাদা আমার আব্বু আম্মুর সাথে কথা বললো
আমার মা বাবা প্রেম করে বিয়ে করছিলো বলে মেনে নেই নি ।
আমার দাদা তার ভাইয়ের মেয়ের সাথে আব্বুর বিয়ে ঠিক করছিলো।
কিন্তু আমার আব্বু বিয়ের তিন দিন আগে পালিয়ে বিয়ে করে ।
তারপর দাদার কাছে আসছিলো দাদা মেনে নেই নি।(আরো অনেক কথা অন্য একদিন বলবো)

তারপরে সবার সাথে কথা বললাম
মেঝো চাচিকে জিগ্যাসা করলাম চাচা কই
বললো অফিসে।
(আমার মেঝো চাচা কাজি)
এতো রাতে অফিসে।(আমি)
এখনি চলে আসবে(চাচি)
তারপর দাদি আমাকে বললো।
মেয়েটার নাম কি?

আপু চিল্লায়া বললো মিষ্টি
দাদি বললো দেখতে যেমন মিষ্টি নাম ও মিষ্টি

সবাই মেয়েটার মানে মিষ্টির প্রশংসা করতে লাগলো।
আমি একটু রুমের বাইরে এসে মুসকান কে ফোন দিলাম।

চলবে.....................................

------- # _যদি_একটু_সময়_হয়_গল্পটা_পড়বেন ------
ক্যান্সার আক্রান্ত ‘মেয়েটি’ তার
প্রেমিককে বলেছিলো”—– “আমিতো ‘মরে’
যাবো”!!!"
“কিন্তু, তোমাকে “ভালবাসবে কে,,???"
“কে দেখে রাখবে,,???"
“কে তোমায় “শাসন করবে,,???"
“ঝগড়া করবে কার সাথে,,???"
“তোমার তো রাত জাগার স্বভাব”!!!"
“না খেয়ে থাকার বদ অভ্যাস”!!!"
“কে তোমাকে বকা দিয়ে খাওয়াবে,,???"
“কে ‘গান শুনিয়ে ঘুম’ পাড়াবে,???"
“তুমি বরং একটা ‘বিয়ে’ করে নাও”!!!"
“আমার মৃত্যুর আগেই প্লিজ”!!!"
“আমি অন্তত দেখে যেতে চাই”—- “তুমি
ভালো থাকবে”, “আমি না থাকলেও” !!!"
“ছেলেটি ফুপিয়ে ফুপিয়ে কেঁদে,
“মেয়েটিকে বুকে ‘জড়িয়ে’ ধরে
বলেছিলো”—– “চুপ একদম চুপ”!!!"
“তোমার কিচ্ছু হবেনা”!!!"
“তুমি ছাড়া আমি আর কারও হতে
পারিনা”!!!"
” হবোনা কোনদিন”!!!"
“আমি তোমাকেই “ভালবাসি”!!!"
” তুমিই আমার “পাগলী”!!!"
“তুমি ‘মরবে না”!!!"
“মরতে পারোনা”!!!"
“স্রষ্টা এমন করতে পারেনা”!!!"
“মেয়েটির চোখ বেয়ে “অশ্রু গড়িয়ে
পড়ছে”!!!"
“বুকের কষ্ট গুলো ছাঁইচাপা আগুনের মত ফুঁসে
উঠেছে”!!!"
“এমন “ভালবাসার মানুষকে ছেড়ে যেতে
হবে,,???"
‘“মেয়েটি বললো জানো”—- “আমার
অন্ধকারে খুব ‘ভয় লাগে”!!!"
“অথচ দেখো কদিন পর চিরস্থায়ী অন্ধকারে
থাকতে হবে”!!!"
“বলোনা কি করে থাকবো,,???"
“খুব ইচ্ছে করছে তোমার বুকে মাথা রেখে,
“সারাজীবন আলোয় থাকতে”!!!"
“ছেলেটির চোখে মুখে ‘অশ্রুজলে’
মাখামাখি”!!!"
“দুইজন দুজনকে বুকের মাঝে ‘জড়িয়ে কেদে
যাচ্ছে নিরবে”!!!"
“এই ঘটনার কিছুদিন পর”—– “মেয়েটির মৃতু্য
হয়”!!!"
“ছেলেটি প্রতি রাতে, “মেয়েটির কবরের
পাশে বসে থাকে”!!!"
“একের পর এক ‘মোমবাতি জ্বালিয়ে,“মেয়
েটির কবর আলোকিত করে”!!!"
“রাতে ঘুমায়না এইভেবে যে”—— “মেয়েটি
অন্ধকার সহ্য করতে পারেনা”!!!"
‘ “ইদানীং ছেলেটিরও ‘ক্যান্সার’ ধরা
পরেছে”!!!"
‘খুব টেনশনে আছে ছেলেটি”!!!"
” মৃত্যুর চিন্তা না”!!!"
“ছেলেটি ভাবছে সে চলে গেলে, “কবরে
‘মোমের আলোজ্বালাবে কে,,???"
“মেয়েটি যে অন্ধকারে খুব ভয় পায়”!!!"
“ভালো থাকুক ‘পবিত্র ভালবাসা’
ওপারেও”!!!"
“হৃদয়ের বন্ধনে আন্তরিকতার টানে”!!!"
# কেমন_লাগলো_কমেন্টে_জানাতে_ভূলব
েন_না ...
------------------------------------------------------------
--------------
“““লেখার মধ্যে ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমার
দৃষ্টিতে দেখবেন„„„

Peter Nayeem उसने प्रोफ़ाइल तस्वीर बदल दिया है
8 साल

image

A best friend of mine❤
#Prithwy
Prithwy Zit Zit

image

Thugs✌
Prithwy Zit Zit
#Prithwy

image
Prithwy Zit उसने प्रोफ़ाइल तस्वीर बदल दिया है
8 साल

image

গল্প :-
""অন্তঃস্বত্তা মেয়েকে বিয়ে""
.
লেখক:- #Nayem_Ahmed
.
100% কান্না করবেন challenge....শুধু শেষ পর্যন্ত সাথে থাকবেন....
.
★------পর্ব :- ০৮~~~ ♥
.
.
আমরা ক্নিনিকে যাচ্ছি নাহ্! আমি তোর
মতো কোন দুশচরিএবান ছেলের সাথে ঘর
করতে পারবো না! তাই কোর্টে যাচ্ছি
ডির্ভোসের জন্য । (কথা)
.
-- তুমি কি ফার্ন করছো?
.
-- হা,হা,হা, ফার্ন কেন করবো? ( কথা)
.
-- কথার কাছে ডির্ভোসের কথা শুনে বুকটা
যেন ফেটে যাচ্ছে! কোন রকম চোখের জল
টা মুঁছে গাড়ি নিয়ে বের হলাম! রাস্তা
দিয়ে যাচ্ছি আর বারে, বারে কথার দিকে
তাকাচ্ছি কি মায়াবী চেহারা!
.
-- হঠাৎ জ্যামের মাঝে গাড়ি আঁকটে যায়।
গাড়িতেি বসে আছি।
.
-- ম্যাডাম ফুলটা নেন। মাএ দশ টাহা দেন
আজ দু'দিন ধরে কিছু খায়নি!( একটা সাত
বছরের মেয়ে)
.
-- যওোসব এদের জাল্বায় রাস্তায় বের হওয়া
যায়না! ( কথা)
.
-- কথার দিকে চশমা'টা নিচু করে একটু
তাকালাম! মনে, মনে ভাবছি মেয়েরা
নাকি মায়ের জাত তাহলে এই রকম কেনো?
.
-- মেয়েটা চলে গেলো! মেয়েটার চলে
যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আছি! এদিকে
গাড়িতে কথাকে বসিয়ে রেখে, গাড়ি
থেকে নেমে পড়লাম! এই যে, আপু তোমার
নাম কী?
.
--আমার নাম রিয়া।( মেয়েটা)
.
-- ওহ্ সুন্দর নাম! তা তোর মা - বাবা নেই?
.
-- বাবা,কে জানিনা তবে একটা মা আছে।
মা নাকি আমাকে কুড়িয়ে পাইছে!
( মেয়েটা)
.
-- সাহেব আমি যাইগে,, আজ ফুল বিক্রি না
করতে পারলে মার জন্য ওষধ কিনতে পারুম
নাহ্!( মেয়েটা)
.
-- ওহ্ আচ্ছা!! কিছু খাইছিস?
.
-- নাহ্ সকালে ৫ টাহা দিয়ে একটা" বন
পাউরুটি" খাইছি। (মেয়েটা)
.
-- আচ্ছা তোর কাছে কতটাকার ফুল আছে?
.
-- স্যার, ১০০ টাকার।( মেয়েটা)
.
-- সবগুলো আজ আমি নিলাম! এই নে ৫০০
টাকা। ( আমি)
.
-- স্যার এওো টাকা, স্যার ভাংতি নেই।
( মেয়েটা)
.
-- ভাইয়া ডাকলি যে তাই আজ না হয় তোর
বড়- ভাই তার মায়ের ওষুধের কেনার টাকা
দিলো। এই নে, আমার কার্ড । কখনো কোন
প্রয়োজন হলে দেখা করিস.।কি হলো? তুই
কাঁদছিস কেনো? জানিস না ভাইয়ের
সামনে বোন কাঁদলে পায় কষ্ট পায়।
.
-- ভাইয়া, তুমি সত্যি আমার ভাইয়া।
ভাইয়া আমায় একটু বুকে নিবে? বলে জড়িয়ে
ধরলো নিজের অজান্তে চোখের কোণে
পানি এসে পড়লো!
.
-- এদিকে গোলাপ- আর বেলী ফুল গুলো
নিয়ে কথাকে দিলাম!
.
-- ফুল আমাকে দিলে কেন?( কথা)
.
-- তোমায় ভালবাসি! আর ফুলের মতো সুন্দর
তুমি তাই দিলাম তোমাকে।
.
-- আচ্ছা আমরা যেন কোথায় যাচ্ছি জানো
ডির্ভোস নিতে আর তোর মতো খারাপ
ছেলের হাতে ফুল শোভা পায়না বলে ফুল
গুলো ডাস্টবিনে ফেলে দিলো ( কথা)
.
-- মনে মনে ভাবছি আমি না হয় দোষ
করেছি ফুল গুলো তো কোন দোষ করেনি।
তাহলে কি কথার মনে একবিন্দু ও ভালবাসা
নেই আমার জন্য!
.
-- এদিকে কুর্টে এসে সব কিছু বলার পর কুর্ট ৬
মাস সময় দিলো তারপর ডির্ভোস হবে!
.
-- মনে,, মনে ভাবছি তাও কয়েকটা মাস
ভালবাসার মানুষের অবহেলা পাবো!
.
-- দিনগুলি ভালোই কাটছিল!
.
-- দেখতে দেখতে কথার আজ ৭ মাসে পূর্ণ
হলো এদিকে বাড়িতে খুশির আমেজ চলছে।
আল্টা- সনোগাফ্রী করছে আমার নাকি
মেয়ে হবে।
.
-- মা - বাবার দিকে তাকানো যায়না।
তাঁরা অনেক খুশি রিও তো সারাদিন
ভাবীর কাছেই পড়ে থাকে। কিন্তু দিন দিন
আমার প্রতি ঘৃণাটা কথার বেঁড়েই চলছে।
অফিস থেকে ফেরায় পর শার্টটা খুলে রুমে
যেতেই দেখি কথা নামায পড়ছে!
.
-- নামায শেষ করে মোনাজাতে দু'খানা
হাত তুলে বলকে লাগলো : হে পরম করুণাময়
আল্লাহ্ তায়ালা তুমি তো জানো আমি
সজিবের সর্তানকে গর্ভে ধারণ করে আমার
স্বামীর খুনির ঘরে ঘর করছি।আল্লাহ তুমি
তো জানো! আমি কতটা পবিএ, পরিস্হিতির
চাপে পড়ে খুনিকে বিয়ে করি। আল্লাহ
তোমার কাছে একটাই মনোবাসনা আমি
যেন আমার স্বামী হত্যার বিচার নিচ
হাতে করতে পারি। যেভাবে আমার
স্বামীকে আমার বুক থেকে সড়িয়েছে
সেভাবে যেন তাঁকে দুশ্চরিএটাকে খুন
করতে পারি। আল্লাহ কবুল করো রাজের
মৃত্যু যেন আমার হাতে হয়।আসার - স্বামীর
হত্যার প্রতিশোধ যেন আমি নিতে পারি।
এ বলে জায়- নামায এ বসে কাঁদতে লাগলো।
.
-- নিজের ভালবাসার মানুষের কাছে এমন
কথা শুনে মনে হচ্ছে কড়িজাটা ফেঁটে
যাচ্ছে। মনে হচ্ছে নিজেকে শেষ করে দেয়।
হ্যা আমি অপরাধী মানছি তাই বলে
সজিবের খুনির প্রতিশোধ আমারি স্ত্রী
নিজের কলিজার টুকরা সে আমাকে হত্যা
করে নিবে! মনে হচ্ছে নিজেকে শেষ করে
দিয়ে এ থেকে মুক্তি পায়। যাকে নিজের
জীবনের থেকে বেশি ভালবাসি। যাকে
পাওয়ার জন্য অন্তঃসন্তা মেয়েকে বিয়ে
করতেও একটুও ভাবিনি। আজ সেই কিনা
আমার মৃত্যু তার হাতে যেনন সে প্রার্থনা
করছে! এসব ভাবতে ভাবতে রুম থেকে বের
হয়ে গেলাম।
.
-- পরের দিন আমি , কথা এবং রিও বসে
আছি।
-- হঠাৎ মা,এসে বললো রাজ দেখ তো
আমাদের নাতনীর জন্য জামাগুলো কেমন
হলো!?
.
-- কথা, রিও অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে।রিও
তো বলেই ফেললো " মা এখনো তো
ভাইয়ারা মেয়ে পৃথিবীতেই আসেনি তার
আগেই তোমরা কাপড়-;চোপড় কেনা ধরেছ"
.
-- যাহ্ কি বলিস আমাদের পাঁচটা নয় দশটা
নয় একটি মাএ নাতনী আসতেছে তার জন্য
এসব কিছুই নাহ্! তোর বাবা নাকি রাজের
মেয়েকে পটানোর জন্য জিমে যাচ্ছে, চুলে
কলপ করতেছে। (মা)
.
-- মা তোমরাও নাহ্ পারোও বটে!( রিও)
.
-- কথা মিটি- মিটি হাঁসছে! আমাদের
বিয়ের পাঁচ মাস পর আজ কথাকে হাঁসতে
দেখলাম। অনেক ভালো লাগলো কথার
ঠোঁঠের কোণের সেই হাসি।
.
-- এদিকে দুপুরে গোসল করে ফ্রেশ হয়ে
শার্ট টা পড়ে বের হতেই দেখি " কথা আর
রিও কি নিয়ে কথা বলছে! কাছে যেতেই
দেখি সেই রুমটাতে যেটার চাবি আমি
ছাড়া আর কারো কাছে নেই!কিন্তু রুম
খোলা কে খুললো? ভেতর থেকে রিও আর
কথার কন্ঠ ভেঁসে আসছে!
.
-- দৌঁড়ে রুমের দরজাতে গেতেই যাহ্
শুনলাম তা শুনে নিজেকে ঠিক রাখতে
পারলাম নাহ্!
.
-- রিও রাজের সাথে যে মেয়েটা ওইটা কী
রাজের গফ ছিলো! মেয়েটা অনেক কিউট!
( কথা)
.
-- ভাবী তুমি পাগল হয়েছো কী বলছো এসব
জানো তুমি ওইটা কে? ( রিও)
-- জানো ওইটা রাজের ভালবাসা!( কথা)
.
-- ঠাস- ঠাস-ঠাস চুপ কর আর একটা বাজে
কথাও নয়! তোদের কে বলেছে এ রুম খুলতে?
.
-- কেন খুললে কু- কর্ম বের হয়ে যেতো?
( কথা)
.
-- আরো দু'টা থাপ্পর দিলাম! গালটা লাল
টুক- টুকে হয়ে গেছে কথার।আজ প্রথম কথার
গাঁয়ে হাত তুললাম! তবুও একটুও খারাপ
লাগছেনা। মন খারাপ লাগছে কথার মুখে
সে সব কথা শুনে! তাই বের হয়ে এসে ছাঁদে
চলে যায়।
.
--- ভাবী কান্না করোনা! ভাইয়ার
কলিজাতে আঘাত করেছো। তাই তোমার
ওপর হাত তুলেছে। ( রিও)
.
-- মানে?
.
-- ভাবী ভাইয়ার সাথে যে মেয়েটি ছবিতে
সেটা আর কেউ নয় আমার বড় আপু "কণা"।
কণা আপু আত্মহত্যা করার পর আপুর রুমে
ভাইয়া কাউকে আসতে দেয়নি।আজ তুমিই
প্রথম এলে! (রিও)
.
-- কথা চোখ মুছে রুমের দিকে তাকাতেই
মনে হচ্ছে ঘরটা'তে এখনও কেউ থাকে! রুমটা
কি সুন্দর পরি-পাটি! রুমের থেকে কি সুন্দর
সুভাষ ভেঁসে আসছে মনে হচ্ছে কেউ
সূর্যমুখী তেল খোলা কেশে দিয়ে দক্ষিলা
বাতায়নে চুল মেলে ধরেছে! এসব ভাবতে -
ভাবতে ছবিটার দিকে আবারো কথার চোখ
যায়। মনে হচ্ছে ছবিটা কথার দিকে রাগি-
ভাব নিয়ে তাকিয়ে আছে। হঠাৎ কথার মনে
পড়লো কণা আত্মহত্যা তো করেছে তবে
এতো সুন্দর মেয়ে কেন আত্মহত্যা করেছে
কারণ কী? এসব ভাবতে ভাবতে রিওকে
বললো রিও তোমাকে একটা কথা বলি?
( কথা)
.
--- হুম ভাবী কি বলবে?
.
-- কণা কেন আত্মহত্যা করলো? (কথা)
.
-- ভাবী শুনবে তাহলে? ( রিও)
.
-- হুম বলো? ( কথা)
.
-- শুনো তাহলে, আমরা দুই- বোন এক- ভাই।
কণা আপু আমাদের সবাইকে আদর করতো!
কণা আপুকেও আমরা সবাই ভালবাসতাম
কণা আপুর ছোট বেলায় মা বাবা মারা
যায়! কণা আপু আমার আপন খালাতো বোন।
আপুর যখন দুই বছর তখন খালু আর খালা
দুর্ঘটনায় মারা যায়। তারপর থেকেই
আমাদের সাথে তাই কেউ জিজ্ঞেস করলে
আমরা বলতাম আমরা দুই - বোন এক ভাই!
আপুকে সব চেয়ে বেশি ভালবাসতো রাজ
ভাইয়া। আপু ঘরের সবার ভালোমন্দ দেখার
দায়িত্ব পালন করতেন। আপুকে রাজ ভাইয়া
কলিজার টুকরা, আরার কখনো রাজকুমারী
বলে ডাকতেন। তাদের দুজনের ভাই- বোনের
ভালবাসা দেখে অনেক হিংসে হলেও
ভালোই লাগতো। কারণ কনা আপু আমাকেও
অনেক ভালোবাসতো! জানো ভাবী
ভাইয়াকে কোন দিন দেখেনি নিজের
হাতে ভাত খেতে এবং আমিও খায়নি সব-
সময় আপু তুলে খাইয়ে দিতো! আমাদের
সংসারটা সুখে ভরপুর ছিলো।
.
-- কিন্তু একদিন আমাদের ঘরে দুঃখের ছায়া
নেমে আসে! সাজানো স্বপ্নগুলো সব
এলোমেলো হয়ে যায়! সেদিন অনেক রাত
পর্যন্ত টেলিভিশন দেখে ঘুমাই সকালে ঘুুম
ভাঙ্গে ভাইয়ার করুণ আত্মনার্দ শুনে "
কলিজার টুকরা বোন আমার তুই আমাকে
ছেড়ে অভিমান করে কেন চলে গেলি! বল
এখন আমাকে কে খাইয়ে দিবে! কে বলবে
ভাইয়া তোর প্লেট থেকে একটু মাংস দে!
কে বলবে ভাইয়া আজ যদি আইসক্রিম নিয়ে
না আসিস তা হলে ঘরে ঢুকতে দিবোনা!
ভাইয়া তুই একটা বিয়ে করবি! তোর মেয়েটা
তোর মতে হবে সারাদিন তার সাথে গল্প
করবো! বল না ওই রাজকিসারী " মহারাণী
বোন আমায় কথা বল! ভাইয়ার করুণ
আত্মনার্দ শুনে আপুর রুমে আসতেই দেখি
ভাইয়া কণা আপুর পা জাপটে ধরে আছে!
আপুটা ফ্যানের সাথে ঝুলছে! দেখা মাএই
ফ্লরে বসে পড়লাম তারপর আর কিছু মনে
নায়। পরে সেন্স ফিরলে জানতে পারি
আপুকে পুকুর পাঁড়ের কদম ফুল গাছের নিচে
কবর দিয়েছে। আর আপু নাকি ৫ মাসের
অন্তঃসন্তা ছিল।হয়তো আপু কাউকে
ভালবাসতো তার ভালবাসার ফসল তার
গর্ভে ছিল! এখনো ভাইয়া নিশি রাতে
আপুর কবরের পাশে বসে কান্না করে আর
বলে! আপু বলনা যে, " ভাইয়া ভাত খাবিনা!
আমার জন্য চকলেট নিয়ে আসবি নাহ্!
সেইদিনের পর থেকে আপুর রুমে ভাইয়া
ছাড়া মা- বাবা কেউ ডুকতে পারেনা!
কথাগুলো বলতে গিয়ে কেঁদে ফেললো রিও!
.
-- রাতে শুয়ে শুয়ে ভাবছি কথাকে ওভাবে
চড় মারা উচিত হয়নি! নিজের কাছেই
খারাপ লাগছে! চোখ দিয়ে পানি
আসতেছে! এসব ভাবতে ভাবতে সুফাতে
ঘুমিয়ে যায়।
.
-- পরের দিন কথা শাওয়ার নিয়ে ভেজা চুল
আঁচড়াতেছে। হঠাৎ ফোনটা ক্রিং ক্রিং
করে ভেজে ওঠলো ' ফোনটা রিসিভ করতেই
'''
-- হ্যালো আপু আমাকে বাঁচাও! ( তোবা)
.
-- তোবার মুখে ফোন রিসিভ করার পরই এমন
কথা শুনে কথার বুকটা কেমন করে ওঠলো!
কি হয়েছে শরীর খারাপ করে নিতো?
.
--- আপু রাজ ভাইয়া আমাকে জোর করে
হোটেল এ নিয়ে "" এর পর আজ ডাক্তার
বললো আমি অন্তঃসন্তা! আপু আমাকে
বাঁচাও আমার সুসাইড করা ছাড়া উপায় নেই
( কাঁদতে কাঁদতে কথাগুলো বললো তুবা)
.
-- তোবার মুখে অন্তঃসন্তা কথাটা শুনতেই
বুকের মাঝে এক অজানা চিন- চিনে ব্যথা
অনুভব করছে! হঠাৎ রিওের কথা মনে পড়ে
কণার সেই অন্তঃসন্তা হয়ে সুসাইড করার
কথা! মুহূর্তেরর মাঝে কথার পৃথিবীটা
অন্ধকারে ঢাকা পড়ে যেতে থাকে """" হঠাৎ
রাজ..........
.
.
♥-----"To be Continue"--♥ -
.