কর্মক্ষেত্রে সাফল্যের উপায় জেনে নিন।সফলতার সহজ উপায়- পর্ব- ২

কর্মক্ষেত্রে সাফল্যের উপায় জেনে নিন।সফলতার সহজ উপায়- পর্ব- ২

Posted in Motivation.

বন্ধুরা আজকে আমি আপনাদের সাথে একটু ভিন্নরকম পোস্ট করতে যাচ্ছি, টাইটেল দেখেই হয়ত বুঝতে পারছেন আজকের বিষয় টি কি নিয়ে। বন্ধুরা, সফলতার সহজ উপায় আপনাদের সাথে শেয়ার করব ৬ টি পর্বে।এটি ২য় পর্ব। তাই অবশ্যই সবগুলো পোস্ট পরবেন, তাহলে আমি মনে করি আপনি নিজেকে একটু হলেও সংকীর্ণতা থেকে কাটিয়ে উঠতে পারবেন। এবং, অনেক ইন্সপায়ার্ড/মটিভেট হবেন। মনে রাখবেন, আপনার লাইফ আপনাকেই সাজিয়ে নিতে হবে, অন্য কেউ কিন্তু আপনার লাইফ সাজাতে পারবেনা।

কর্মক্ষেত্রে সাফল্যের উপায়

১. একটি প্রতিষ্ঠান অন্যদের ছেড়ে আমাকেই নেবে, কারণ:
এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে হফম্যান ইংরেজি একটি প্রবাদ স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, আপনি যদি সবকিছুতেই সবার চেয়ে সেরা হতে চান তাহলে আপনি কোন কিছুতেই সেরা কিংবা কারো থেকেই ভালো হতে পারবেন না। তাই চাকরি খোঁজার ক্ষেত্রে হফম্যানের পরামর্শ, পৃথিবীর সেরা প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় নির্বাহী হওয়ার চেষ্টা করবেন না বরং ছোট বা মাঝারি প্রতিষ্ঠানের সেরা বিক্রয় নির্বাহী হওয়ার চেষ্টা করুন এবং নিজের চেষ্টায় প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকুন।

২. নিজেকে খোঁজার দরকার নেই
মনোবিজ্ঞানী এবং মনস্তাত্ত্বিক বক্তারা সবসময়ই নিজেকে খোঁজার কথা বলে থাকেন। উৎসাহিত করার জন্য তারা ব্যক্তির ভেতরের গুনাবলীকে খুঁজে বের করে তা প্রয়োগের ওপর জোর দেন। কিন্তু হফম্যান এর বিপরীত কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, আপনার ভেতরে এমন কেউ নেই যাকে খুঁজে বের করে অনুপ্রেরণা নিতে হবে। তবে এটা ঠিক যে আপনার উচ্চাকাঙ্খাই আপনি কি করবেন তার পথ বাতলে দেবে। কিন্তু আপনার উচ্চাকাঙ্খা নির্ধারিত হবে আপনার কাজ এবং অভিজ্ঞতা দ্বারা। নিজেকে বদলে যাওয়া পৃথিবীর জন্য তৈরি করুন। আপনার পরিচিতি তৈরি করার কিছু নেই, তাকে বিস্তৃত করুন।

৩. এবিজেড পরিকল্পনা:
হফম্যানের মতে প্ল্যান এ হচ্ছে যেটা আপনি এখন করছেন। যখন আপনি আপনার লক্ষ্য পরিবর্তন করবেন তা বাস্তবায়নের পরিকল্পনা হচ্ছে প্ল্যান বি। আর প্ল্যান জেড হচ্ছে আপনার পিছু হটার পরিকল্পনা। হফম্যানের মতে, ব্যবসা কিংবা জীবনে আপনার উচিত সবসময়ই কাজ চালিয়ে যাওয়া। যদি ব্যর্থতার মানে হয় আপনার পথচলা শেষ তাহলে সেটা অগ্রহণযোগ্য ব্যর্থতা। প্ল্যান জেড কে হফম্যান তার নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা দ্বারা বর্ণনা করেছেন এভাবে, আমি যখন আমার প্রথম প্রতিষ্ঠানের কাজ শুরু করি তখন আমার বাবা বাড়ির একটি বাড়তি রুম আমার কাজের জন্য দিতে চাইলেন। সেখানে থেকে অন্য জায়গায় চাকরি খোঁজাটা ছিলো আমার প্ল্যান জেড। এই পরিকল্পনা আমাকে উদ্যোক্তা হিসেবে সাহসী করে তোলে। কারণ আমি জানতাম ব্যবসায় ক্ষতি হলে আমার সব সম্পত্তি চলে গেলেও মাথার ওপরে ছাদটা ঠিক থাকবে। তিনি বলেন, আপনার বয়স যদি বিশের কোটায় হয় এবং আপনি যদি একা হন তাহলে বাইরে কাজ করুন এবং বাবা-মার সাথে থাকুন। এটাই আপনার প্ল্যান জেড। কিন্তু আপনার বয়স যদি ত্রিশ কিংবা চল্লিশের কোটায় হয় তাহলে আপনার বাচ্চাদের ভবিষ্যত চিন্তা করে আপনার প্ল্যান জেড হবে সঞ্চয় বাড়ানো।

৪. প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে সুসম্পর্ক গড়ে তুলুন
হফম্যান পুরোনো দিনের চিন্তাভাবনাকারীদের সাথে স্পষ্ট একটি পার্থক্য করে দিয়েছেন। তার মতে যারা অন্যদের কাছ থেকে কি পাওয়া যাবে এই চিন্তা করে যোগাযোগ বাড়ায় তাদের কৌশল পুরোনো এবং অকার্যকর হয়ে গিয়েছে। তার বদলে সবার সাথে যোগাযোগ না বাড়িয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে সুসম্পর্ক তৈরি করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। কারণ এতে দীর্ঘস্থায়ী সাফল্য পাওয়া যাবে।

৫. সম্পর্কগুলোকে মজার করে তুলুন
হফম্যান বলেছেন শুধু যোগাযোগ বাড়ানোটা এখন ব্যর্থ কৌশল। কারন বেশিরভাগই মানুষই এধরনের গায়ে পড়ে যোগাযোগ করাটা পছন্দ করেন না বরং বিরক্ত হন। তাই তথাকথিত যোগাযোগ না বাড়িয়ে কাজের বাইরেও ব্যক্তিগত সুসম্পর্ক গড়ে তুলুন। সেটা হতে পারে জীবনের মজার অভিজ্ঞতাগুলো ভাগাভাগি করার মাধ্যমে। তার মানে এই নয় যে আপনাকে সারাক্ষণ বাইরে সময় কাটাতে হবে, সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে নিজের ব্যক্তিত্ব এবং বুদ্ধিমত্তাকে ব্যবহার করুন।

৬. পেশাগত বৃত্ত বড় করুন
যদিও ডানবারের সংখ্যাতত্ত্বে বলা হয়েছে আপনার মস্তিষ্ক একসাথে দেড়শো জনের বেশি মানুষকে একসাথে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেনা তবে হফম্যান এই তত্ত্বকে একটু বিস্তৃতভাবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, আপনার পেশাগত পরিচিত বৃত্ত যতো বড় হবে আপনার জন্য সেটা তত মঙ্গলজনক।

৭. সুযোগের অপেক্ষায় থাকুন
হফম্যানের মতে সবসময় কাজ করে গেলে সাফল্য আসবে সেটা অবশ্যম্ভাবী নয় বরং সুযোগের সদ্ব্যবহার করাটাও জানতে হবে এবং সুযোগের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। চারপাশে প্রতিদিন কি ঘটছে তার প্রতিনিয়ত খোঁজ খবর রাখার অভ্যাস গড়ে তুলুন। দেখবেন এসব অভ্যাস আপনার ভাগ্য গড়ে দিয়েছে।

৮. প্রাণোচ্ছল থাকুন
সবাই আপনার চিন্তাভাবনাকে গুরুত্ব দেবে না বা উৎসাহিত করবে না। কিন্তু আপনি যদি সত্যিকারভাবে আত্মবিশ্বাসী হন তাহলে আপনাকে অনেক দুর্দশা সহ্য করতে হবে। এই প্রসঙ্গে হফম্যান প্যানডোরা মিডিয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। টিম ওয়েস্ট্রেজেন ১৯৯৯ সাল থেকে প্যানডোরার ধারণা নিয়ে কাজ শুরু করেন। কিন্তু ২০০২ সালের শেষ দিকে প্রতিষ্ঠানটির অবস্থা এতোই খারাপ হয়ে পড়ে যে টিম একদিন অফিসে এসে উচ্ছেদের নোটিশ দেখতে পান। ২০০৩ সালে চার জন সাবেক কর্মী বকেয়া বেতনের দাবিতে মামলা করে বসেন তার বিরুদ্ধে। পরের এক বছর তিনি কমপক্ষে ৩০০ বার বিনিয়োগকারীদের কাছে আইডিয়া নিয়ে ধরণা দেন। আজ প্রায় দশ বছর যাবৎ প্যানডোরা মামলা মোকদ্দমা, আইনী নোটিশ এবং দেউলিয়াত্বের হুমকির মুখে আছে। কিন্তু এখনো টিম এবং তার সাঙ্গপাঙ্গরা প্যানডোরা নিয়েই পড়ে আছেন।

অতএব পথ চলতে থাকুন, নিজের ওপর বিশ্বাস রাখুন এবং যোগাযোগের ক্ষেত্রে কৌশলী হয়ে উঠুন। সাফল্যর সাথে দেখা হতে হয়তো খুব বেশি সময় লাগবে না।

পুর্ববর্তী পার্টঃব্যক্তিগত জীবনে সাফল্যের উপায়

কষ্টের ফেরিওয়া Articles

Recent

Recent Articles From: কষ্টের ফেরিওয়া

Popular

Popular Articles From: কষ্টের ফেরিওয়া