Back To Blogs | My Blogs | Create Blogs

পূজার রসনা

পূজা মানেই বাহারি রান্নায় অতিথি আপ্যায়ন। অতিথির পাতে সবজি, লাবড়া আর বেগুন ভাজাতেই জমে ওঠে পূজার খাওয়া-দাওয়া। পূজার একবেলা খাবারের তেমনই কিছু রেসিপি দিয়েছেন আলিফ রিফাত।

লাবড়া

উপকরণ: আলু ডুমো করে কাটা এক কাপ, পেঁপে ডুমো করে কাটা এক কাপ, মিষ্টি কুমড়া কাটা এক কাপ, বেগুন কাটা এক কাপ, ফুলকপি এক কাপ, বাঁধা কপি এক কাপ, পটোল আধা কাপ, বরবটি আধা কাপ, আদাবাটা এক কাপ, জিরা বাটা আধা চা চামচ, এলাচ দু-তিনটি, দারুচিনি দু-তিন টুকরা, লং দু-তিনটি, তেজপাতা একটি, পাঁচফোড়ন এক চা চামচ, শুকনা মরিচ তিন-চারটি, ঘি দুই টেবিল চামচ, চিনি স্বাদমতো, লবণ স্বাদমতো।

প্রস্তুত প্রণালি: সব সবজি আলাদা করে হলুদ ও লবণ মাখিয়ে ভেজে নিতে হবে। এবার পাতিলে তেল দিয়ে পাঁচফোড়ন, শুকনা মরিচ, এলাচ, দারুচিনি, লং ও তেজপাতার ফোড়ন দিতে হবে। ফোড়ন থেকে সুন্দর গন্ধ বের হলে ও মসলাগুলো হালকা বাদামি হলে ভেজে রাখা সবজিগুলো দিয়ে দিতে হবে। ভালো করে ঢেকে মৃদু আঁচে রান্না করতে হবে। পরিমাণমতো চিনি, আদা বাটা ও জিরা বাটা দিয়ে দিতে হবে। সবজিগুলো যখন সব মাখা মাখা হয়ে যাবে, সব মসলায় তখন ঘি দিয়ে নামিয়ে খিচুড়ির সঙ্গে পরিবেশন করতে হবে।

ভোগের খিচুড়ি

উপকরণ: সোনা মুগডাল একপোয়া, পোলাও চাল আধা কেজি, আদা বাটা এক চা চামচ, জিরা বাটা আধা চা চামচ, তেল ১/৪ কাপ, হলুদ এক চা চামচ, এলাচ তিন-চারটি, দারুচিনি দু-তিন টুকরা, লং তিন-চারটি, তেজপাতা দুটি, কাঁচামরিচ চার-পাঁচটি, ঘি দুই টেবিল চামচ, লবণ স্বাদমতো, গরম পানি ছয় কাপ।

প্রস্তুত প্রণালি: ডাল ভেজে সামান্য লবণ দিয়ে আধাসিদ্ধ করে নিতে হবে। এবার হাড়িতে তেল দিয়ে এলাচ, দারুচিনি, লং, তেজপাতা আর কাঁচামরিচের ফোড়ন দিতে হবে। সুন্দর গন্ধ বের হলে হলুদ আর পোলাও চাল দিয়ে ভালো করে ভাজতে হবে। ভাজা হয়ে গেলে ছয় পোয়া পানি, আগে আধাসিদ্ধ করে রাখা ডাল আর পরিমাণমতো লবণ দিয়ে দিতে হবে। ফুল আঁচ থাকবে এ সময়। বলক উঠলে আঁচ মাঝারি করে ঢেকে দিতে হবে। পানি শুকিয়ে এলে পাতিলের তলায় একটি ভারি তাওয়া দিতে হবে। এখন আদা বাটা, জিরা বাটা আর ঘি দিয়ে ১০ মিনিট দমে রাখতে হবে।

নারিকেল ডাল

উপকরণ: বুটের ডাল সিদ্ধ দুই কাপ, নারিকেল কোরা আধা কাপ, হলুদ ১/৪ চা চামচ, তেজপাতা দুটি, এলাচ দু-তিনটি, দারুচিনি দু-তিন টুকরা, ঘি দুই টেবিল চামচ, পাঁচফোড়ন আধা চা চামচ, শুকনা মরিচ দু-তিনটি, লবণ স্বাদমতো, চিনি স্বাদমতো, আদা বাটা আধা চা চামচ, জিরা বাটা ১/৪ চা চামচ, ধনেপাতা কুঁচি এক টেবিল চামচ।

প্রস্তুত প্রণালি: এক টেবিল চামচ ঘি গরম করে তাতে হলুদ, পাঁচফোড়ন, এলাচ, দারুচিনি, তেজপাতা এবং শুকনা মরিচের ফোড়ন দিতে হবে। ফোড়নের সুন্দর গন্ধ বের এবং বাদামি রং হলে সিদ্ধ করে রাখা বুটের ডাল ও নারিকেল দিয়ে দিতে হবে। এবার ডাল সামান্য ঘুঁটে এতে আদা বাটা, জিরা বাটা, ধনেপাতা, সামান্য চিনি আর অবশিষ্ট ঘি দিয়ে নামিয়ে ফেলতে হবে। গরম গরম লুচি, পরোটা বা পোলাওয়ের সঙ্গে পরিবেশন করতে হবে।

বেগুনি

উপকরণ: বেগুন পাতলা স্লাইস করে কাটা ১০-১২ টুকরা। বেসন এক কাপ, চালের গুঁড়া আধা কাপ, লবণ স্বাদমতো, তেল ভাজার জন্য পরিমাণমতো, হলুদ গুঁড়া আধা চা চামচ, মরিচ গুঁড়া আধা চা চামচ, জিরা গুঁড়া আধা চা চামচ, কালিজিরা ১/৪ চা চামচ।

প্রস্তুত প্রণালি: বেগুন পাতলা করে কেটে সামান্য হলুদ আর লবণ দিয়ে মাখিয়ে নিতে হবে। তেল ছাড়া বাকি উপকরণ খুব ভালো করে মেখে নিতে হবে। এবার এই গোলায় বেগুন চুবিয়ে ডুবো তেলে বাদামি করে ভেজে নিতে হবে।

শাহি পনির

উপকরণ: কটেজ পনির ২৫০ গ্রাম, কাজুবাদাম বাটা সাত-আটটি, কাঠ বাদাম বাটা সাত-আটটি, পোস্তদানা বাটা এক টেবিল চামচ, আখরোট বাটা চার-পাঁচটি, আদাবাটা এক চা চামচ, কিশমিশ সাত-আটটি, এলাচ দু-তিনটি, দারুচিনি দু-তিন টুকরা, তেজপাতা একটি, জাফরান এক চিমটি, ময়দা সামান্য, লবণ, চিনি স্বাদমতো, ভাজার জন্য তেল-ঘি আধা কাপ, দুধ এক মগ, কাঁচামরিচ চার-পাঁচটি।

প্রস্তুত প্রণালি: পনির চৌকোনা করে কেটে সামান্য ময়দা দিয়ে চোট করে নিতে হবে। ডুবো তেলে পনিরগুলো ভেজে নিতে হবে। কড়াইয়ে ঘি দিয়ে তেজপাতা, এলাচ, দারুচিনির ফোড়ন দিতে হবে। সুন্দর গন্ধ বের হলে বাটা মসলা অল্প দুধ দিয়ে ভালো করে কষাতে হবে। মসলার কাঁচা গন্ধ দূর হয়ে গেলে বাকি দুধ দিয়ে ফোটাতে হবে। দুধ ফুটে উঠলে ভাজা পনির আর কাঁচামরিচ দিতে হবে। দুধ শুকিয়ে ঘি পনিরের টুকরার ওপরে উঠলে জাফরান দিয়ে নামিয়ে গরম গরম পোলাও, লুচি ও পরোটার সঙ্গে পরিবেশন করতে হবে।


md Nayan  

42 Blog posts

Comments