গল্প :-""""""--শেষ কান্না--""""" ♥
.
লেখক:- #RJ_Nayem_Ahmed
.
গল্পটা পড়ে 100% আপনাদের চোখে পানি চলে আসতে বাধ্য....Challenge
.
.
পর্ব:- ০৪~~~~
.
.
কয়েকদিন পরের ঘটনা-
২০ই জুন ২০১৫ বিকালে-
পিয়াল রুমে বসে জেরিনের সাথে ফোনে কথা বলছে -
জেরিন -গতকালকে যে রেস্টুরেন্টে নিয়ে গেছিলা অইটার খাবারটা দারুন ছিলো। এক কথায় অস্থির।
পিয়াল- হুম্ম।
- ইস! প্রতিদিনই যদি যেতে পারতাম। আচ্ছা কালকে আবার দেখা করবা?
- গতকালকেই তো দেখা করলাম, আবার কালকে কেনো?
- এমন করে বলো কেনো? আমাকে কি একটুও সময় দিবা না বলো? (ঢং এর সহিত)
- দিবো না কখনো বলছি। কিন্তু কালকে না কয়েকদিন পরে দেখা করি।
- না না কালকেই করবা। একটু মার্কেটিং করবো। আমার একটা ড্রেস পছন্দ হইছে।
- আচ্ছা দেখি।পরে জানাচ্ছি।
-আচ্ছা বাবু। আই লাভ ইউ।
-হুম! আই লাভ ইউ টু!
-আচ্ছা এখন রাখি। পরে কথা বলবো।
-আচ্ছা বাবু বায়।
-হুম বায়।
ফোন কেটে দিয়ে কানে হেডফোন লাগিয়ে বিছায় শুয়ে পরে পিয়াল।কিছুক্ষন পরেই রুমির ফোন থেকে কল আসে পিয়ালের নাম্বারে। পিয়াল ফোনের দিকে তাকিয়ে থাকে। ফোনটা ধরবে কিনা সেই চিন্তা করছে। সেইদিনের কাহিনীর পরে রুমির সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছিলো পিয়াল। আজকে হয়তো সরি বলার জন্য কল দিয়েছে। ভাবতে ভাবতেই কলটা রিসিভ করার আগেই কেটে যায়। পিয়াল আবারো ফোনে গান ছেড়ে হেডফোন কানে দেয়। কিছুক্ষন পরে আবারো রনি ফোন দেয়। এইবার পিয়াল সাথে সাথেই রিসিভ করে -
পিয়াল- হ্যালো!
রুমি- হ্যালো পিয়াল!!
-হ্যা বল।
-তুই একটু তাড়াতাড়ি আমাদের বাসায় আয়।
-কেনো?
- প্লিজ আয়, তাড়াতাড়ি। (কান্না কন্ঠে)
-কি হইছে দোস্ত? কি হইছে বল?
- আমার বোন টিয়া সুইসাইড করছে।
" আমি এখনই আসতেছি " বলে ফোনটা কেটে দিয়ে দ্রুত বের হয়ে পরে পিয়াল। রেডি হওয়ার সময় নেই তাই একটা থ্রি-কোয়ায়ার প্যান্ট আর টি-শার্ট পরেই বের হয়ে পরে পিয়াল।বাসা থেকে বের হয়ে একটা সিএনজি নিয়ে খুব দ্রুত রওনা হয় রুমির বাসার উদ্দেশ্যে। টিয়া, রুমির একমাত্র আদুরে ছোট বোন।এবার দশম শ্রেনীর ছাত্রী সে।ছাত্রী হিসেবে অনেক ভালো। রুমির সাথে সারাক্ষণ ঝগড়াঝাঁটিতে মেটে থাকতো।দেখতেও পরীর মতই সুন্দর। পিয়াল ওদের বাসায় গেলে টিয়াকে পেত্নি বলে পচাইতো,টিয়াও অনেক রাগ করতো। বেশি পচালে কান্না করে দিতো। পিয়ালের কোনো ছোট বোন না থাকায় ওরেই ছোট বোন বলতো। ওদের বাসায় যখনই যেতো তখনই কয়েকটা চকলেট কিনে নিয়ে যেতো। চকলেট কেনার সময় রুমি জিজ্ঞাসা করতো "কার জন্য কিনিস এইগুলা?"। তখন পিয়াল ওর মুখের দিকে তাকিয়ে মুচকি একটা হাসি দিয়ে বলতো- " আমার ছোট বোনটার জন্য"। টিয়াকে যদি কখনো কেউ জিজ্ঞাসা করতো ওরা কয় ভাই-বোন তখন টিয়ার উত্তর থাকতো -"ওরা তিন ভাই বোন, দুই ভাই আর এক বোন"।কিন্তু টিয়ার মতো মেয়ে আজকে এমন একটা কাজ করবে তা কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলো না পিয়াল।সব কিছুই যেনো স্বপ্নের মতো লাগছে আজকে।এটা যদি সত্যিই স্বপ্ন হতো তাহলেই হয়তো ভালো লাগতো পিয়ালের।কি করবে কিছুই বুঝে উঠতে পারছে না। ফোনটা থ্রি-কোয়াটার প্যান্টের পকেট থেকে বের করে সিএনজিতে বসেই বন্ধু রাসেদকে ফোন দেয় পিয়াল -
পিয়াল- হ্যালো রাসেদ।
রাসেদ - হ্যা বল। (ঘুম জড়ানো কন্ঠে)
- তুই এখনই রুমির বাসায় আয়।
- কেনো?
- ওর বোন সুইসাইড করেছে।
-কি? আচ্ছা আমি আসতেছি।
- রিয়া, আলিসা, আরাফ ওদেরও কল দিয়ে আসতে বল।
-আচ্ছা আচ্ছা ঠিক আছে। তুই বের হইছোস?
- হ্যা আমি বের হইছি তোরা একটু তাড়াতাড়ি আয়।
-আচ্ছা আমরা আসতেছি, তুই যা। রাখলাম।
ফোন কেটে দেয় রাসেদ।
পিয়াল সিএনজি চালকের উদ্দেশ্যে-
পিয়াল- মামা একটু তাড়াতাড়ি জান প্লিজ।
সিএনজি চালক - হ যাইতাছি।
২০ মিনিটের মধ্যেই সিএনজি রুমির বাসার সামনে এসে থামে। পিয়াল সিএনজি থেকে নেমে ভাড়া মিটিয়ে। রুমির বাসার দিকে পা বাড়ায়। রুমিদের ফ্লাটটা সাত তালা। ওরা ৩য় ফ্লোরে থাকে। পিয়াল দৌড়ে ওদের বাসায় চলে যায়। বাসার সামনে অনেক মানুষের ভিড়। পিয়াল ভিড় ঠেলে ভিতরে ঢোকে। ঢোকার সাথে সাথেই রুমির বোন টিয়ার মৃত দেহ নিচে শোয়ানো দেখে পিয়াল।সাদা কাপড়ে ঢেকে রেখেছে। টিয়ার লাশের পাশে বসে কান্না করছে তার মা,কিছু আত্নিয়-স্বজন আর ওর কয়েকটা বান্ধবী। রুমির আব্বু সোফায় বসে আছেন। তিনি এক দৃষ্টিতে মরা মেয়ের লাশের দিকে তাকিয়ে আছেন। তাকে তার পাশ থেকে ধরে আছেন কয়েকজন মুরুব্বী। রুমি এক কর্নারে দাঁড়িয়ে কান্না করছে। পিয়াল রুমির কাছে গেলো। পিয়ালকে দেখা মাত্রই রুমি, পিয়ালকে জড়িয়ে ধরে কান্না শুরু করলো। পিয়ালও রুমিকে জড়িয়ে ধরলো।
পিয়াল- কাঁদিস না দোস্ত। (কাঁদতে কাঁদতে)
রুমি - আমার বোনটা কেনো এমন করলো, বল? আমরা কি ওরে কম ভালোবাসতাম।
- যা হবার তা হয়ে গেছে, এখন কেঁদে আর কি হবে বল?
- আমার কি হবে? আমার একটা মাত্র বোন। কতো দুষ্টামি করতো আমার সাথে। কতো স্বপ্ন দেখছিলাম বোনটাকে নিয়ে।
- কিভাবে হলো? কেনো করলো টিয়া এইসব?
রুমি, পিয়ালের হাত ধরে টেনে নিয়ে গেলো টিয়ার রুমে। রুমটা আগের মতই গুছানো ও পরিপাটি। শুধু ফ্যানের সাথে একটা বাধা ওড়না ঝুলছে। হয়তো এই ওড়নার স্পর্শেই এই নিষ্ঠুর পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছে রুমির বোন টিয়া। রুমি, পিয়ালকে টিয়ার রুমে এনে হাতে একটা ভাঁজ করা কাগজ ধরিয়ে দেয়। পিয়াল রুমির মুখের দিকে তাকায়, কাঁদতে কাঁদতে চোখ জোড়া লাল হয়ে গিয়েছে রুমির। পিয়াল কাগজের ভাঁজটা খোলে। কাগজটার ভিতরে কাঁপা কাঁপা হাতে কিছু লেখা আছে। হাতের লেখাটা টিয়ার তা বুঝতে কষ্ট হলো না পিয়ালের। কাগজটা পড়তে পড়তে পিয়ালের চোখ দুটো বড় হয়ে গেলো। যা লেখা ছিলো কাগজটায়-
"এই পৃথিবীর মধ্যে আমি খুবই ছোট একটা মানুষ। কিন্তু আমারো একটা মন আছে, আছে কিছু স্বপ্ন। আমাকে ঘিরে হয়তো তোমাদের অনেক স্বপ্ন ছিলো এবং আছে। হয়তো ভবিষ্যতে আর থাকবে না। কিন্তু আমারো কাউকে নিয়ে স্বপ্ন ছিলো। তোমরা যেমন আমাকে ভালোবাসতে আমিও ঠিক তেমনি একজনকে খুবই ভালোবাসতাম। কিন্তু সেই স্বপ্ন গুলো যখন ভেঙ্গে যায় তখন সব কিছু এলোমেলো হয়ে যায়। হয়তো আমার স্বপ্ন আমাকে চায় না। কিন্তু আমি আমার স্বপ্ন ছাড়া কিভাবে বাচঁবো। প্রতিদিন কষ্ট পাওয়ার থেকে একদিনেই সব কষ্ট শেষ দেয়াটাই ভালো। আর আমি সেই পথটাকেই বেছে নিলাম। ভালো থাকুক,বেঁচে থাকুক সবার স্বপ্ন গুলো।"
কাগজের লেখাগুলো পড়ে চোখ থেকে পানি পরে যায় পিয়ালের।
রুমি- এই ওড়নার সাথে ঝুলে আমার বোনটা আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছে। (ঝুলন্ত ওড়নার দিকে আঙ্গুল তুলে)।ঘরটা অনেক শান্ত হয়ে গেছে। কেউ আর আমাকে ভাইয়া বলে ডাকবে না। কেউ আর মোবাইলে গেইম খেলার জন্য বিরক্ত করবে না। জানিস তো বাসায় রাগ করে যখন ভাত খেতাম না, তখন আমার বোনটা আমাকে জোর করে ভাত খাইয়ে দিতো। এখন আর কেউ খাওয়াবে না। শত বকাবকির পরেও কেউ আর আমার কাছে এসে টাকা চাইবে না। গতকালকে টিয়ার মনটা অনেক খারাপ ছিলো আমি দেখেছি। আমি ভেবেছিলাম হয়তো আম্মু বকা দিয়েছেন। টিয়াকে জিজ্ঞাসা করাতেও আমাকে কিছু বলে নি। ও যদি একবার মুখ ফুটে বলতো ও কাউকে ভালোবাসে তাহলে তার পুরো পরিবার তুলে এনে টিয়ার সামনে রাখতাম। কিন্তু এখন বলে কি লাভ, আমার বোনটা তো আর ফিরে আসবে না।
পিয়াল মাথা নিচু করে হাতের কাগজটার দিকে তাকিয়ে আছে, আর রুমি কি বলছে তা শুনছে। হঠাতই রাশেদের গলার আওয়াজ পাওয়া গেলো। পিয়াল হেটে সামনের রুমে গেলো। দেখলো রাসেদ এবং আরাফ দাঁড়িয়ে আছে। রিয়া আর আলিসা রুমির আম্মুকে ধরে বসে আছে। পিয়াল রাসেদ এবং আরাফাতক্র ইশারায় ডাক দিলো। রাসেরদ এবং আরাফ পিয়ালের পিছু পিছু টিয়ার রুমের দিকে গেলো। সেখানে রুমিকে দাঁড়ানো দেখে রুমির কাঁধে হাত রেখে আরাফ বললো-
আরাফ - ছেলেটা কে?
রুমি - টিয়া এই বিষয়ে আমাদেরকে কিছুই বলে নি।
আরাফ - আমি খোঁজ-খবর নিয়ে দেখতেছি।আজকে ওই ছেলে বেঁচে থাকবে না হয় আমি।
রাসেদ - আরাফ! ওই ছেলেকে মারলে আমাদের বোন কি ফিরে আসবে?
আরাফ মাথা নিচু করে টিয়ার খাটের উপরে বসে পরলো। আর কিছুক্ষন পরেই টিয়াকে জানাজা পড়িয়ে কবর দেয়া হবে। টিয়াকে গোছল করিয়ে লাশবাহী খাটে তোলা হলো। পিয়াল,রুমি, আরাফ এবং একজন মুরুব্বী খাটটা কাধে নিলো। সবাই কবরস্থানের দিকে পা বাড়ালো।
রাত ৯টায় টিয়াকে জানাজা পড়িয়ে কবর দেয়া হলো। রুমির মন খারাপ দেখে পিয়াল বললো -
পিয়াল - আজকে আমি তোর সাথে থাকি রুমি।
রাসেদ- হ্যা সেইটাই ভালো হবে। তুই ওদের বাসায় চলে যা।
রুমি - না থাক। আমার কিছু ভাল্লাগছে না। আমাকে একটু একা থাকতে দে তোরা।
রুমির এমন উত্তরে পিয়াল, রাসেদ আর কিছুই বললো না। রুমিকে বাসায় দিয়ে গেলো পিয়াল,রাসেদ। আরাফ, আলিসা এবং রিয়াকে এগিয়ে দিতে গিয়েছে। রুমির বাসা থেকে বেড়িয়ে রাসেদ এবং পিয়াল একটা চায়ের দোকানে বসলো।
রাসেদ - সিগারেট খাবি?
পিয়াল- না।
- অন্য কিছু খাবি? সারা বিকাল তো কিছু খাওয়া হলো না।
- নাহ ভালো লাগছে না। রুমিদের কিছু খাবার কিনে দিয়ে এলে ভালো হতো না?
- পাশের বাসায় ওদের জন্য রান্না করা হয়েছে।
- তুই খবর নিয়েছিস?
- হ্যা আমি সব কিছুর খবর নিয়েই ওখান থেকে নেমেছি।
- যাক ভালো করেছিস।
-তা কি করবি এখন?
-কিছুই ভালো লাগছে না। বাসায় যাবো।
-হ্যা সেইটাই কর তাইলে। আমিও যাই। গিয়ে গোসল করতে হবে। তুইও করে নিস।
-আচ্ছা চল তাইলে আমি আমার বাইকে তোরে তোর বাসায় নামিয়ে দিচ্ছি।
-চল।
রাসেদর ওর বাইকে করে পিয়ালকে, পিয়ালের বাসার সামনে নামিয়ে দিলো। পিয়াল আস্তে আস্তে হেটে ওর বাসায় গেলো। সোজা রুমে গিয়ে ঢুকলো। বিছানার উপরে সশব্দে বসে পরলো। মোবাইলটা বের করে টিয়ার সাথে কয়েকটি তোলা ছবি দেখতে থাকলো। নিষ্পাপ হাসি দেখে চোখে পানি এসে গেলো পিয়ালের। ছবি দেখে মনেই হচ্ছে না কিছুক্ষন আগে এই মেয়েটাকেই কবর দিয়ে এসেছে। ফোনটা রেখে বাথরুমে গেলো পিয়াল। গোসল করে বের হলো। খুব খিদে পেয়েছে কিন্তু খাওয়ার ইচ্ছেটাই যেনো মরে গিয়েছে। রুমের লাইটটা বন্ধ করে শুয়ে পরে বিছানায়। ঘুম আসছে না পিয়ালের।
সকাল ৭টা, সারারাত জাগিয়ে কাটিয়ে দিয়েছে পিয়াল। খুব মাথা ব্যাথা করছে আর একটু ঘুম-ঘুম পাচ্ছে।চোখ বুঝলো একটু ঘুমানোর জন্য। হঠাতই জেরিনের কল আসলো,ফোনটা কর্কশ স্বরে বেজে উঠলো। পিয়ালের মাথা সর্বোচ্চ পর্যায়ে গরম হয়ে গেলো। ফোনটাকে বিছানা থেকে দেয়ালের গায়ে ছুড়ে মারলো পিয়াল।ফোনটার চেঁচামেচি বন্ধ হয়ে গেলো। এখন একটু শান্তি লাগছে পিয়ালের। আবারো চোখ বন্ধ করলো পিয়াল......
.
.
♥...........""চলবেই""..........♥ .

গল্প :-""""""--শেষ কান্না--""""" ♥
.
লেখক:- #RJ_Nayem_Ahmed
.
গল্পটা পড়ে 100% আপনাদের চোখে পানি চলে আসতে বাধ্য....Challenge
.
.
পর্ব:- ০৩~~~~
.
.
১৬ই জুন ২০১৫,
পিয়াল আজকে ভার্সিটিতে অনেক আগেই উপস্থিত। এতো তাড়াতাড়ি কখনই আসে না, কিন্তু আজকে এসেছে। ভার্সিটির গেইটের সামনে বসে রুমির আসার অপেক্ষা করছে। রুমির উপরে বিশ্বাস নেই আজকে যদি আবার না আসে, তাহলে? পিয়াল তৎক্ষণাৎ পকেট থেকে মোবাইল বের করে রুমির নাম্বারটা ডায়েল করে। রিঙ হচ্ছে কিন্তু রুমি ফোন তুলছে না। পিয়ালের আরো বেশ কয়েকবার চেষ্টা চালায়। কিন্তু ফল একই দাঁড়ায়।
দেখতে দেখতে ক্লাসমেট সবাই এসে গিয়েছে। কিন্তু রুমির দেখা নাই। পিয়াল আবারো কল দেয় রুমির ফোনে, কিন্তু চেষ্টা বৃথা। একপ্রকার রাগ করেই ক্লাসে ঢুকে পরে পিয়াল।
প্রায় একঘন্টা পরেই পিয়ালের ফোনে রুমির ফোন থেকে কল আসে। পিয়াল ক্লাসের মধ্যেই কলটা রিসিভ করে -
পিয়াল- হ্যালো! রুমি।
রুমি- হ্যা বল!
- কই তুই?
-আমি বাসায় মাত্র ঘুম থেকে উঠলাম।
-এতো দেরিতে কেনো?
-আর বলিস না, কালকে বন্ধুদের সাথে একটু গিলতে গেছিলাম।তাই পিনিকে সকালে উঠতে পারি নি।
-তুই ভার্সিটিতে আসবি না?
-ইচ্ছা তো নাই!!
-তোর সাথে আমার কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা আছে। তুই ভার্সিটি আসলে ভালো হতো।
- কি কথা? ফোনেই বল।
-ভার্সিটি আয়। সামনা-সামনি বলবো।
-আচ্ছা ৩০ মিনিটের মধ্যেই আসতেছি।
-আচ্ছা তাড়াতাড়ি আয়। রাখলাম।
-আচ্ছা।
ওপাশ থেকে রুমিই ফোনটা কেটে দেয়।
প্রায় ৪০ মিনিট পরে আবারো পিয়ালের ফোনে রুমির ফোন থেকে কল আসে -
রুমি- হ্যালো পিয়াল, বের হ! আমি ক্যাম্পাসেই আছি।
পিয়াল -আচ্ছা দারা আসতেছি।
পিয়াল বই-খাতা সব ব্যাগে তুলে নেয়।অতঃপর ক্লাসের পিছনের দরজা থেকে বের হয়ে যায়। বের হতে না হতেই রুমিকে ভার্সিটির মাঠের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেলো। হয়তো কারো সাথে ফোনে কথা বলছে। পিয়াল দৌড়ে রুমির কাছে যায়।
রুমি - কি খবর? (হাত মিলিয়ে)
পিয়াল- এইতো! ফোনে কথা বলা শেষ কর।
রুমি- আচ্ছা একটু দাঁড়া। হ্যালো, জান। হ্যা! তোমার সাথে একটু পরে কথা বলি সোনা? আই লাভ ইউ, বায়।
ফোন কেটে দিয়ে পিয়ালের মুখের দিকে তাকায় রুমি।
রুমি- হ্যা বল, কি এমন জরুরী কথা।
পিয়াল - চল সামনের গাছতলায় গিয়ে বসি।
রুমি- হ্যা চল।
রুমি এবং পিয়াল সামনের একটা গোড়া বাধানো গাছের নিচে গিয়ে বসে।
পিয়াল- এবার তোর ফোনটা কিছুক্ষনের জন্য সুইচ অফ রাখ।
রুমি -ক্যান বলতো।
-যা বলছি তা কর।
-আচ্ছা করতেছি।
ফোন সুইচ অফ করে রুমি।
রুমি - এখন বল।
পিয়াল - তোর সাথে কি তামান্নার ব্রেকাপ হইছে?
-হ্যা! কালকে শেষ কথা বলছিলাম, এরপর ব্লাকলিষ্টে নাম্বার রেখে দিছি।মনে নাই তোর? তুই তো আমার সাথেই ছিলি তখন।
-ব্রেকাপ করার কারনটা কি ছিলো?
-ওরে বাবা! পিয়াল দেখি আমার কাছে ব্রেকাপের কারন জানতে চাচ্ছে। ব্যাপার কি বল তো?
-আমি যা জিজ্ঞাসা করছি তার উত্তর দে শুধু।
-আরে ভাই! এক মাল আর কতোদিন? নতুন একটারে পটাইছি। সেই দেখতে। দেখবি?
-না থাক। কিন্তু তামান্না তোরে ভালোবাসে।
-তো? আমি কি করবো?
-ওর সাথে এমন কেনো করলি? ধোকা দিলি কেনো?
-আচ্ছা তোর সাথে তামান্নার কথা হয়েছে নাকি?
-হ্যা! গতকালকে তামান্না আমাকে রমনায় ডেকেছিলো। তখন অনেক কান্নাকাটি করেছে।
-ও আচ্ছা! তাই বলি! আচ্ছা বাদ দে। ছেড়ে দিছি তো দিছি। এখন আর কিছু করার নেই।
-কিন্তু তাই বলে এভাবে ধোকা দিবি?
-পিয়াল,তোর সমস্যাটা কোথায়? হ্যা আমি দিছি। আমার ভালো লেগেছে আমি দিছি।আর এটা তো আমার পার্সোনাল ব্যাপার তাই না? তুই কেনো এর ভিতরে ঢুকছিস? আজকে একটা মেয়ের কাছে আমাদের বন্ধুত্বটাকে ছোট করে দিলি? আমাকে প্রশ্ন করতেছিস?
-কিন্তু তোর এই কাজটা করা উচিৎ হয় নি। আমি আমাদের বন্ধুত্ব ছোট করছি না, আমি তোকে ভূলটা দেখাচ্ছি। আর এইটা তোর ভূল। একটা মেয়েকে শুধু শুধু স্বপ্ন দেখিয়ে তা ভাঙ্গার কোনো অধিকারই তোর নেই।
-তুই আমাকে স্বপ্ন ভাঙ্গার কথা বলছিস? তুই কতোটুকু ভালো বল তো? তুই তো আমার থেকেও বেশি। আগে নিজেকে ঠিক কর পিয়াল, এরপর অন্যকে ঠিক কর। কেমন?
-রুমি, আমি এমন মেয়েদের সাথে রিলেশন করি যারা অন্যকে ঠকায়। কিন্তু তামান্না তো নির্দোষ। ওকে কেনো কষ্ট দিচ্ছিস? তুই একটা চিটার মেয়ের সাথে রিলেশন করে তাকে ধোকা দিতি আমি কিচ্ছুই বলতাম না। কিন্তু ও তো কারো ক্ষতি করে নি। বরং তোকে ভালোবেসে আজকে নিজের ক্ষতিটাকেই ডেকে এনেছে।
-থাম ভাই! প্লিজ! আমি এই নিয়ে আর একটাও কথা শুনতে চাই না। যদি তোর ইচ্ছে হয় তাহলে তুই গিয়ে রিলেশন কর আর মেয়েটাকে ক্ষতির হাত থেকে বাঁচা। আমার এর প্রতি কোনোই ইন্টারেস্ট নেই। প্লিজ ভাই! মাফ চাই।
-রুমি মাফটা তামান্নার কাছে চাইলে খুবই ভালো হতো। একদিন তুই তোর ভূলটা ঠিকই বুঝতে পারবি।
-আমি ভূল বুঝবো কিনা সেইটাও আমার ব্যাপার, দয়া করে আমার পার্সোনাল লাইফ নিয়ে তোমার না ঘাটাই উত্তম হবে। আমার আর কিছু শুনতে ইচ্ছে করছে না। আমি যাচ্ছি।
পিয়াল নিশ্চুপ বসে আছে, রুমি ব্যাগ নিয়ে ভার্সিটির গেইটের দিকে অগ্রসর হলো। পিয়াল অন্যদিকে তাকিয়ে থাকলো। তামান্নার জন্য কিছুই না করতে পেরে পিয়ালের খুবই খারাপ লাগছে। সে জানে না তামান্নার কি হবে। হয়তো এই দাগ নিয়ে তার সারাজীবন কাটাতে হবে। পিয়ালের কিছুই ভালোলাগছে না । উঠে দাঁড়ালো পিয়াল,কাঁধে ব্যাটটা নিয়ে গেইটের দিকে অগ্রসর হলো। মাথাটা ব্যাথা করছে পিয়ালের। তামান্না রুমির ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে কি বলবে? তামান্না এইসব কথা শুনে কি করবে? এইসব ভেবে পিয়ালের আরো বেশি মাথা ব্যাথা করছে।পিয়ালের ফোন বেজে ওঠে। জেরিন কল দিয়েছে -
পিয়াল- হ্যালো!
জেরিন- হ্যালো বাবু!
-হ্যা বলো।
-কি করো?
-এইতো ভার্সিটি থেকে বাসায় ফিরছি।
-ওওও!
-হ্যা! বাসায় গিয়ে ফ্রী হয়ে কল দিচ্ছি তোমাকে।
-আচ্ছা ঠিক আছে।
ফোন কেটে দিয়ে একটা বাসে উঠে পরে পিয়াল।
বাসায় এসে কাঁধ থেকে ব্যাগটা বিছানার উপরে ছুড়ে মারে পিয়াল। এরপর নিজেকেও এলিয়ে দেয় বিছানার উপড়ে।যদিও একটু ঘুম ঘুম পাচ্ছে। ঘুমালে হয়তো মাথা ব্যাথাটা কমে যাবে। একটু ফেইসবুকে ঢুকে পিয়াল।ভার্সিটির একটা গ্রুপে কয়েকটা বন্ধু পোষ্ট করেছে, কালকে থেকে টানা ৮ দিন ভার্সিটি বন্ধ থাকবে। পিয়াল পোষ্টটা দেখে একটু মুচকি হাসলো, ফোনের স্ক্রিন অফ করে চোখ বুঝলো ঘুমানোর চেষ্টায়।
একটু ঘুমাতে না ঘুমাতেই পিয়ালের আম্মু ডাক দিলো পিয়ালকে। -
পিয়ালের মা- পিয়াল, খেয়ে ঘুমা।
পিয়াল - ঘুম থেকে উঠে খাবো আম্মু।যাও তো এখন। (ঘুম জড়ানো কন্ঠে)
পিয়ালের মা- না ঠান্ডা হয়ে যাবে। এখন খেয়ে নে। এরপর ঘুমা।
পিয়াল - আচ্ছা যাও আমি আসছি।
পিয়াল উঠে ওয়াশরুমে গিয়ে চোখে-মুখে পানি দেয়। এরপর খাওয়ার টেবিলে গিয়ে বসে পরে।
খেয়ে উঠে আবারো বিছানায় গিয়ে শুয়ে পরে। চোখ বুঝে ভাবতে থাকে, বিকালে ঘুম থেকে উঠে আড্ডা মারতে যাবে বন্ধুদের সাথে। একটু পরেই ঘুমের জগতে পা বাড়ালো পিয়াল......♥
.
.
♥...........""চলবেই""..........♥.

গল্প:--""""""--শেষ কান্না--""""" ♥
.
লেখক:- #RJ_Nayem_Ahmed
.
গল্পটা_পড়ে 100% আপনাদের চোখে পানি চলে আসতে বাধ্য....Challenge
.
.
পর্ব:- ০২~~~~ ♥
.

বিকাল ৪টা ৫০ মিনিট,
পিয়াল রমনার ২য় গেইটের সামনে এসে রিক্সা থেকে নামলো। ভাড়া মিটিয়ে গেইটের সামনে চলে গেলো পিয়াল।যদিও এখানে কেউ নেই দু একজন পথচারীকে দেখা যাচ্ছে কিন্তু কোনো মেয়ে নেই। ফোনটা বের করে অপরিচিত নাম্বারটায় কল দিলো পিয়াল-
পিয়াল-হ্যালো!
ফোনের ওপাশ থেকে- দুই মিনিট দাঁড়ান আমি এসেই পরেছি।
-আচ্ছা একটু তাড়াতাড়ি আসুন।
-হ্যা! কিন্তু আপনি কয় নাম্বার গেইটে?
-আমি দুই নাম্বার গেইটে।
-আচ্ছা পাচঁ মিনিট, আমি এসে পরেছি।
মুখে বিরক্তির ছাপ নিয়ে ফোনটা কেটে দেয় পিয়াল। ফুটপাতের একটা চায়ের দোকান থেকে সিগারেট ধরায়। দোকানের পাশে রাখা বেঞ্চিতে বসে পরে। পায়ের উপর পা তুলে সিগারেট ফুগতে থাকে। প্রায় দশ মিনিট পরে একটা রিক্সা এসে থামে গেইটের সামনে,রিক্সায় যাত্রী হিসেবে একটা অচেনা মেয়ে ছিলো। যদিও পিয়াল একটু দূরে ছিলো গেইট থেকে। কিন্তু পিয়াল ঘটনাটা দেখছিলো। মেয়েটা রিক্সায় বসেই ভাড়াটা দেয়, এরপর রিক্সা থেকে নেমে গেইটের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। হাতে একটা ব্যাগ, ব্যাগ থেকে মোবাইলটা বের করে কাউকে কল করছে মনে হয়। হঠাৎ পিয়ালের ফোন বেজে উঠলো। পিয়াল কলটা রিসিভ করলো-
ফোনের ওপাশ থেকে- পিয়াল ভাইয়া! আপনি কোথায়?
পিয়াল- আমি আশে পাশেই আছি। আপনি হলুদ ড্রেস আর কালো একটা হিজাব পরে আছেন, তাই না?
-হ্যা! আপনি কোথায়?
পিয়াল ফোনটা কেটে দিয়ে দোকানীর বিল মেটায়।এরপর উঠে দাঁড়ায়, আস্তে আস্তে হেটে মেয়েটার সামনে এসে দাঁড়ায়। মেয়েটার বয়স ১৯ কি ২০ হবে। চোখের নিচে কালো দাগ পরেছে। মনে হচ্ছে বেশ কয়েকদিন ঘুমায় নি। বাহির থেকেই বুঝা যায় মেয়েটা ভালো নেই। হয়তো কোনো মানষিক চাপের ভিতরে আছে। খুব চিন্তিতও মনে হচ্ছিলো।
পিয়াল-এখন আপনার পরিচয় বলুন।
অচেনা মেয়েটি- হ্যা সব বলবো! চলুন পার্কের ভিতরে গিয়ে বসি।
-দেখুন আমি আপনার সাথে আড্ডা মারতে আসি নি। যা বলার একটু তাড়াতাড়ি বলুন, আমার কাজ আছে।
-আমি অত্যন্ত পরিমাণ দূঃক্ষিত আপনাকে এতো ব্যস্ততার ভিতরে এখানে ডেকেছি।কিন্তু আমার কিছুই করার ছিলো না। প্লিজ ভাইয়া রাগ করবেন না।
-আচ্ছা আচ্ছা চলুন ভিতরে গিয়ে বসি।
পিয়াল আর অচেনা মেয়েটি পার্কের ভিতরের একটা বেঞ্চিতে গিয়ে বসলো।
অচেনা মেয়েটি -আমি জানি না কথাটা কিভাবে শুরু করবো।কিন্তু...
পিয়াল- ন্যাকামো বাদ দিবেন প্লিজ? যা বলার সরাসরি বলুন।
-আমার নাম তামান্না।
-আচ্ছা।
-আমি আপনার বন্ধু রুমির গার্লফ্রেন্ড।
-তো? আমি কি করবো? এইটা বলার জন্য এখানে ডেকেছেন?
-না না ভাইয়া!
-তাহলে?
-আমি রুমির গার্লফ্রেন্ড ছিলাম, এখনো আর ভবিষ্যতেও থাকতে চাই।
-দেখুন এইটা আপনার আর রুমির ব্যাপার, আমাকে কেনো ডেকেছেন সেইটা বলুন।
-কিন্তু রুমি আমাকে তার জীবন থেকে সরিয়ে দিতে চাচ্ছে।
-এটাও তো আপনাদের ব্যাপার তাই না?
-হ্যা! কিন্তু আমি তো রুমিকে ভালোবাসি। রুমিও আমাকে ভালোবাসতো কিন্তু হঠাৎ করে রুমির ভিতরে একটা পরিবর্তন আসে। আর, আর আমাকে সময় দেয়া বন্ধ করে দিতে থাকে আস্তে আস্তে। একদিন হঠাতই আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করা শুরু করে। আমার সাথে তার যে সম্পর্কটা ছিলো সেইটাও বিচ্ছেদ করতে বলে।রুমিকে ভুলে যেতে বলে। কিন্তু আমি তো এমন কোনো ভূলই করি নি যার কারনে সে আমাকে এতো বড় একটা শাস্তি দিবে।
তামান্না কেঁদে ফেলে।পিয়াল এক দৃষ্টিতে তার কান্না করা দেখতে থাকে। জীবনে পিয়াল কোনো মেয়েকে এভাবে কাঁদতে দেখে নি। তার রিলেশনেও ব্রেকাপ হয়েছে, কিন্তু কোনো মেয়েই এভাবে তার জন্য কাদে নি। এখন নিজের কাছেই খারাপ লাগছে পিয়ালের। মন চাচ্ছে মেয়েটাকে বুকে টেনে শান্তনা দেই। কিন্তু না এতে মেয়েটা বুঝবে সুযোগে সৎ ব্যবহার করছি। তাই নিরবে দেখে যাওয়াটাই উত্তম হবে।
পিয়াল- আপনার সাথে রুমির সম্পর্কের ব্যপারে আমি শুনেছি। আপনার নাম বলছিলো আমার কাছে। কিন্তু আপনাকে কখনোই দেখায় নি বা আমিই দেখতে চাই নি। আমি জানি না এই অবস্থায় আপনাকে আমি কিভাবে শান্তনা দিবো। আপনি যদি কিছু মনে না করেন তাহলে আমাকে, আপনার আর রুমির সম্পর্কের ব্যাপারে শুরু থেকে একটু বলতে পারবেন?
তামান্না- হ্যা অবশ্যই! (চোখ মুছতে, মুছতে)। রুমির সাথে আমার সম্পর্ক ছিলো মাত্র পাঁচ মাষ ১৩ দিনের।দিনটা ছিলো অক্টবরের দুই তারিখ-, আমি আমার কলেজের সামনে প্রায়ই একটা ছেলেকে দাঁড়ানো দেখতাম। একদম হঠাতই ছেলেটার আগমন ঘটে। প্রতিদিনই ছেলেটা দাঁড়ানো থাকতো, আমার কলেজ ছুটি হলে আমি যখন বাসায়র উদ্দেশ্যে রওনা দিতাম তখন ছেলেটা আমাকে ফলো করতো। এইরকম প্রায় একমাস আমাকে ফলো করেছিলো।আমি আমার বান্ধবীদের কাছ থেকে ছেলেটার নাম জানতে পারি।ছেলেটার নাম ছিলো রুমি। কিন্তু আমাকে ফলো করার ব্যাপারটায় আমি তেমন কোনোই গুরুত্ব দিতাম না। কারন আমার লক্ষ ছিলো আমার ক্যারিয়ার। নভেম্বরের ২৮ তারিখ ছিলো আমার জন্মদিন।আমি আর আমার বন্ধুরা মিলে ঘুরতে যাওয়ার জন্য বের হয়েছিলাম। তখন দেখলাম ছেলেটা হঠাৎ কোথা থেকে এসে উদায় হলো। আমি আর আমার বন্ধুরা ঘোরার জন্য একটা পার্কে ঢুকলাম। রুমিও আমাকে ফলো করতে করতে পার্কের মধ্যে এসে গেলো। তখন পার্কে বসেই হাটু গেড়ে আমাকে প্রস্তাব দেয়।আমার সব বন্ধুরা হাত-তালি দিতে থাকলো। তখন বুঝলাম এইটা রুমি আর আমার বন্ধুদেরই প্লান ছিলো। যদিও আমি তখন কিছু না বলেই রাগ করে বাসায় চলে আসি। কিন্তু রাতে কি যে হলো, হঠাৎ হঠাৎ রুমির কথা মনে পরতো। এরপর কোথা দিয়ে কি হয়ে গেলো তা নিজেও জানি না।
*একজন পার্ক গার্ডের আগমন ইতোমধ্যে -
পার্ক-গার্ড :- মামা পাঁচটা বাজে। পার্ক বন্ধ হবে এখন।
পিয়াল -আচ্ছা মামা, যাচ্ছি। চলেন তামান্না বের হয়ে হাটি আর কথা বলি।
তামান্না -হ্যা চলুন।
পিয়াল এবং তামান্না পার্ক থেকে বের হলো।
পিয়াল-হ্যা! তারপর বলুন।
তামান্না - রিলেশনের প্রথম দিকে রুমি আমার অনেক দেখাশুনা করতো। অনেক ভালোবাসতো, জানি না তা অভিনয় নাকি সত্যিই ছিলো। কিন্তু ওর উপর আমার অন্ধ বিশ্বাস ছিলো। আমার মনে হয় তখন আমাকেই সবচেয়ে বেশি সময় দিতো। আমাকে কলেজে দিয়ে যেতো,আবার কলেজ থেকে বাসায় এগিয়ে দিয়ে যেতো। মাঝে মাঝে আমি রাগ করে কথা বলা বন্ধ করে দিলে কান্নাকাটিও করতো। রিলেশনের দুইমাস পরেই ওর নামে নানানরকম আজেবাজে কথা শুনতে শুরু করি।কেউ কেউ বলতো আমার আগেও নাকি ওর অনেক মেয়ের সাথে সম্পর্ক ছিলো। কিন্তু এই বিষয় আমি পুরোই ইগনোর করি। এমনকি এই বিষয়ে আমি রুমিকে কোনরকম প্রশ্নও করি নি। আমি ভাবতাম সব মিথ্যে শুধুমাত্র রুমিই একমাত্র সত্য। খুব অল্প সময়ের ভিতরেই আমি রুমিকে এতোটাই ভালোবেসে ফেলি তা নিজেরও ধারণার বাহিরে। তখন রুমিকে ছাড়া কিচ্ছুই বুঝি না আমি এমন অবস্থা। পড়ালেখার কথা বাদই দিলাম, কোনো কাজই ঠিকমতো করতে পারতাম না। সব যায়গায় যেনো রুমির ছায়া দেখতে পেতাম। আমাকে বিয়ে করবে বলেও আশ্বাস দিয়েছিলো। আর আমি বোকার মতো তা বিশ্বাস করেছিলাম।হয়তো আমার ভূল ছিলো সেই বিশ্বাসটাই করা, যার যোগ্য নয় রুমি।এভাবে ৪ মাষ সব কিছুই ভালো চলতেছিলো। আমি আমার সবটুকুই দিয়ে ভালোবেসে ছিলাম রুমিকে। যখন যা করতে বলতো তাই করতাম, যখন যা করতে চাইতো তাই-ই করতে দিতাম। একদিন আমি আর রুমি একটা রেস্টুরেন্টে বসে ছিলাম।তখন আমার কাছে ওর ফোন দিয়ে ওয়াসরুমে যায়। তখন আপনার নাম্বারটা আমি রেখে দেই।ফেইসবুকে আপনার সাথে ওর ছবি দেখেছি। আর আপনি ওর খুব ক্লোস একটা ফ্রেন্ড সেইটা বুঝতে পেরেছিলাম। নাম্বার নেয়ার কারনটা যে ভবিষতে এমন হবে তা বুঝতে পারি নি।আমি ভেবেছিলাম আপনাকে ফোন দিয়ে ওর খোজ খবর নিবো। কিন্তু আজকে তার বদলে আপনাকে আমাদের সম্পর্কের অন্তিম সময়টা বর্ণনা করতেছি। সত্যিই জীবনটা কতোটাই অদ্ভুত(দীর্ঘশ্ব
াস)।
পিয়াল- তারপর কি হয়েছিলো?
তামান্না- ও হ্যা! তারপর হঠাৎ করেই রুমির ভিতর পরিবর্তন ঘটে। কেনো বা কিসের জন্য বুঝে ওঠার আগেই সব শেষ করে দেয়। আমি জানি না কেনো ও আমার সাথে এমনটা করেছে। এমন একটা নাটক করার জন্য আমাকেই কেনো.....?(কেদেঁ দেয় তামান্না)
পিয়াল পকেটে হাত দিয়ে একটা পকেট টিস্যু-পেপারের প্যাকেট বের করে। প্যাকেট থেকে একটা টিস্যু তামান্নার দিকে এগিয়ে দেয়। তামান্না টিস্যুটা হাতে নিয়ে চোখ মুছতে মুছতে বলে-
তামান্না - গত এক সপ্তাহ আগ থেকে আমার সাথে খারাপ-বাজে ব্যাবহার করা শুরু করে রুমি। আজকে সকালেও অনেক আজে বাজে ব্যাবহার করে। এরপর নাম্বারটা ব্লাকলিষ্টে ফালায়। অনেকবার কল দিছি,কিন্তু নাম্বার ব্যস্ত বলে। সেই গত এক সপ্তাহ থেকে ডিপ্রেশনে ভুগছি। না পারতেছি রাতে ঘুমাতে না পারতেছি কিছু খেতে। কিছুই ভালোলাগে না। মাঝে মাঝে হয় মারা যাই। কি করবো কিছুই বুঝতে পারতেছিলাম না। না পারছিলাম কারো সাথে বলতে না পারছিলাম নিজে সহ্য করতে। নিজের সাথে অনেক যুদ্ধ করে আপনাকে কল দেয়। আমি জানি রুমি আর আমার কাছে ফিরবে না। কিন্তু আমি কি করবো?কিছুই বুঝতে পারতেছি না। অনেক কষ্ট হয়। আমি জানি এটা আবেগ না এটা ভালোবাসা। যার কোনো দাম নেই রুমির কাছে।
পিয়াল-আপনি রিলেশন করার আগে ওর সম্পর্কে একবারও খোঁজ-খবর নিলেন না কেনো?
তামান্না- আমি ভেবেছিলাম আমার জন্য যে এতো কিছু করে সে আমাকে ধোকা দিবে কেনো? আমি আসলেই তখন বুঝতে পারি নি।(কান্না করতে করতে)
পিয়াল- আচ্ছা এখন চোখ মুছুন। চলুন কিছু খেয়ে নেই।
তামান্না - না, আমার কিছুই ভালো লাগছে না। এখন আমার জন্য বাসায় যাওয়াটাই ভালো হবে।
-আচ্ছা চলুন এগিয়ে দেই আপনাকে।
-না থাক। ধন্যবাদ, আমি একাই যেতে পারবো।তবে একটা কথা,আমার ভালোবাসাটা শুধু বুঝতে বইলেন ওরে। আর কিছুই চাই না আমি।
-হ্যা আমি আমার সর্বশেষ চেষ্টা চালাবো।
-আমাকে একটা রিক্সা করে দিতে পারলে ভালো হতো।
-হ্যা, একটু দাঁড়ান দয়া করে। আমি দেখছি।
পিয়াল একটা রিক্সা ডাক দেয়।
তামান্না - আপনাকে কষ্ট দিলাম, অনেকটা সময় নষ্ট হলো আপনার। আমি আসলেই দুঃক্ষিত।ক্ষমা করে দিয়েন ভূল হলে।
পিয়াল- না না ঠিক আছে। দুঃক্ষিত তো আমাকে বলা উচিৎ। এইরকমটা আমার সাথে হলে আমিও একই কাজ করতাম। আচ্ছা সাবধানে যাবেন। বায়।
-আচ্ছা, বায়।
তামান্না রিক্সায় উঠে পরে। রিক্সা চালক রিক্সা সামনের দিকে নিয়ে যায়। পিয়াল রিক্সার দিকে তাকিয়ে তামান্নার চলে যাওয়াটা একদৃষ্টিতে দেখতে থাকে। তামান্নার রিক্সা পিয়ালের চোখের বাহিরে চলে যায়। পিয়াল একটা বাসে উঠে পরে। একটু তাড়াতাড়িই বাসায় ফিরতে চায়।খুব খিদেও পেয়েছে।
বাস থামিয়ে, বাস থেকে নামে পিয়াল। সোজা বাসায় চলে যায় পিয়াল। আজকে আর আড্ডা দিবে না সে।
বাসায় ঢুকে ফ্রেস হতে যায় ওয়াশরুমে। ফ্রেস হয়ে বের হয়, ফ্রিজ খুলে একটা আপেল নিয়ে বারান্দায় যায়। কামড়ে কামড়ে আপেলটা খাচ্ছে আর ভাবছে কালকে ভার্সিটিতে গিয়ে রুমির সাথে কথা বলতে হবে........ ♥
.
.
♥...........""চলবেই""...........♥

গল্প:--"""""""--শেষ কান্না--"""""
.
লেখক:- #RJ_Nayem_Ahmed
.
গল্পটা_পড়ে 100% আপনাদের চোখে পানি চলে আসতে বাধ্য....Challenge
.
.
পর্ব:- ০১~~~~ ♥
.
.
আজ পিয়ালের বিয়ে, সবাই খুশী হলেও পিয়াল হতে পারে নি। তবুও মুখে মিথ্যা হাসি নিয়ে তিনবার কবুল বলেছে।অনেক বন্ধুরাই উপস্থিত সেখানে, তাদের জন্য আলাদা বাজেট রাখার কথা ছিলো পিয়ালের,যেমনটা বলা চেয়েছিলো মিলা। কিন্তু বাজেট রাখা সত্যেও তার বন্ধুরা উপভোগ করতে পারে নি ব্যাপারটা।পিয়াল
ের পরিবারের কেউ কেউ মিলাকে নিয়ে ব্যস্ত, আবার কেউ অন্যান্য কাজে মন দিয়েছে। মিলা,মিলা পিয়ালের কিছুক্ষন আগে বিবাহ করা স্ত্রী।চারদিকে একটা বিয়ে বিয়ে ভাব।আসলেই কি পিয়াল বিয়ে করেছে? সবার মুখেই হাসি,কিন্তু তা কি আদৌ সুখের হাসি? পিয়াল একটা ঘোরের মধ্যে আছে,কিছুটা নেশা করার পরে যা হয়।সবার কথা-বার্তা শুনছে, দেখছে কিন্তু কিছুই বুঝে উঠতে পারছে না। পিয়ালের বন্ধু রাসেদ এসে ওর কানে কানে বলে গেলো - দোস্ত, মন খারাপ করে থাকিস না, মিলাকে কিছু বুঝতে দিস না।
কথাটা শুনে পিয়াল রাসেদের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকলো। রাসেদ মুচকি একটা হাসি দিয়ে চলে গেলো। হঠাতই মিলার কন্ঠে পিয়াল নিজেকে নিজের মধ্যে আবিস্কার করলো। মিলা সবার সাথে কতো হাসি খুশী কথা বলছে। হয়তো আর কিছুক্ষন পরে এই হাসিটাকেই সবাই সব থেকে বেশি মিস করবে।
তারিখটা ছিলো ১৫ই জুন ২০১৫,
পিয়াল ভার্সিটির সামনে ওর বন্ধুদের সাথে দাঁড়িয়ে,নতুন ছাত্রীদের দেখে পছন্দ করে তাদেরকে প্রেম নিবেদনের আশায়।পিয়াল এবং ওর বন্ধুদের বড়-ভাই হিসেবে এটা ওদের কর্তব্য (ওরা মনে করে)।পিয়াল ভার্সিটির মধ্যকার মেয়েদের কাছে সব থেকে ঘৃণিত ব্যক্তি।আর ছেলেদের কাছে রোমিও।তার জুলিয়েট কোনটা বা কে? তা বুঝে ওঠা কঠিন। সকালে এক জুলিয়েটের সাথে,বিকালে আরেক জুলিয়েটের সাথে।
যাই-হোক,ভার্সিটির গেইটের সামনে দাঁড়িয়ে পিয়াল আর ওর বন্ধুরা নতুন ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে ইয়ার্কি -ফাইজলামি করছিলো।হঠাৎ করেই শাড়ী পরা একটা মেয়ের আগমন ভার্সিটির সামনে।মেয়েটাকে আগে কখনই দেখে নি পিয়াল।ওর ভার্সিটি লাইফে কাউকে শাড়ী পরে আসতে দেখে নি, তাও আবার প্রথম দিনে। হ্যা পিয়ালের চোখ ওখানেই আটকে যায়। শুধু পিয়াল না, তার সহচরদেরও।ওদের সামনে থেকে একটা লাল পরী চলে গেলো। বাংলা সিনেমা একদম।
পিয়াল ক্লাসে চলে যায়।পিয়ালের ভাবনা চিন্তা এখনো অই মেয়ের প্রতি যায় নি যদিও। তার ভাবনাটা একটু দেখে নেয়া যাক। পিয়ালের ভাবনাটা একটু অন্য টাইপের, সে চিন্তা করছিলো তার অন্য গার্লফ্রেন্ডদেরকেও শাড়ী পরালেও অই একই রকম লাগবে। পিয়ালের মনে এতোটুকুও জায়গা করে নিতে পারে নি মেয়েটি যদিও। যখন দেখছিলো শুধু অই সময়টুকুই।
ক্লাস শেষে পিয়াল আর ওর বন্ধু রুমি ক্যাম্পাসে হাটছে। রুমি তার গার্লফ্রেন্ডের সাথে ফোনে কথা বলছে।রুমিও কিছুটা পিয়ালের মতই। সে তার গার্লফ্রেন্ডের সাথে ব্রেকাপ করতেছে।হয়তো রুমিকে ছাড়তে চাচ্ছে না ওর প্রেমিকা। যদিও পিয়ালের সাথে এমন কোনো ঘটনাই ঘটে নি। ব্রেকাপের কথা বলার পর হয় আরেকটা সুযোগ চেয়েছে, নয়তো তারাও ব্রেকাপ বলে ব্রেকাপ করে দিয়েছে।রুমী বেশ কিছুক্ষন আজেবাজে ভাষায় কথা বললো ওর গার্লফ্রেন্ডের সাথে। পিয়াল ওর সাথে হাটছে আর শুনছে।
প্রায় একঘন্টা পর রুমী ফোনটা কান থেকে নামালো।
রুমি- উফফ, কি জ্বালা এই মাইয়া তো এক্কেবারেই নাছোড়বান্দা। অনেক কষ্টে ছাড়াইলাম।
পিয়াল - অনেক ভালোবাসে মনে হয় তোরে।
-আরেহ ধুরো,বাদ দে তো। তা বাবা তুমি হঠাৎ ভালোবাসা নিয়া পরলা ক্যান? বাংলা নাটক কি বেশি দেখো?
-আরেহনা না, এমনিই বললাম। মজা করলাম আর কি।
-দেখ আবার কল দিতেছে, খারা ব্লাকলিষ্টে হান্দাইয়া লই।
-হুম, হান্দা।
-শেষ, চল একখান বিড়ি খাইয়া মাথাডা ঠান্ডা করি।
-চল।
পিয়াল রুমির সাথে কিছুক্ষন আড্ডা দিয়ে একটা রিক্সা নিয়ে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দিলো।হঠাৎ একটা অচেনা নাম্বার থেকে কল আসলো পিয়ালের ফোনে। পিয়াল রিসিভ করলো-
ফোনের ওপাশ থেকে- হ্যালো! (নাড়ী কন্ঠ)
পিয়াল- জ্বি! বলুন।
-পিয়াল ভাইয়া বলছেন?
-হ্যা বলছি। আপনি কে?
-আমি...আমি....।
-হ্যা বলুন।
-একটা কাজ করতে পারবেন?
-কি কাজ?
- আপনি বিকালে একটু রমনায় আসতে পারবেন?
-পারবো, কিন্তু আপনি কে বলছেন?
-সেটা আসলেই দেখতে পারবেন।প্লিজ ভাইয়া, মাত্র ১০ মিনিটের জন্য হলেও আসতে হবে।আপনার সাথে আমার কিছু কথা আছে।
-হ্যা বুঝলাম, কিন্তু আপনি কে? আমি তো আর আপনাকে চিনি না। অচেনা কেউ একজন বললেই তো আর আশা যায় না। তাই না? আর হ্যা! এই আজাইরা সময় নষ্ট করার কোনো ইচ্ছাই আমার নাই।রাখলাম।
পিয়াল ফোনটা কেটে দিয়ে মনে মনে আবল তাবল গালি দিতে থাকে।কিন্তু কিছুক্ষন পরেই আবার ফোনটা বেজে ওঠে। আগের অচেনা নাম্বার। পিয়াল এবার ফোনটা কেটে দেয়। রিক্সা পিয়ালের বাসার সামনে এসে পরেছে।ভাড়াটা মিটিয়ে পিয়াল বাসায় চলে যায়।
পিয়াল গোসল সেরে,দুপুরের খাবারটা খেয়ে নিলো। একটু ঘুম ঘুম পাচ্ছে, নিজের রুমে গিয়ে দরজাটা আটকে দিলো। ঝুলানো প্যান্টের পকেট থেকে সিগারেটের প্যাকটটা বের করে,বারান্দায় চলে যায়।বারান্দায় রাখা চেয়ারে বসে পরে।
ফোনে পিয়ালের বন্ধু আদনানের কল-
আদনান - হোয়াটস আপ? ডুড।
পিয়াল- এইতো, তোর?
-এইতো বস!
-তারপর কি রকম চলছে সব?
-চলে কোনো রকম আর কি! আজকে ভার্সিটিতে আসিস নাই ক্যান?
-আর বলিস না, কাজিনের বান্ধবির বিয়েতে গেছিলাম।
-কাজিনের বান্ধবির বিয়েতে কেনো? দাওয়াত তো তোর কাজিনের পাওয়ার কথা।তুই পেলি কোথা দিয়া?
-আরে বোকা**! কাজিনের বান্ধবির একটা বোন আছে। সে আমাকে ইনভাইট করছে।
-যাক তোর কাজিনের বান্ধবির মা তরে ইনভাইট করে নাই।
-মানে?
-ও কিছু না, আচ্ছা তুই কি কাউকে আমার নাম্বার দিছিলি?
-কই না তো! ক্যান বল তো?
-না এমনি। আমাকে একটা নাম্বার থেকে কল দিয়ে দেখা করতে বলে। কিন্তু পরিচয় দিতেছে না।
-তোমার তো ভাই প্রেমীকার অভাব নাই। দেখো মাঝ রাস্তায় যাদের ছেড়ে দিছো তাদের কেউ হয়তো।
-তুই থামবি?
-আচ্ছা থামলাম।
-আমার খুব ঘুম পাচ্ছে। ঘুমাবো, কিছু বলার থাকলে বল।
-নাহ কিছুই বলার নাই। ঘুমা যাহ।
-আচ্ছা, বায়।
ফোনটা কেটে দিয়ে প্যাকেট থেকে একটা সিগারেট বের করে ধরায় পিয়াল।দুই টান দেয়ার পর আর ভাল্লাগছে না। খুব ঘুম পাচ্ছে। সিগারেটটা ফেলে দিয়ে চেয়ার থেকে উঠে বারান্দা থেকে রুমে গিয়ে বিছানার উপরে শরীরটাকে এলিয়ে দেয়।ফোনটা হাতে নিয়ে সময়টা দেখে নেয়। ৩টা বাজে, ঘুম থেকে ৫টায় উঠে আড্ডা মারতে চলে যাবে। এই ভাবতে ভাবতে ফোনের স্ক্রিন অফ করে।কিছুক্ষনের মধ্যেই ঘুমের দেশে পা বাড়ায় পিয়াল।
ঘুমিয়ে পরতে না পরতেই ফোনে কল আসে। হাতরে হাতরে বালিশের পাশ থেকে ফোনটা হাতে নেয়। কলটা রিসিভ করে কানের উপরে ধরে ঘুম জড়ানো কন্ঠে-
পিয়াল-হ্যালো!
ফোনের ওপাশ থেকে - হ্যালো, পিয়াল ভাইয়া।
-হুম।পিয়াল বলছি। আপনি কে?
-অই যে দুপুরবেলা কল দিয়েছিলাম।
-আপনি কে বলবেন একটু? (উঠে বসে পিয়াল)
-আমাকে চিনবেন না, আপনি একটু রমনায় আসতে পারবেন?
-কেনো? আপনার নাম কি?
-আমাকে চিনবেন না বললাম তো! প্লিজ একটু সময়ের জন্য আসুন।
-আচ্ছা আমার নাম্বার আপনাকে কে দিছে?
-সব বলবো, কে দিছে, আমি কে, আমি আপনাকে কেনো ডেকেছি। সব, সব বলবো, কিন্তু প্লিজ একটু সময়ের জন্য রমনায় আসুন।
-আচ্ছা আমি দেখতেছি, আসতে পারলে জানাবো। এখন রাখি।
-ধন্যবাদ ভাইয়া।
-আচ্ছা, আচ্ছা।
ফোনটা কেটে দিয়ে আবার শুয়ে পরে, হঠাৎ আবার ফোন বেজে ওঠে।স্ক্রিনে জেরিন নামটা জ্বলে ওঠে।জেরিন, জেরিন পিয়ালের গার্লফ্রেন্ড। কয় নাম্বার তা পিয়াল নিজেও জানে না হয়তো।
জেরিন - হ্যালো বাবুউউ!
পিয়াল- হ্যা! বলো।
-কি করো গো?
-ঘুমাচ্ছিলাম।
-আমাকে তো একটুও সময় দাও না। এখন ভার্সিটিতেও আমাকে ইগনোর করো। কি হইছে তোমার?
-কিছু না, একটু ঘুমাইতে দিবা? ঘুম থেকে উঠে ফোন দিচ্ছি।
-তুমি দিবা না আমি জানি। তুমি কেমন যেনো হয়ে গেছো।
-মাফ চাই! দিবো কল বললাম তো।এখন দয়া করে একটু ঘুমাইতে দাও।
-কতদিন দেখা করি না। একসাথে সময় কাটাই না। একটু দেখাও তো করতে আসতে পারো।
-সব করবো, এখন একটু ঘুমাই?
-তোমার খালি ঘুম -ঘুম। যখনই কল দেই তখনই ঘুমাও। তাই না?
-আরে বাপ! আমি সব সময় ঘুমাই না, বরং আমি যখন যখন ঘুমাই তখনই তুমি কল দাও।
-বুচ্ছি।
-আচ্ছা ঘুমাই এখন? বায়।
-শুনো না!
-আবার কি?
-আমার না একটা ড্রেস পছন্দ হইছে। অনেক কিউট একটা ড্রেস।
-আচ্ছা, খুব ভালো। ড্রেসটা কিনে পইরা পিক পাঠাইও।কেমন? রাখি এখন?
-তুমি মোটেও রোম্যান্টিক না। ভাবছিলাম তুমি আমাকে নিয়ে কিনতে যাবা।
-ধুরো, রাখি তো। বায়।
ফোনটা কেটে দেয় পিয়াল।সুইচ অফ করে আবারো শুয়ে পরে পিয়াল।ঘুমানোর জন্য কিছুক্ষন চেষ্টা চালায়। কিন্তু ঘুমটা যেনো নিমিষেই কেটে গেছে।মনে মনে জেরিনের গুষ্টি উদ্ধার করছে পিয়াল।ঘুম সম্পূর্ণ না হওয়ার ফলে খুবই খারাপ লাগতে থাকে পিয়ালের। বিছানা ত্যাগ করে ফ্রেস হওয়ার জন্য ওয়াশরুমের দিকে পা বাড়ায় পিয়াল।চোখে মুখে পানি দিয়ে বের হয় পিয়াল। এখন একটু ভালো লাগছে তার। ফোনটা হাতে নিয়ে সুইচ অন করে সময়টা দেখে। ৩:৫৫ বাজে,পিয়াল তার বন্ধু রাফিকে কল দিতে কন্ট্রাক্ট লিষ্টে ঢুকতেই অচেনা নাম্বারটা সামনে এসে পরে। একটু কৌতূহল জাগে নাম্বার এবং নাম্বারের ওপাশে থাকার মানুষটার ব্যাপারে।নাম্বারটায় কল দেয় পিয়াল -
ফোনের ওপাশ থেকে -হ্যালো! পিয়াল ভাইয়া।
পিয়াল- হ্যা! কোথায় এবং কয়টায় দেখা করতে হবে?
-আপনি আসবেন?
-আমি মজা করছি বলে মনে হয়?
- না না!! কি যে বলেন। আচ্ছা আপনি রমনার সামনে আসুন আমি বলে দিচ্ছি কোথায় আসতে হবে।
- সময়টা?
-এখন তো প্রায় ৪টা বেজে গেছে। ৫টার ভিতরেই আসুন।
-৫টায় রমনা বন্ধ হয়ে যায়।
-ও হ্যা! তাও তো। আচ্ছা আপনি রমনার সামনে আসুন, আমি আপনার সাথে ওখানেই দেখা করবো। এরপর কোথায় যাওয়ার হলে যাবো।
-আচ্ছা রাখি।
পিয়াল কল কেটে শার্ট -প্যান্ট পরে নেয়। হাল্কা বডি স্প্রে দিয়ে বের হয়ে পরে রমনার উদ্দেশ্যে।বাসা থেকে রমনায় যেতে ৩০-৪৫ মিনিট সময় লাগবে তাই একটা রিক্সায় উঠে পরে পিয়াল........♥
.
.
♥............""চলবেই""...........♥

গল্প :- "হেডমাষ্টারের princes"
.
লেখক:- #RJ_Nayem_Ahmed
.
পর্ব:-০৮ ( শেষ )
.
.
.
মেয়ে: ওরে বাবা কত জ্ঞানি হয়ে গেছে?
আমি: যেটা বলছি সেটা শুনো ?
মেয়ে: রাখ তোর জ্ঞান দাওয়া চল দোকান থেকে পাঞ্জাবি কিনে নিবো ||
আমি: সরি আমি পারবো না ||
অতঃপর তখন আমার হাত ধরে নিয়ে যাইতে চাইলো তখন আমি থেমে রাগের মাথায় জোরে দিলাম একটা থাপ্পর তখন বল্লাম----->
আমি: নিজেকে কি পাইছো তুমি হ্যা যা করবা তা সহ্য করবো অনেক হইছে আর না তুমি তোমার আব্বুকে বলে দিও আমাকে কলেজ থেকে বের করে দিতে ঠিক আছে আর না হলে আমাকে মেরে ফেলতে বইলো একটা জিনিস মনে রাখবা কখনো জোর করে ভালোবাসা পাওয়া যায় না ||
এটা বলার পর দেখলাম ওর চোখ দিয়ে পানি পরছে দূর তখন বাসায় চলে গেলাম ||
আচ্ছা আপনারাই বলুন এইভাবে পাগলামি করলে কি সহ্য করা যায় তার থেকে তো মরে যাওয়াই ভালো ||
যাইহোক একটু পর ভাবলাম যে থাপ্পর টা দেওয়া কি ঠিক হইছে তার উপর সে আমার বড় দূর রাগের মাথায়ে যে কি করে ফেল্লাম যাইহোক কাল সরি বলে দিতে হবে কি যানি কাল আবার ওর আব্বুকে দিয়ে মাইর খাওয়া কিনা দূর এই সব চিন্তা করতে করতে রাতে ঘুমই আসলো না ||
অতঃপর আজ কলেজে গেলাম খুব ভয়ে ভয়ে তাকে খুচ্ছি কিন্তু তাকে পেলাম না এটা কি হলো প্রতিদিনি তো লেডি গেং এর সাথে বসে থাকে কিন্তু আজ দেখা পেলাম না ||
যাইহোক দ্বিতীয় দিন গেলাম তাও দেখা পেলাম না কি হলো মেয়েটার আবার মরে টরে গেছে নাকি মরলে ও মরতে পারে যেভাবে থাপ্পর টা দিছি দূর এসব কি চিন্তা করি ||
তো তৃতীয় দিন কলেজে গেলাম তাও দেখি নাই এখন নিজেরই খারাপ লাগছে যে মেয়েটা প্রতিদিন আমার সাথে থাকতো ভয় দেখাতো আজ তাকে আর দেখি না দূর কাজটা আমার ঠিক হয়নি ||
অতঃপর এরকম প্রতিদিন তাকে খুজি কিন্তু তাকে আর পাই না একটা পর্যায় তাকেই আমি ভালোবেসে ফেলি এইরে এদেখি আমি গুন্ডির প্রেমে পরে গেলাম ||
যাইহোক দির্ঘ দশ দিন পর কলেজে একা একা বসে আছি দেখি কোনো এক সুন্দরি কি সুন্দর কলেজ ড্রেস পরে আমার সামনে দিয়ে যাচ্ছে আমি ভাবলাম এটা নতুন র্ভতি হইছে কিন্তু না এটা দেখি আমার গুন্ডি প্রেমিকা ||
অতঃপর তার কাছে গেলাম গিয়ে বল্লাম---->
আমি: এই যে মহারানী এত দিন কথায় ছিলেন যানো আমি তোমাকে কতটা মিস করছি প্লিজ আমাকে ক্ষমা করে দাও ??
মেয়ে: এথান থেকে সরুন আমার ক্লাস শুরু হয়ে যাচ্ছে ||
আমি: এই তুমি আমাকে আপনি করে বলছো কেনো আচ্ছা খুব রাগ করেছো প্লিজ সরি বল্লাম তো আর হ্যা আমি ও না এই কয়দিনে তোমাকে ভালোবেসে ফেলছি ||
মেয়ে: দেখুন আমাকে যেতে দিন আমার ক্লাস শুরু হয়ে যাচ্ছে ||
আমি তখন তার পা ধরে বসলাম আর বল্লাম---->
আমি: প্লিজ আমাকে ক্ষমা করে দাও |
দূর কোনো কথাই শুনলো না চলে গেলো খুব রাগ করছে আমার উপর এরকম প্রাই অনেক দিন সরি বল্লাম কিন্তু ক্ষমা করলো না |
তো আজ তার সামনে গিয়ে বল্লাম----->
আমি: তুমি কি সত্যি আমাকে ক্ষমা করবা না ?
মেয়ে: আপনি আবার এসেছেন ??
আমি: আচ্ছা সরি ক্ষমা করে দিও কি আর করার যাকে ভালোবাসলাম সে তো আর আমাকে ক্ষমা করছে না তাহলে একা থেকে কি লাব তার থেকে মরে যাওয়াই ভালো আচ্ছা ভালো থেকো ||
এটা বলেই ছাদে চলে গেলাম ছাদ থেকে লাপ দাওয়ার জন্য কিন্তু কি আর করার বলুন ছাদ থেকে নিচে তাকাতেই আমার মাথা ঘুরাচ্ছে এখান থেকে লাপ দিবো তাছারা এই প্রথম একটা মেয়ের জন্য খুব ভয় করছে দূর এইসব চিন্তা করতে করতে দেখি আমার পিছেন আমার গুন্ডি প্রেমিকা তখন আমি বল্লাম----->
আমি: দেখো সত্যি সত্যি এখান থেকে লাপ দিবো ??
মেয়ে: আমি তো তোর মরা দেখার জন্য এসেছি তারাতারি লাপ দে ||
আমি: প্লিজ সরি বল্লাম তো তাছারা আমার না খুব ভয় করছে ||
মেয়ে: হারামজাদা তুই লাপ দিবি নাকি আমি তোকে দাক্কা দিয়ে ফেলে দিবো??
আমি: কি আর করার আচ্ছা ভালো থেকো.... ||
চোখ টা বন্ধ করে যেই লাপ দিতে যাবো তখনি আমার হাত ধরে দিলো টান তখন চোখ খুলে বল্লাম----->
আমি: যাক বেচে গেলাম ||
অতঃপর জোরে একটা থাপ্পর দিলো আর কান্না করে বল্লো------>
মেয়ে: হারামজাদা জানিস আমি তোকে কতটা মিস করছি জানিস আমি তোকে কতটা ভালোবাসি সেই প্রথম থেকে তোর সাথে থাকতে থাকতে তোকে ভালোবেসে ফেলি হারামজাদা কথা বলবি না আমার সাথে ||
আমি: এই সরি বল্লাম তো যানো আমি না তখন বুঝতে পারি না ভালোবাসা কি কিন্তু পরে আস্তে আস্তে তোমাকে দেখে বুঝলাম সত্যি আমি ও তোমাকে খুব ভালোবেসে ফেলছি তুমি আমাকে মারো বা যা করো তোমাকে ছারা বাচবো না যেই বল্লাম আর একটা থাপ্পর মারলো তখন আমি বল্লাম----->
আমি: এটা কিসের জন্য ?
মেয়ে: সেদিন আমাকে ঐভাবে থাপ্পর মারছিলি কেন ?
আমি: আচ্ছা সরি এইবার তো ক্ষমা করে দাও ??
মেয়ে: না করবো না ||
আমি: কি আর করার যাই গিয়ে লাপ দেই ছাদ থেকে ||
তখন সে আমাকে শক্ত করে জরিয়ে ধরলো আর বল্লো---->
মেয়ে: আমাকে রেখে মরে যাবি??
আমি: আহারে এই না হলো আমার বউ ||
অতঃপর সে আমাকে কিছুক্ষন জরিয়ে ধরলো তো একটু পর আমি বল্লাম---->
আমি: আচ্ছা আমি কি তোমাকে একটা চুমু দিতে পারি ?
মেয়ে: সয়তান নিজের বউকে চুমু দিবি এটা আবার বলা লাগে ??
পরে আমি তার গালে একটা চুমু দিলাম আর বল্লাম----->
আমি: ইশশ কি গন্ধ বাসা থেকে কয়কেজি আটা ময়দা মেখে আসছো ওয়াক থু .......||
মেয়ে: কি বল্লি হারামজাদা খারা আজকে তোকে বাশ দিয়ে পিটাবো||
অতঃপর কে কাকে দেখে দিলাম দৌর |
এইভাবেই আমাদের ভালোবাসা চলতে থাকে ||
.
♥.....♥......♥......♥.......♥
.
.
--------""The End""----------

গল্প :- "হেডমাষ্টারের princes"
.
লেখক:- #RJ_Nayem_Ahmed
.
পর্ব:-০৭~~~

.
.
এই বেটা তেরামি করিস কেন যা কইছি তা শুনবি!!
.
আমি: কথায় তেরামি করলাম ভাইয়া আমি তো শুধু বল্লাম যে কোনো প্রবলেম??
---->তোর সাহস তো কম না বড় ভাইগো লগে এমনে কতা কস ক্যান??
আমি: ভাইয়া আমি তো অপরাধ করি নি!!
অতঃপর কি আর করার কথা কাটা কাটি হলো আর তারা সবাই মিলে আমাকে মাইর দিলো আর আমি বা কি করতাম একা মানুষ তাছা কখনো মারা মারি ও করি নি যাইহোক পরে বল্লো---->
--->তরে জানো আর আমগো সামনে না দেহি!!
আমি: ঠিক আছে!!
দূর মাইর খেয়ে চুপ চাপ ক্লাসে বসে হঠাৎ সেই মহারানি হাজির মানে গুন্ডি মেয়েটা আর এসেই আমার কলার টা টেনে বাহিরে নিয়ে গেলো আর বল্লো--->
মেয়ে: কি হইছে তখন??
আমি তো অবাক তখন কি সে দেখছিলো নাকি আমাকে যে মাইর দিছে আর নাহলে কেও বলে দিছে যাইহোক তখন মিথ্যা বল্লাম---->
আমিঃ আরে কিছু হয় নি!!
মেয়েঃ দেখ জাহিদ আমার রাগ উঠাইস না সত্যি করে বল বলছি??
আমিঃ ঐ একটু বড় ভাইদের হাতে মাইর খাইছি!!
যেই বল্লাম সেই আমার হাত টা ধরে সেই বড় ভাইদের সামনে নিয়ে গেলো আর হাতের কাছে একটা বাশ ছিলো সেটা ও নিলো আমার হাতটা ছেরে গিয়ে দেখি বাশ দিয়ে একাই সবগুলারে বারি মারতেছে আমি তো পুরাই থ এটা আমি কি দেখছি যেখানে আমার মাইর দাওয়ার কথা সেখানে সে দুম দাম মাইর দিতেছে
তাও আমার জন্য পরে এই চিন্তা করতে দেখি তাদের মেরেই ফেলবে আমি ভয়ে শেষ এটা কি আসলে মেয়ে যেমনে মাইর দিতেছে পরে আমি গিয়ে তাকে থামালাম আর তখন বল্লাম---->
আমিঃ এই কি করতেছে মেরে ফেলবা নাকি??
মেয়েঃ ওদের মেরেই ফেলবো ওরা কার গায়ে হাত দিছে!!
আমি কথাটা শুনে তো অবাক কি বলে এগুলো তখন আমি বল্লাম---->
আমিঃ আমাকে মারলে তাতে তোমার কি??
পরে সে বড় ভাইদের বল্লো----->
মেয়েঃ আজকের পর থেকে যদি দেখি ওর গায়ে হাত দিছিস একে বারে হাত কেটে ফেলবো শুনে রাখ ও হলো আমার বি এফ মানে জামাই!!
আমি তো কথা শুনেই বেহুস এই গুন্ডি মেয়ে এগুলা কি বলে তাছারা এই মেয়ে হবে আমার বউ আমি এই কথা চিন্তা করতেই অজ্ঞান হয়ে গেছি তো কিছু ক্ষন পর দেখি মুখে পানি ছিটা মারছে চোখ খুলে দেখি তার কলে আমার মাথা আর তখন বল্লো---->
মেয়েঃ কিরে কি হইছে তোর ঠিক আছিস তো??
পরে তার কলে থেকে উঠে বল্লাম---->
আমিঃ তখন তুমি কি বল্লা??
মেয়েঃ যা সত্যি তাই বলছি!!
আমিঃ না এটা হতে পারে না তাছারা তুমি আমার বউ এটা কখনো সম্ভব না!!
মেয়েঃ এই সম্ভব না মানে আমি কি দেখতে শুনতে খারাপ তাছারা আমি কি সুন্দর না এতকিছু জানি না আমি তোকে ভালোবেসে ফেলছি আর তোকেই বিয়ে করবো!!
আমিঃ না আমি পারবো না!!
মেয়েঃ কি বল্লি তুই পারবি না তোর বাব পারবে!!
আমিঃ তা গিয়ে করতে পারো নতুন একটা মা আসবে!!
এটা বলেই দিলাম দৌর!!
এখন কি করবো দূর এই মেয়ে টা নাকি এখন আমার প্রেমে পরছে এখন কি যে করি দূর আর ভালো লাগে না!!
তো কলেজে গেলাম দেখি আমার জন্যই অপেক্ষা করছে আর বলছে---->
মেয়েঃ চল.......!!
আমিঃ কথায়??
মেয়েঃ আজকে তোকে নিয়ে র্পাকে যাবো!!
আমিঃ আমি যাবো না!!
মেয়েঃ কি বল্লি যাবি না মানে তুই আমার বি এফ আর আমি যেটা বলবো সেটা শুনবি!!
আমিঃ প্লিজ আমাকে ছেরে দাও তুমি আমার থেকে আরো ভালো ছেলে পাবা তবুও আমাকে ছেরে দাও!!
মেয়েঃ দেখ তোকে আমার ভালো লাগছে তাই তোকেই ভালোবাসবো এখন বেশি কথা বল্লা আব্বুকে বলে দিবো তখন বকা খাবি!!
আমিঃ হায়রে কেও আমাকে মেরে ফেলে!!
অতঃপর তার সাথে র্পাকে অনেক ক্ষন ঘুরলাম তারপর বাসায় চলে গেলাম এরকমি প্রতিদিন বিভিন্ন জাগায়ে আমাকে নিয়ে যেতো আর না গেলে হয়তো মাইর আর না হলে তার বাবার হুমকি দূর আর ভালো লাগে না এরকম আর চলতে দেওয়া যাবে না কখন না আবার বিয়েই করেই ফেলে!!
অতঃপর কলেজে গেলাম দেখি আজ ও আমার জন্য অপেক্ষা করছে আমার কাছে আসলো আর বল্লো---->
মেয়েঃ এখনি গিয়ে একটা পাঞ্জাবি পরে আয় যা!!
আমিঃ কেনো??
মেয়েঃ আজ আমরা বিয়ে করবো তাই!!
যেটা শুনার বাকি ছিলো যাইহোক পরে বল্লাম----->
আমিঃ দেখো এটা কখনো হয়না তুমি কথায় আর আমি কথায় তাছারা আমি তোমার ছোট আর আমার এখনো পরালেখা শেষ হয়নি যাইহোক পাগলামি বাদ দাও!!
মেয়েঃ ওরে বাবা কত জ্ঞানি হয়ে গেছে......

গল্প :- "হেডমাষ্টারের princes"
.

পর্ব :-- ০৬ ~~~
.
লেখক:- #RJ_Nayem_Ahmed
.
.
মেয়ে : এই ভিতুর বাচ্চা এইদিকে আয় |
আমি তখন গিয়ে বল্লাম---->
আমি: দেখো আমার আম্মু ভিতু না খুব সাহসি তুমি ও তার সাথে পারবা না |
মেয়ে: ঐ আমি কি তোর আম্মুকে বলছি তোকে বল্লাম |
আমি: তার মানে আমার আম্মু কি দুইটা |
মেয়ে: হায়রে এ কোন পাগল বুঝলাম না যাইহোক শুন |
আমি: হুম বলো ?
মেয়ে: ঐযে দোকান দেখছিস ঐ খান থেকে এক পেকেট বেন্চ্ঞন সিগারেট নিয়ে আসবি যা |
আমি অতঃপর যাচ্ছি হঠাৎ থমকে গেলাম এটা কি হলো সে তো মেয়ে আর সে কিনা সিগারেট খায় অতঃপর আবার তার কাছে গিয়ে বল্লাম----->
আমি: এই তুমি সিগারেট খাও ছি ছি
মেয়ে: তোরা খেতে পারলে আমরা খেতে পারবো না কেনো ?
আমি: সবাই খেলে ও আমি খাই না কিন্তু শেষ পর্যন্তু তুমি সিগারেট ও খাও ?
মেয়ে: ওরে কচি খোকা মনে হয় আকাশ থেকে পরছিস যেটা বলছি সেটা গিয়ে আন যা |
আমি: এটা আমি পারবো না |
মেয়ে: তুই পারবি না তোর চৌদ্দ গুষ্টি পারবে যাবি নাকি আব্বুকে বলে দিবো যে তুই আমাকে সিগারেট আনতে পাঠাইছিস ?
আমি: এই না প্লিজ এভাবে থ্রেড দিও না |
মেয়ে :তাহলে যা তারাতারি নিয়ে আয় |
আমি: কিন্তু টাকা ?
মেয়ে: ছি তোর লজ্জা করে না মেয়েদের থেকে টাকা চাস ?
অতঃপর গেলাম সিগারেট আনতে যে ছেলে জীবনে সিগারেট দরলো না আর আমি কিনা আমার টাকা দিয়ে সিগারেট আনছি
তাও একটা মেয়ের জন্য কোন পাগলে বলছিলো যে এই কলেজে ভর্তি হতে দূর জীবনটাই তেজ পাতা অতঃপর সিগারেট নিয়ে তাদের কাছে গেলাম আর বল্লাম---->
আমি: এই নাও সিগারেট আমি গেলাম |
মেয়ে: এই তুই কথায়ে যাস ?
আমি: কেনো ক্লাসে যাবো |
মেয়ে: আজ যাওয়া লাগবে না আমাদের সাথে থাক |
আমি: সরি আমি গুন্ডি থুক্কু গুন্ডা না |
মেয়ে: কি বল্লি খারা এই সিগারেট দরা এটা |
আমি: কি আমি সিগারেট দরাবো এই না প্লিজ এটা আমি পারবো না |
মেয়ে: তুই পারবি না তোর বাব পারবে ?
আমি: হ্যা আমার আব্বুর কাছে যাও সে খুব ভালো সিগারেট খেতে পারে |
মেয়ে: এই তোকে বলছি না দরাতে |
আমি: প্লিজ আমাকে ছেরে দাও |
মেয়ে: দরাবি নাকি আব্বুর কাছে যাবো ?
আমি: এই না দরাচ্ছি |
এ কার কপালে আমি পরলাম না পারি কইতে না সইতে অতঃপর মেছ দিয়ে সিগারেট দরালাম যেই মুখের ভিতরে দুমা গেলো আমি কাশতে কাশতে শেষ পরে সে বল্লো----->
মেয়ে: হাহাহা সামান্ন একটা সিগারেট খেতে পারিস না দে এদিকে?
অতঃপর দিলাম আমি তার খাওয়া দেখে তো পুরাই থ এটা কি মেয়ে না ছেলে পুরাই গুন্ডি মাস্তান পরে বল্লাম---->
আমি: আচ্ছা তুমি এরকম র্শাট প্যান্ট পরো কেনো পরে সিগারেট খাও কেনো তোমার আব্বু আম্মু কিছু বলে না ?
মেয়ে: শুন আমি আমার বাবার এক মাত্র মেয়ে আর মেয়ে হয়েছি বলে কি এগুলা করতে পারবো না তাছারা এরকম থাকতে আমার খুব ভালো লাগে বুঝলি ?
আমি: তাই বলে এরকম পরে তো তোমাকে কেও বিয়ে করবে না ?
মেয়ে: যাকে বিয়ে করার তাকে আমি জোর করেই বিয়ে করবো |
আমি: কেনো তোমার বি এফ নাই ?
মেয়ে: আমার অবস্থা দেখে কেও প্রেম করতে আসে না |
আমি: তা তো কখনো আসবেই না যে আসবে তার জীবন তেজ পাতা |
মেয়ে: কেনো তেজ পাতা আমি কি কম সুন্দর তাছারা আমার থেকে ভালো মেয়ে আছে বল ?
আমি: তুমি ভালো ?
মেয়ে: কি বল্লি আমি ভালো না ?
আমি: না না ভালো তো তুমি তো দুধে দয়া তুলসি পাতা |
মেয়ে: কি বল্লি খারা ?
আমি আর নাই গেলাম চলে বাসায় দূর এরকম বজ্জাত মেয়ে কথা থেকে যে আসে দূর আমার জাগায় কেও হলে মরে যেতো এরকমি প্রতিদিন চলতো কলেজে আমার সাথে তো একদিন কলেজে গেলাম মানে আজ একটা নতুন একটা র্গালফ্রেন্ড মানে জি এফ জুটাইছি তাও অনেক রিকয়েষ্ট করার পর |
তো কলেজে গেলাম একটা গোলাপ ফুল নিয়ে নতুন মেয়েটিকে দিবো অতঃপর একটা খোলা জাগায় ডাক দিলাম অতঃপর ফুল টা বের করে যেই আই লাভ ইউ বলতে যাবো তখনি গুন্ডি মেয়েটা মানে ওরনি আপু হাজির তখন সে বল্লো----->
মেয়ে: এইখানে কি হচ্ছে ?
আমি তখন বল্লাম---->
আমি: প্লিজ তুমি চলে যাও জীবনের প্রথম একটা জি এফ পাইছি কিছু কইরো না |
মেয়ে: রাখ তোর জি এফ এই মেয়ে ভালো ভাবে এখান থেকে চলে যাও আর না হলে তো আমাকে চিনো কি করবো তোমাকে?
এই মুহূর্তে নতুন মেয়েটা ভয় পেয়ে চলে গেছে তখন আমি বল্লাম------>
আমি: এটা কি করলে জীবনে প্রথম একটা জী এফ পাইছিলাম আর তুমি এসে দিলো তাকে উরিয়ে দূর |
মেয়ে: হাহাহা আহারে কি কষ্ট হয় ?
আমি: কথা বলবা না যাও |
মেয়ে: শুন তোকে যানো কোনো মেয়ের সাথে না দেখি আর দেখলে মনে কর আগে মেয়েটাকে পিটাবো তারপর তোকে পিটাবো |
আমি: তুমি এক কাজ করো আমাকে মরে ফেলো তাহলেই ভালো হয় |
মেয়ে: হাহাহা থাকা পরে মরিস এখন তোর হাতের ফুলটা দে|
অতঃপর ফুলটা নিয়েই গেলো মনে হয় এ জীবনে আর জী এফ হবে না এরকমি যখনি মেয়েদের সাথে কথা বলতাম তখনি এসে বকা দিতো আর থ্রেড দিতো দূর ইচ্ছা হচ্ছে মরে যেতে কিন্তু আমার বউ এর জন্য তো বেচে থাকতে হবে তাই না|
তো আজ কলেজে গেলাম দেখি কিছু বড় ভাইরা কলেজের ভিতরে বসে আছে পরে আমি তাদের সামনে দিয়ে যেতে লাগলাম তখন তারা ডাক দিলো--->
--->এই এদিকে আয় ?
তখন আমি গিয়ে বল্লাম--->
আমি: জী ভাইয়া কিছু বলবেন ?
--->তুই নাকি ওরনির সাথে সারদিন থাকস ?
আমি: জী ভাইয়া কোনো প্রবলেম?

গল্প :- "হেডমাষ্টারের princes"
. লেখক:- #RJ_Nayem_Ahmed
.
পর্ব :- ০৫ ~~~
.
.
মেয়ে: এই এইদিকে আয় |
তখন একটু না দেখার বান করে চলে যাচ্ছি পরে আবার ডাকদিলো এইবার ডাক দিলো না ইয়া বড় একট ইট মারলো কোনো রকম বেচে গেলাম আর না হলে তো মাথা টা ফেটে যেতো পরে আমি তার কাছে গিয়ে বল্লাম----->
আমি: কি তোমার সমস্যাটা কি এখনি তো মাথাটা ফেটে যেতো?
মেয়ে: প্রথমে তোকে ডাক দিছি না শুনিস নি কেন ?
আমি: কই কখন ডাক দিলা ?
যেই বল্লাম তখন শক্ত করে কানটা দরলো আর বল্লো---->
মেয়ে: তোর কানে সমস্যা আছে বুঝেছি |
আমি: এই ছারো ব্যাথা লাগছে |
মেয়ে: আগে বল আমাকে ফেসবুকে একসেপ্ট করিস নি কেন?
আমি: আরে আগে কান টা ছারো তারপর বলতেছি |
মেয়ে: ছারলাম এখন বল |
আমি: আসলে আমি তো ফেসবুকেই ডুকি না |
মেয়ে: কেনো কি হইছে ?
আমি: ডুকবো কার জন্য আমার কি কেও আছে ফেসবুকে তাছারা একটা জি এফ ও নাই তাই ভালো লাগে না |
মেয়ে: ওরে বাবা জি এফ নেই বলে কি চালানো যাবে না যাইহোক আজ কলেজ ছুটি হলে বাসায় গিয়ে আমাকে একসেপ্ট করবি |
আমি: আমার বয়েই গেছে তোমার জন্য আমি ফেসবুক চালাবো|
মেয়ে: কি বল্লি ?
আমি: এইরে ক্লাস শুরু হয়ে গেছে দূর তোমার জন্য দেরি হয়ে গেছে|
অতঃপর ক্লাসে চলে গেলাম দেখি স্যার ক্লাস করাচ্ছে অতঃপর বল্লাম---->
আমি: স্যার আসতে পারি ?
স্যার: বাসায় কি বউ বাচ্চা রেখে আসছো নাকি?
আমি: কি বলেন স্যার আমি তো বিয়েই করি নি |
স্যার: বেয়াদব ছেলে তাহলে প্রতিদিন দেরি হয় কেনো হুম ?
আমি: সরি স্যার আর হবে না |
স্যার: আসো |
অতঃপর ক্লাস করলাম দূর আজ গুন্ডি মেয়েটার জন্য দেরি হলো একটু পর দেখি পিয়ন এসে বলছে---->
পিয়ন: এখানে জাহিদ কে ?
তখন আমি বল্লাম----> জী আমি |
পিয়ন: তোমাকে প্রিন্সিপাল স্যার ডাকছে |
আমি তো অবাক হলাম হঠাৎ আমাকে ডাক দিবে পরে গেলাম প্রিন্সিপাল স্যারের রুমে পরে বল্লাম--->
আমি: স্যার আসতে পারি ?
স্যার: আসো |
আমি: স্যার আপনি নাকি আমাকে ডেকেছেন ?
স্যার: তাহলে তুমি জাহিদ ?
আমি: জী স্যার ?
স্যার: এই তোমার তো সাহস কম নয় তুমি নাকি আমার মেয়েকে ফেসবুকে ডিস্টাব করো ?
আমি তো পুরাই থ যাকে এখনো একসেপ্ট করলাম না তাকে নাকি আমি ডিস্টাব করি বুঝেছি ঐ গুন্ডি মেয়েকে একসেপ্ট করি নি দেখে মিথ্যা বলছে পরে আমি বল্লাম----->
আমি: স্যার আপনার মেয়ে আছে ?
স্যার: এই বেয়াদব ছেলে আমার সাথে ফাইজলামি করো একে বারে বের করে দিবো কলেজ থেকে |
আমি: সরি স্যার |
স্যার: যাও ক্লাসে আর জানো কখনো না দেখি এরকম |
আমি: ওকে স্যার |
দূর আজ যে কার মুখ দেখলাম কলেজে এসেও শান্তি নেই এদিকে গুন্ডি মেয়ে আর প্রিন্সিপাল স্যার দূর আর ভালো লাগে না |
অতঃপর টিফিন দিলো ক্যান্টিনে যাবো তখন দেখি ওরনি আপু বসে আছে আর তার লেডি গেং পরে আমি বল্লাম---->
আমি: এটা কিন্তু ঠিক হলো না |
মেয়ে: কেনো কি করলাম ?
আমি: তুমি তোমার আব্বুকে বলছো আমি নাকি তোমাকে ডিস্টাব করি ?
মেয়ে: তাহলে তখন বল্লি কেনো যে একসেপ্ট করবি না ?
আমি: তাই বলে এরকম বড় মিথ্যা ?
মেয়ে: আহারে আব্বু কি বেশি বকা দিছে ?
আমি: কথা বলবা না যাও |
মেয়ে: যাই গিয়ে আবার বলি যে আমাকে কথা বলতে হুমকি দিছে?
আমি: এই না প্লিজ তুমি এরকম কেনো কিছু করলাম না তাও অপরাধ ?
মেয়ে: হাহাহা আমি এরকমি |
আমি: বাবটা যেমন মেয়ে টাও তেমন |
মেয়ে: এই কি বল্লি আমার বাবা কেমন ?
আমি: না না খুব সুন্দর তোমার আব্বু যে কেও ক্রাশ খাবে |
মেয়ে: হারামজাদা আমার আব্বুকে নিয়ে ফাইজলামি খারা |
অতঃপর সে একটা এক লিটার কোকাকোলা কিনে আমার শরির টাকে বিজিয়ে দিছে তখন আমি বল্লাম---->
আমি: হায়রে আজ এখানেই গসল হয়ে গেছে |
মেয়ে: আমার রাগের বেপারে জানস না|
আমি: আহারে খুব মজা লাগতেছে|
মেয়ে: কেনো তোর গায়ে আরো কোকাকোলা এক লিটার ঢেলে দিলাম তাহলে মজা আসলে কথা থেকে ?
আমি: আসলে তুমি চিন্তা করো এখন আমি আর তুমি যদি গসল খানায় থাকতাম আর তুমি আমাকে কোকাকোলা ঢেলে দিচ্ছ আহারে কি মজাই হতো থাক বাকিটা বল্লাম না লজ্জা করতেছে|
মেয়ে: জাহিদের বাচ্চা ঐ তোরা ওরে ধর |
চাচা আপন প্রান বাচা দিলাম দৌর উফফ বেচে গেলাম যে মেয়েরা বাবা বাপের জন্মে ও দেখি নি ও থুক্কু আমি তো আমার আব্বুর পরে হইছি |
অতঃপর সেদিন কলেজ করে বাসায় গেলাম খাওয়া দাওয়া করে একটু ফেসবুকে ডুকলাম কারন ঐ গুন্ডি মেয়ের জন্য অতঃপর তাকে একসেপ্ট করলাম তার কিছু ক্ষন পরই দেখি আমাকে মেসেজ দিলো---->
মেয়ে: আচ্ছা সাদা কাপরের দাম কত জানিস ?
আমি: আহারে শেষ পর্যন্ত তুমি বিদবা হইয়া গেলা এই আচ্ছা তোমার স্বামীর ৪০শা কবে অনেক দিন ধরে খাই না |
মেয়ে: হারামজাদা কালকে তোকে মাডার করবো তাই আগে থেকে সাদা কাপরের দাম জিগ্গাসা করলাম |
আমি: ওহ আচ্ছা.... এই কি বল্লা তুমি মাডার করবা তাও আমাকে প্লিজ এরকম করো কেনো আমি তো নিষ্পাপ প্লিজ আমাকে ছেরে দাও আমি বিয়ে করে মরতে চাই |
মেয়ে: হাহাহা শখ কত |
আমি: প্লিজ আমাকে মাইরো না তুমি যা বলবা তাই করবো |
মেয়ে: সত্যি বলসিস ?
আমি: চৌদ্দ সত্যি |
মেয়ে: চৌদ্দ সত্যি কেনো বল্লি?
আমি: সবাই তো বলে চৌদ্দ গুষ্টি আমি বলি চৌদ্দ সত্যি |
মেয়ে: হাহাহা আচ্ছা একটা গান শুনা |
আমি: কিভাবে শুনাবো তুমি তো অনলাইনে তা ছারা আমি গান টান পারি না |
মেয়ে: কেনো লিখে শুনাবি আর না পারলে ও বলতে হবে তুই বলসিস আমার কথা শুনবি ?
আমি: আচ্ছা বলছি |
মেয়ে: হুম বল |
আমি: তুমি দিও নাগো বাসর ঘরের বাত্তি লিবাইয়া আমি অন্ধ ঘরে বদ্ধ হয়ে যাবো মরিয়া |
মেয়ে: হারামজাদা আর কোনো গান পাশ নাই ?
আমি: কেনো খারাপ হইছে আচ্ছা আর একটা বলছি |
মেয়ে: হুম বল |
আমি: তুমি মোর জীবনের ভাবনা হৃদয়ের শুখের দোলা তোমাকে আমি ভুলতে পারি....... [বাকিটা আর পারি না]
মেয়ে: কেও আমাকে মেরে ফেল তুই কি এগুলো গান শুনিস ?
আমি: কেনো এগুলো তো খুব ভালো গান আচ্ছা রোমান্টিক গান বলবো ?
মেয়ে: দেখি বল |
আমি: ঐ জাকা নাকা জাকা নাকা দেহো দলা না মন বলে মন বলে দেহো দিবা না |
মেয়ে: হাহাহা এই তোর আর গান বলা লাগবে না গিয়া বিষ খা তাও দেখ শান্তি পাবি|
আমি: তাই খাওয়া লাগবে যে পরিমানে র্নিযাতন হচ্ছি মনে হয় আর বেশি দিন বাচবো না |
মেয়ে: হাহাহা তোকে আবার কে র্নিযাতন করছে ?
আমি: তুমি ছারা আর কে করবে ?
মেয়ে: কি বল্লি তুই ??কালকেই তুই শেষ ||
আমি: প্লিজ ছেরে দাও আমি তো মজা করলাম |
মেয়ে: হাহাহা তুই এত ভিতু কেনো ?
আমি: গরিব মানুষ তো তাই |
মেয়ে: হইছে আর ডায়লগ দিতে হবে না |
অতঃপর এরকম কথা চলতো আর সে শুধু খালি আমাকে ভয় দেখাতো দূর কেনো যে এই গুন্ডি মেয়েটা আমার কপালে আসলো জীবনটা তেজ পাতা তো আজ কলেজে গেলাম দেখি বসে আছে পরে আমাকে ডাক দিলো-----

গল্প:- "হেডমাষ্টারের princes"
.
লেখক:- #RJ_Nayem_Ahmed
.
পর্ব:- ০৪ ~~~
.
.
.
মেয়ে: আচ্ছা তোর নাম কি?
আমি: নাম দিয়া কাম কি বরিশাইল্লা খা.........| [থাক আর বল্লাম না]
মেয়ে: কিরে চুপ হয়ে গেলি কেনো ?
আমি: না মানে আপনি বরিশালের খা..খাবার খেয়েছেন ?
মেয়ে: হারামজাদা এইটা তোর নাম আমি কিছু বুজি না তুই কি বলতে চাইসিস বুঝছি ?
আমি: আরে আমি তো কিছু বলি নি বল্লাম যে বরিশালের খাবার খেয়েছেন নাকি ?
মেয়ে: কেনো তোর বাড়ি বরিশাল নাকি ?
আমি: ক্যান আরে দেখি আন্নের কিত্তে বরিশাল মনো ঐলো ?
মেয়ে: হাহাহা তার মানে নোয়াখালি ?
আমি: সাবধান মরে নোয়াখাইল্লা কইবেন না হেইয়া কইলে মোর ভিতোরে ছার খার ঐয়া যায় |
মেয়ে: হাহাহা এই তুই থাম সত্যি করে বল তই কন জাগার ?
আমি: আপনি কিতা কইতাচেন আমারে কি বরিছাল আর নোয়াখালি মনে ঐতাচে নাকি ?
মেয়ে: বুঝছি তোকে এখন একটু দলাই দিতে হবে |
আমি: এই না না বলছি |
মেয়ে: হুম বল ?
আমি: আসলে আমার গ্রামের বাড়ি বরগুনা সেখানে আব্বু আম্মু থাকে আর এখানে ঢাকায় পরাশুনার জন্য ভাইয়ার বাসায় আসছি|
মেয়ে: ওহ আচ্ছা আর জানিস আমি এইখানের স্থানিও |
আমি: তাই তো বলি এত কলিজা আসে কথা থেকে আমাদের ওখানের হলে কি যে করতাম ?
মেয়ে: কি বল্লি কি করতি বল ?
আমি: এই না না কিছু না আপনাকে নিয়ে ঘুরতে যেতাম সেনেমা দেখতে যেতাম এক সাথে পাশা পাশি বসে থাকতাম আরো যে কত কি ........|
যেই বল্লাম সেই জোরে একটা থাপ্পর মারলো আমি তখন বল্লাম----->
আমি: কি হলো থাপ্পর মারলেন কেনো কি অপরাধ করলাম ?
মেয়ে: থাপ্পর টা না মারলে তুই স্বপ্নের জগৎতেই থাকতি |
আমি: দূর আজ যে কার মুখ দেখেছিলাম তখন থাপ্পর খেলাম আর এখন একটা আমার গালটা তো সরকারি |
মেয়ে: বেয়াদবি করলে রট দিয়ে পিটাবো |
আমি: এই না এটা করবেন না |
মেয়ে: আচ্ছা ঠিক আছে এখন বল তোর নাম কি ?
আমি: আমার নাম জানু |
মেয়ে: দেখি তো তোর গালটা একটু এদিকে আন ?
আমি: এই না না বলছি আমার নাম জাহিদ |
মেয়ে: হুম খুব সুন্দর |
আমি: পছন্দ হয়েছে ?
মেয়ে: মানে ?
আমি: আসলে নাম পছন্দ হলে তো তাকেও পছন্দ করা তাই না আহারে কি লজ্জা |
মেয়ে: তোর লজ্জার গুষ্টি কিলাই এই মামা ছুরিটা দাও তো |
আমি: এই না প্লিজ আমাকে ছুরির ভয় দেখাবেন না আর না হলে কিন্তু সত্যি সত্যি প্যান্টে হিসু করে দিবো |
মেয়ে: হাহাহা তাহলে খারা তোর সব আজ কেটে ফেলবো |
আমি: প্লিজ একটা জাগা বাদে কাইটেন সেটা ছারা আমি বাবা ডাক শুনতে পারবো না |
তখন সে লজ্জায় বল্লো---->
মেয়ে: ছি কি বলিস এগুলো ?
আমি: আসলে আমি বলতে চাইলাম যে আমার কান দুটো কাইটেন না সেটা ছারা আমি বাবা ডাক শুনতে পারবো না |
মেয়ে: হাহাহা ওহ আচ্ছা |
আমি: কেনো আপনি কথায় ভাবছিলেন ?
মেয়ে: দেখ এখন কিন্তু কেটে ফেলবো |
আমি: এই না সরি ক্ষমা করে দিন|
মেয়ে: হাহাহা তুই দেখি আসলোই অনেক ভিতু |
আমি: হ্যা খুব ভিতু | আমি মাঝে মাঝে রাতে ভয় পেলে আম্মুর কলে গিয়ে উঠি |
মেয়ে: কি তোর আম্মুর কলে হাহাহা |
আমি: এইযে এখানে হাসার কি হলে মাঝে মাঝে তো আমার আম্মু আমাকে লুঙ্গি পরিয়ে দিতো |
মেয়ে: এই তুই আর কথা বলিস না তোর কথা শুনে হাসতে হাসতে মরে যাবো |
আমি: আহারে কি হাসি আপনার পুরাই ঘোরার হাসির মতো |
যেই বল্লাম সেই আমার কলার ধরে বল্লো----->
মেয়ে: কার হাসির মতো আবার বল ?
আমি: এই না মানে আসলে পূর্নিমার চাদের মতো হাসি |
মেয়ে: হুম এটা আগে বল্লে কি তোর কলারটা ধরতাম জা ছেরে দিলাম |
উফফ খুব জোর বেচে গেলাম আর না হলে ক্যান্টিনেই মাইর খেতাম অতঃপর আমি বল্লাম----->
আমি: আচ্ছা আপনার নামটাই তো জানা হলো না |
মেয়ে: ওরনি আপু বলে ডাকবি |
আমি: ওহহ আচ্ছা সাতচুন্নি আপু বলে ডাকবো ?
মেয়ে: এই মামা ছুরিটা দাও তো |
আমি: এই না আমি তো মজা করলাম ওরনি আফু |
মেয়ে: ঠিক আছে মনে থাকে জানো |
আমি: আচ্ছা মনের ভিতরে লিখে রাখবো তোমারি নাম সরি আপনার নাম |
মেয়ে: প্রবলেম নেই তুই আমাকে তুমি করে বলতে পারিস তাছারা আমি তো তোর এক ইয়ারের বড় ততটা বড় না |
আমি: তুমি করে বল্লে যদি আমাকে মার দেন তাহলে ?
মেয়ে: হাহাহা আরে গাধা মারবো কেনো মারবো না |
আমি: সত্যি ?
মেয়ে: হুম
আমি: কিন্তু তুমি করে না বলতে আমার লজ্জা করে |
মেয়ে: তাহলে এক কাজ করি তোর লজ্জা কে ছুরি দিয়ে কেটে ফেলি ?
আমি: এই না আপনি এরকম কেনো শুধু শুধু খালি ভয় দেখান?
মেয়ে: হাহাহা তাহলে এত লজ্জা পাওয়ার কি আছে যেটা বলছি সেটা বলবি |
আমি: আইচ্ছা |
মেয়ে: এই তুই ক্লাস করবি না ?
আমি: আসলেই তো কিন্তু আপনি থুক্কু তুমি তো আমাকে ক্লাস থেকে টেনে নিয়ে আসছো |
মেয়ে: আচ্ছা এখন যা আর ক্লাস কর |
আমি: যাচ্ছি কিন্তু আজ খেতে খেতে পেট ভরে গেছে সকালে ও খেলাম এখন তুমি আবার ক্যান্টিনে খাওয়ালে |
মেয়ে: মানে তুই না বল্লি যে সকালে কিছু খেয়ে আসিস নি |
আমি: ইয়ে মানে কখন বল্লাম ?
মেয়ে: এই মামা ছুরিটা দাও তো ওর পেট ফুটা করে দিবো |
কে কে দেখে দিলাম দৌর
এই গুন্ডি মেয়ের সাথে থাকলে আমার উপরের টিকিট তারাতারি কাটা হয়ে যাবে যাই হোক ক্লাস করে বাসায় গেলাম ফ্রেশ হয়ে খাওয়া দাওয়া করে একটু রেষ্ট নিলাম ভাবলাম যে আজ একটু ফেসবকে ডুকবো আসলে মেয়ে ফ্রেন্ড ছারা ফেসবুক চালাতে ভালো লাগে না তাছারা কোনো জি এফ ও নেই তাই বরিং লাগে |
তো ফেসবুকে ঢুকলাম ঢুকেই দেখি ওরনি জাহান নামে রিকয়েষ্ট আসছে পরে প্রফাইলে ঢুকে দেখি এটা আর কেও না প্রিন্সিপাল স্যারের গুন্ডি মেয়ে টা ভাবলাম যে একসেপ্ট করলে ও সমস্যা কখন না আবার ফেসবুকে মাইর দেওয়া শুরু করে তাই জুলিয়ে রাখলাম|
অতঃপর কাল কলেজে গেলাম গিয়েই দেখি লেডি গেং আর তাদের বস সাতচুন্নি থুক্কু ওরনি আপু বসে আছে আর দেখছি আমাকে ডাকছে ------

গল্প:- "হেডমাষ্টারের princes"
.
লেখক:- #RJ_Nayem_Ahmed
.
পর্ব :- ০৩ ~~~♥
.
.
আমি: আচ্ছা এখন তাহলে আমি যাই ?
মেয়ে: আচ্ছা যা আর ঠিক মতো পরাশুনা করিস কেমন ?
আমি: যাওয়ার আগে একটা কথা বলে দিতে চাই ?
মেয়ে: কি কথা বল ?
আমি: আসুন কানে কানে বলি আর নাহ হলে সবাই শুনবে |
মেয়ে: হুম এখন বল ?
আমি: ইশশ কি গন্ধ আপনার কানে পরিষ্কার করেন না ?
মেয়ে: এই তুই কি বল্লি ?
আমি: না না কিছু না |
মেয়ে: কি বলবি তারাতারি বল ?
আমি: আসলে আমি না খুব চাপা মারতে পারি |
যেই বল্লাম সেই দিলাম দৌর তখন সে বল্লো----->
মেয়ে: তার মানে তখন তুই আবেগ দেখিয়ে মিথ্যা বল্লি এই হারামজাদাটাকে ধর |
কে কাকে দেখে দিলাম দৌর উফফ বেচে গেলাম কি মেয়েরা বাবা আজকে চাপা না মারলে মেরেই ফেলতো তাও আবার হেড থুক্কু প্রিন্সপাল স্যারের মেয়ে কি যানি কি করে খুব ভয় করছে মেয়েটা পুরা গুন্ডি এই ভয় বাসায় গেলাম তখন দেখি ভাবি বলতেছে----->
ভাবি: কি বেপার জাহিদ আজ প্রথম দিন গিয়েই এত দেরি হলো নতুন কাওকে পেয়েছো নাকি ?
আমি: আর বইলো না ভাবি আজ তো আমি শেষ হয়েই যেতাম |
ভাবি: কেনো কি হয়েছে ?
আমি: আগে এক গ্লাস ঠান্ঠা পানি দাও বলতেছি |
ভাবি: আচ্ছা বসো আনছি |
অতঃপর পানিটা খেয়ে বল্লাম---->
আমি: আহ কি শান্তি |
ভাবি: এখন বলো কি হয়েছে ?
আমি: আরে ভাবি বইলো না আজ কলেজে গেলাম হঠাৎ এক গুন্ডি মেয়ের সাথে জোগরা হলো|
ভাবি: কি বলো তার পর কি হলো ?
তারপর সব খুলে বল্লাম তখন ভাবি কথা শুনে বলতেছে----->
ভাবি: হাহাহা তুমি না আসলেই দুষ্টু |
আমি: হুম খুব জোর বেচে গেলাম |
ভাবি: আচ্ছা যাও ফ্রেশ হয়ে খেতে আসো |
অতঃপর খাওয়া দাওয়া করে একটু পরাশুনা করে দিলাম এক ঘুম হারিয়ে গেলাম স্বপ্নের পৃথিবীতে কি মজার এক স্বপ্ন দেখছি তখনি দেখি কে যানো ডাকছে চোখ খুলে দেখলাম ভাবি পরে বলতেছে----->
ভাবি: এই উঠো আর কত ঘুমাবা তুমি আর তোমার ভাইয়া দেখি একই অবস্থা |
আমি: উফফ আর একটু ঘুমাই |
ভাবি: আরে ঘরির দিকে তাকিয়ে দেখো কয়টা বাজে কলেজে যাবা না ?
আমি: হায়রে আর একটু আগে ডাক দিবা না দূর আজ দেরি হয়ে গেলো |
অতঃপর সকালের নাস্তা করে কলেজে গেলাম তো দেখি ক্লাসে স্যার তো বল্লাম---->
আমি: স্যার আসতে পারি ?
স্যার: এই আচ্ছা তোমরা কি ওকে কেও চিনো ?
সবাই দেখি হাসছে পরে বল্লাম----->
আমি: স্যার গত কালকেই তো ভর্তি হলাম |
স্যার: তা তোমাকে তো মনে হয়ে না তুমি স্টুডেন্ট ?
আমি: কেনো স্যার ?
স্যার: তোমার নিচে তাকাও |
অতঃপর নিচে তাকিয়ে দেখলাম আর তখনি আমি লজ্জায় মুখ ডেকে ফেলি আসলে তারাহুরার ভিতরে প্যান্টের বদলে কলেজে লুঙ্গি পরে আসছি এই দেখে সবাই হাসছে তখন স্যার বল্লো----->
স্যার: বেয়াদব ছেলে এটা কলেজ তোমার বাসা না যাও চেন্জ করে আসো |
আমি: সরি স্যার আমি এখনি চেন্জ করে আসছি |
অতঃপর আবার বাসায় গেলাম লুঙ্গিটা রেখে পেন্ট পরে আসলাম দূর আজ যে কার মুখ দেখলাম অতঃপর ক্লাসে ডুকলাম বন্ধুরা বল্লো----->
বন্ধু: মামা তুই তো শেষ ?
আমি: কেনো মামা কি হইছে ?
বন্ধু: ঐ যে প্রিন্সিপাল স্যারের মেয়ে তোরে কুত্তার লাহান খুজতেছে?
আমি: ওহ আচ্ছা ,এই কি বল্লি ??আমাকে খুজতেছে ??
বন্ধু: হ্যা তোকেই খুজতাছে |
আমি: বন্ধু কাল আমার যানাজা টা পরতে আসিস আর ভুল টুল করে থাকলে মাফ করে দিস |
বন্ধু: কেন তুই কি মরে যাবি ?
আমি: আমাকে যখন খুজতেছে তাহলে তো মেরেই ফেলবে|
অতঃপর ভয়ে ভয়ে ক্লাস করলাম একটু পর দেখি সেই গুন্ডা থুক্কু গুন্ডি মেয়ে ডায়রেক্ট স্যারে সামনে ক্লাসে ডুকে আমার কলার ধরে নিয়ে গেলে আসলে মেয়েটাকে নাকি সবাই ভয় পায় তাই কিছু বলে না অতঃপর সে মাঠের একটা জাগায়ে আমাকে আনলো আর বল্লো----->
মেয়ে: বল কথা থেকে আগে তোকে শুরু করবো ?
আমি: ছি কি বলছেন এসব লোকে দেখলে কি বলবে তাছারা এই মাঠে এই আমার না লজ্জা করছে |
মেয়ে: [ঠাসসস] কি বল্লি আবার বল ?
আমি: উফফ এত আস্তে কেও চর মারে ?
মেয়ে: [ঠাসসস]
আমি: এই প্লিজ আমাকে ছেরেদিন এবার চরটা একটু জোরে লেগেছে |
মেয়ে: এগুলা তো কিছুই না তোকে তো আজ রট দিয়ে পিটাবো খুব ফাইজলামি করিস |
একটু আবেগ দেখিয়ে বল্লাম----->
আমি: হ্যা আমাকে মেরে ফেলুন আমি বাচতে চাই না আর পৃথিবীতে |
মেয়ে: ওরে বাবা এখন মরার ইচ্ছা হলো কি ভাবে ?
আমি: জানেন সকাল থেকে এখনো পর্যন্ত কিছু খাই নি [চাপা]
তাও আবার আজ কলেজে প্রথমে লুঙ্গি পরে আসছি পরে আবার বাসায়ে গিয়ে চেন্জ করে আসছি তাহলে এই পৃথিবীতে বেচে কি লাব বলুন ?
যেই বল্লাম কথা গুলো তখন সেই পরিমানে হাসতেছে যাক আমার আবার চাপা কাজে লাগে তো তখন সে বল্লো---->
মেয়ে: হাহাহাহাহা উফফ তোর কথা শুনে আমি শেষ তুই এত ফানি কেনো রে ?
আমি: কেনো আপনার ভালো লেগেছে আবার প্রেমে পইরেন না কিন্তু ?
মেয়ে: এই কি বল্লি তুই ?
আমি: না না কিছু না প্লিজ এই গরিব ছেলেটাকে কিছু খাওয়াবেন খুব ক্ষিদা লেখেছে ?
মেয়ে: হাহাহা চুপ বেয়াদব চল |
আমি: কথায় ?
মেয়ে: চল ক্যান্টিনে |
অতঃপর তার সাথে ক্যান্টিনে গেলাম গিয়ে দেখি দুম দাম খাবাবের অডার দিচ্ছে তখন আমি বল্লাম---->
আমি: এই আমি কিন্তু কোনো টাকা আনি নি |
মেয়ে: তুই খাবি নাকি মাইর খাবি বল ?
আমি: এই না না খাবো কিন্তু এত টাকা আপনি পাবেন কথা থেকে ?
মেয়ে: সব টাকা আমার আব্বু দিবে আর এর থেকে বেশি প্রতিদিন খাই আর টাকা আব্বু দেয় |
আমি: পৃথিবীতে হইছে এক রাক্ষশ রানি |
মেয়ে: কিরে কিছু বল্লি ?
আমি: না না কিছু বলি নি কত দিন ধরে যে খাই না |
মেয়ে: আচ্ছা তোর নাম কি?