Discover postsExplore captivating content and diverse perspectives on our Discover page. Uncover fresh ideas and engage in meaningful conversations
ঢাকা-চট্টগ্রাম ট্রেনে উঠেই দেখি আমার উল্টো দিকে এক অসুস্থ্য বৃদ্ধ মাথা নীচু করে বসে আছেন। টিটিকে টিকিট দেখাতে না পেরে ভদ্রলোকের চোঁখে মুখে এতটাই অপরাধী ভাব যেনো এক, খুনের মামলার আসামী। টিটির অকথ্য ভাষার গালাগালি আমি tolarate করতে পারছিলাম না। একটু কর্কষ ভাষায় বলে ফেললামঃ "টিটি সাহেব ফাইনসহ কত? আমি দেবো।"
টিটি বললোঃ "আপনি দেবেন কেনো?
আমিঃ "তাতে আপনার কি? টাকা নিয়ে রশিদ কেটে দিন।"
রশিদটা বৃদ্ধের হাতে দিয়ে বললামঃ "বাবা,
রশিদটা রাখুন। পথে লাগতে পারে।"
কাঁদতে কাঁদতে বৃদ্ধ বললোঃ "বাবা তুমি আমার
আমার মান সন্মান বাঁচালে।"
পরিস্থিতি স্বাভাবিকের জন্য মৃদু হেঁসে বললামঃ
"আপনি ঢাকায় কোথায় থাকেন?"
বৃদ্ধ বললোঃ"সে এক ইতিহাস। আপনার কি শোনার সময় হবে?"
আমিঃ "অবশ্যই, বলুন।"
বৃদ্ধ বললোঃ "আমি পাইকপাড়া বশিরউদ্দিন
স্কুলে B.Sc শিক্ষক ছিলাম।"
শিক্ষক শুনেই আমিঃ "স্যার, আমাকে তুমি করে বলবেন।"
স্যারঃ "বাইশ বছর পর স্যার শব্দটি শুনে
চোঁখের পানি ধরে রাখতে পারলাম নারে বাবা।"
টিস্যু এগিয়ে দিয়ে বললামঃ "স্যার, আপনার গল্পটা বলুন।"
স্যারঃ"তিন বছর বয়সের যমজ দুটো ছেলে আর মেয়েটি জন্মের সময় ওদের মায়ের মৃত্য হলো। সন্তানদের দিকে তাঁকিয়ে আর বিয়ে করলাম না। পাইকপাড়ায় মাথা গুঁজার ঠাঁই করি। সন্তানদেরকে
বাবা-মায়ের আদর দিয়ে বড় করলাম। বড় ছেলেটা বুয়েট থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করলো। ছোট ছেলেটা ঢাকা মেডিক্যাল থেকে পাশ করলো।"
আমিঃ "মেয়েটিকে কি পড়ালেন?"
স্যারঃ "নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষজনের ধারনা মেয়েকে লেখা পড়া শিখিয়ে লাভ কি? পরের বাড়ী চলে যাবে। বরঞ্চ ছেলেকে সুশিক্ষিত করে তুললে বৃদ্ধ বয়সে একটু মাথা গুঁজার ঠাঁই হবে।
আমরা খুব স্বার্থপর জাতিরে বাবা। মেয়েটি ইন্টারমিডিয়াট করার সাথে সাথে বিয়ে দিয়ে দিলাম। ছাত্রী ভালো ছিলো।"
আমিঃ "তারপর?"
স্যারঃ "ছেলে দুটোকে বিয়ে করালাম। ছেলে দুটোর অনুরোধে
জমিটুকু বিক্রী করে বড় ছেলে পল্টনে আর ছোট ছেলে উত্তরায় ফ্ল্যাট কিনলো।"
আমিঃ "মেয়েকে কিছুই দেন নাই?"
কাঁদতে কাঁদতে স্যারঃ "সেটাই একটা বিরাট ভুল। ছেলের বৌদের সিদ্ধান্ত প্রতি মাসের ১ হতে ১৫ বড় ছেলের বাসায় আর ১৫-৩০ ছোট ছেলের বাসা সুটক্যাস নিয়ে ছুঁটাছুটি। মেয়ে অবশ্য বহুবার বলেছে আব্বা আপনি আমার কাছে চলে আসেন। কোন মুখ নিয়ে যাবো? কতদিন যাবৎ বুকের বাম দিকটা ব্যাথা করছে।"
আমিঃ "ডাক্তার দেখাননি?"
মৃদু হেঁসে স্যারঃ "ডাক্তার আবার, ছোট বৌমাকে বললাম আর কয়েটা দিন থাকি। সে সুটকেসটা বাহিরে ফেলে দিয়ে ইংরাজীতে বললো See you next month। বড় ছেলের বাসায় গিয়ে দেখি তালা মারা। দাড়োয়ান বললো ওরা দু সপ্তাহের জন্য মালেশিয়া গেছে। তারা জানে নির্ধারিত সময়ানুযায়ী আমার আসার কথা। পকেটে বিষ কেনার পয়সাও নেই। তাই ভাবলাম মেয়েই শেষ অবলম্বন।"
আমিঃ "মেয়ে কি করে?"
স্যারঃ "স্বামীটা খুব ভালো। ওকে শাহজালাল থেকে কম্পিউটার সায়েন্সএ পাড়িয়ে ওরা দুজনই প্রাইভেট ব্যাঙ্কে আছে।"
আমিঃ "আপনার মেয়ে যদি আপনাকে গ্রহণ না করে।"
স্যারঃ "মেয়ের পায়ে ধরে কান্না করলে। আমাকে তাঁড়িয়ে দেবে না।"
আমিঃ "এতো আত্মবিশ্বাস? মেয়ে কি জানে আপনি আসছেন।"
স্যারঃ "না, আমারতো মোবাইল নেই।"
আমিঃ "নম্বর দিন, কথা বলিয়া দিচ্ছি।"
স্যারঃ "না না বাবা, মোবাইলেতো মেয়ের পাঁ ধরে মাফ চাইতে পারবো না। পরে যদি নিষেধ করে দেয়।"
আমি বলছি আপনার মেয়ে কনোদিন বাবা-মাকে তাঁড়িয়ে দেবে না।
এক প্রকার জুড় করে ফোন ডায়রী দেখে স্পিকার অন করে ডায়াল করলাম
আমিঃ "হ্যালো, আপনি কি শাহানা?"
অপরপ্রান্তঃ "জ্বী, কে বলছেন?"
আমিঃ "একখানা সুখবর দেওয়ার জন্য ফোন করলাম।"
অপর প্রান্তঃ "কিসের সুখবর?"
আমিঃ "কিছুক্ষনের মধ্যে আপনার বাবা অর্থাৎ স্যার রেল স্ট্যাশনে পৌঁছাবেন।"
মেয়েটি চিৎকার দিয়ে বলে উঠলোঃ "এই শুনছো, আব্বা আসছেন। চলো আমরা স্ট্যাশনে যাই। কতদিন হয় আব্বাকে দেখি না। নিবিড় চল বাবা, তোর নানা ভাই আসছে, চল স্ট্যাশনে যাই।"
কিছুক্ষন পর স্ট্যাশনে ট্রেনটি ধীর গতিতে চলছিলো। জানালা দিয়ে তাঁকিয়ে দেখলাম। ঘরের সাধারণ কাপড় পড়া স্বামী/সন্তানসহ এক নারী অধীর আগ্রহে তাঁকিয়ে যাত্রী খুঁজছিলো। তাঁকানো দেখেই বুঝে গিয়ে স্যারকে বললামঃ "আপনার মেয়ে?"
স্যার বেশ নার্ভাস স্বরে বললোঃ "হো মা।"
আমি ইশারা দিতেই ওরা দরজার সামনে এসেই। স্বামী স্যারের ভাঙ্গা সুটকেসটা নিয়ে পাঁ ছুঁয়ে প্রণাম করলো। মেয়েটি বাবাকে জঁড়িয়ে ধরে কাঁদছিলো। স্যারের চোঁখ ভরা অশ্রু আমাকে বায় দিলো। ট্রেন ছুটতে লাগলো।মেয়ে,জামাই আর নাতি স্যারকে ধরে আস্তে আস্তে নিয়ে যাচ্ছে আর ট্রেনটির দিকে তাকাচ্ছিলো।
মেয়েটির কান্না দেখে মনে হলো মা তাঁর হাঁরিয়ে যাওয়া সন্তানকে বহুদিন পর ফিরে পেলো।
আকাশের দিকে তাঁকিয়ে ভাবছিলামঃ "আজ আমার বাবা বেঁচে থাকলে এই আনন্দের থেকে আমিও বঞ্চিত হতাম না।"
respect """"" ভালো লাগলে কিছু লিখবেন।
জান্নাতীরা জান্নাতে নিজ গৃহে অবস্থান করবেন । এমন সময় দরজায় কেউ কড়া নাড়বে।
দরজা খুলে দেখবেন একজন ফেরেস্তা দাঁড়িয়ে ।
তিঁনি বলবেন ‘চলো আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার সাথে দেখা করে আসি।
তিনি তখন খুবই উল্লাসিত হয়ে বের হয়ে এসে দেখবেন খুব সুন্দর একটা বাহন তাঁর জন্য প্রস্তুত ।
বাহন ছুটে চলবে খুব বিস্তৃত নয়নাভিরাম মাঠ দিয়ে যা স্বর্ণ আর মণি মুক্তা খচিত পিলারে সাজানো ।
জান্নাতিরা খুব পরিতৃপ্তি নিয়ে ছুটবে ।
এমন সময় আলো দেখবে আলোর পর আরো আলো । তারপর আরো আলো ।
জান্নাতীরা তখন উল্লাসিত হয়ে ফেরেস্তাদের জিজ্ঞেস করবেন ‘ আমরা কি আল্লাহ্কে দেখেছি ?
অতপর ফেরেশতা বলবেন না,
আমরা সে পথেই ছুটছি ।
হঠাৎ জান্নাতীরা শুনবেন গায়েবী আওয়াজ -
* আসসালামু আলাইকুম ইয়া আহলাল জান্নাহ্ *
আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়াতা'য়ালা স্বয়ং সালাম দিচ্ছেন জান্নাতীদের ।
খুবই আবেগময় হবে সে মুহূর্তটা !!!
আল্লাহু আকবার ।
আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়াতা'য়ালার সালামের জবাবে তখন জান্নাতীরা বলবেন,
আল্লাহুম্মা আনতাস সালাম, ওয়া মিনকাস সালাম, তাবারকতা ইয়া জাল জালালি ওয়াল ইকরাম।
হে আল্লাহ্! আপনি শান্তিময় এবং আপনা হতেই শান্তি উৎসারিত হয়।। আপনি বরকতময় হে মহান ও সম্মানের অধিকারী ।
তখন আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়াতা'য়ালা জিজ্ঞেস করবেন,
তোমরা কি খুশী ?তোমরা কি সন্তুষ্ট ?
ও আল্লাহ্, জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচিয়ে
আমাদের আপনি জান্নাত দিয়েছেন !
আমরা অসন্তুষ্ট হই কি করে !
জান্নাতীরা জবাব দিবেন ।
আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়াতা'য়ালা তখন জিজ্ঞেস করবেন,
তোমাদের আর কি চাই ?
তখন জান্নাতীরা (ইনশাআল্লাহ্) বলবেন-
আর কিছু চাই না ।
না না । আজ তো দেয়ার দিন । আমি আরও দিব ।
বলো কি চাও ।
তখন জান্নাতীরা (ইনশাআল্লাহ।) সমস্বরে বলে উঠবেন-
ও আল্লাহ্, আমরা আপনাকে দেখতে চাই ।
আপনাকে দেখি নি কখনও ।
আপনাকে আমরা ভালবাসি ।
আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়াতা'য়ালা তখন পর্দা সরিয়ে দেবেন
সৃষ্টি এবং স্রষ্টা মুখোমুখি ।
চোখ বন্ধ করে একটু চিন্তা করুন ।
সারাজীবন দুনিয়াতে যাকে ডেকেছেন ।
যাকে না দেখে চোখ দুটো অঝোরে কেঁদেছে ।
কাউকে না বলা আপনার একান্ত কথাগুলো যাকে বলেছেন ।
খুব বিপদে কেউ নেই পাশে, কেঁদে কেঁদে যাকে বলেছিলেন।
পকেট ফাঁকা, ঘরে খাবার নেই, অনিশ্চিত উৎস থেকে খাবারের ব্যবস্থা যিনি করেছেন । কত চাওয়া, মাকে বলেন নি, বাবাকেও না , রাতের আঁধারে কেঁদে কেঁদে যাকে বলেছিলেন ।
কত অপরাধ করেছি, কেউ দেখে নি । একজন দেখেছেন কিন্তু গোপন রেখেছেন । বারবার ভুল করেছি, যিনি মাফ করে দিয়েছেন, অদৃশ্য ইশারায় সাবধান করেছেন । মমতাময়ী মা, আমার আদরের সন্তান, প্রিয়তমা স্ত্রীর ভালবাসা দিয়ে অদৃশ্য ভালবাসায় আমাকে যিনি ভালবেসেছেন সবচেয়ে বেশী । সবচেয়ে আপন, সুমহান সেই প্রতিপালকের মুখোমুখি ...
সাহাবীদের প্রশ্নের জবাবে রাসূল (সাঃ) বলেছেন,
পৃথিবীতে আমরা যেমন চাঁদকে স্পষ্ট দেখি ,
আমরা আল্লাহ্ সুবহানু ওয়াতা'য়ালাকে
তেমনি দেখব ইনশাআল্লাহ্ ।
এ যে জান্নাতের সবচেয়ে বড় নেয়ামাহ্ ! সুবহানআল্লাহ্
ইয়া আল্লাহ্ - স্বল্প সংখ্যক সেই মহা সৌভাগ্যবানদের তালিকায় আমাদের নামটা যোগ করে দিন ।
_____________? আমিন !?_____________
আবু উমামা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ “যে ব্যক্তি শুধুমাত্র কল্যাণ শিক্ষা লাভ বা শিক্ষা প্রদানের উদ্দেশ্যে সমজিদে গমণ করবে, তাকে পরিপূর্ণরূপে হজ্জ পালনকারীর ন্যায় প্রতিদান দেয়া হবে।”
(ত্বাবরানী কাবীর গ্রন্থে হাদীছটি বর্ণনা করেছেন)
null, হাদিস নং ৮৬
হাদিসের মান: হাসান সহিহ
Tusar Ahammad
Delete Comment
Are you sure that you want to delete this comment ?
Lý Hằng
Delete Comment
Are you sure that you want to delete this comment ?
MD. AL MAMUN
Delete Comment
Are you sure that you want to delete this comment ?